ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট খোলা
Halal and Haram · Hanafi
Question
তাতে টাকা রাখা এবং জমানো যাবে কিনা?
Answer
উত্তর
ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা মূলত সুদ (রিবা) মুক্ত লেনদেনের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আপনি যদি সত্যিকার অর্থে শরিয়াহ-সম্মত ইসলামী ব্যাংকে সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলার কথা বলেন, তাহলে হানাফী ফিকহ অনুযায়ী এর বিধান নির্ভর করে ব্যাংকটির কার্যপদ্ধতি কতটুকু শরিয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে তার ওপর।
প্রধান নীতিমালা:
-
সুদ (রিবা) থেকে দূরে থাকা:
ইসলামী ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্ট সাধারণত মুদারাবা (Mudarabah) চুক্তির ভিত্তিতে চলে। এখানে আমানতকারী (রাব্বুল মাল) ও ব্যাংক (মুদারিব) এর মধ্যে একটি অংশীদারিত্ব স্থাপিত হয়, এবং লাভ-ক্ষতি উভয়ই ভাগ করা হয়। যদি ব্যাংকটি প্রকৃতপক্ষে কোনো নির্দিষ্ট মুনাফার গ্যারান্টি বা নির্ধারিত হারে লাভ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি না দেয়, তবে এটি সুদের আওতাভুক্ত হয় না এবং জায়েয বলে গণ্য হয়। (সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী, জবাব নং ১৯৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৮৬) -
প্রকৃত ইসলামী ব্যাংকের শর্ত:
- ব্যাংকের সমস্ত লেনদেন সুদমুক্ত এবং শরিয়াহ-সম্মত হতে হবে।
- আমানতকারীর টাকা এমন কোনো খাতে বিনিয়োগ করা যাবে না যা হারাম (যেমন: সুদী বন্ড, মদ, শূকর ইত্যাদি)।
- মুনাফা বণ্টনের পদ্ধতি স্বচ্ছ এবং শরিয়াহ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতে হবে।
এসব শর্ত পূরণ করলে এই অ্যাকাউন্ট খোলা এবং তাতে টাকা রাখা ও জমানো জায়েয হবে।
(সূত্র: মাআরিফুল কুরআন, মুফতি মুহাম্মদ শফী, ২/৪২; আল-হিদায়া, ৩/১৫২) -
সতর্কতা:
বর্তমানে অনেক ব্যাংক “ইসলামী ব্যাংক” নামে পরিচালিত হলেও তাদের কার্যপদ্ধতি পুরোপুরি শরিয়াহসম্মত নয়। যেমন:- কিছু ব্যাংক সুদী সূচক (LIBOR বা অনুরূপ) এর সাথে মুনাফা বেঁধে দেয়, যা রিবা-র সাদৃশ্যপূর্ণ।
- অথবা আমানতকারীকে কোনো না কোনোভাবে নির্ধারিত রিটার্নের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।
এমতাবস্থায়, সেই ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলা এবং তাতে অর্থ জমা রাখা নাজায়েয হতে পারে।
(সূত্র: ফাতাওয়া আলমগীরী, ৩/২১৫; শরহু মাআনিল আসার, ৪/২৭)
বিশেষ দিকনির্দেশনা (হানাফী ফিকহ অনুযায়ী):
-
মুফতি তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন:
“যদি ব্যাংক সত্যিই মুদারাবা নীতিতে চলে এবং কোনো নির্ধারিত মুনাফার গ্যারান্টি না দেয়, তবে সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলা জায়েয। তবে ব্যাংক যদি সুদী ভিত্তিক কোনও বিনিয়োগ করে বা লাভের হার সুদের সাথে সম্পর্কিত রাখে তাহলে তা হারাম।”
(সূত্র: ইসলামী ব্যাংকিং ও সুদ, পৃষ্ঠা ৪২; ফাতাওয়া উসমানী, জবাব নং ১৯২) -
ইবনে আবেদীন (রহ.) তার রদ্দুল মুহতার (৪/১৯১)-এ উল্লেখ করেছেন:
“যেকোনো লেনদেন যাতে নির্ধারিত মুনাফা বা শর্তযুক্ত সুদ থাকে, তা রিবা।”
– তাই ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে গ্যারান্টিকৃত মুনাফা না থাকলে তা জায়েয।
আপনার জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ:
- প্রথমে নিশ্চিত হোন যে ব্যাংকটি একটি স্বীকৃত শরিয়াহ বোর্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে (যেমন: বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক প্রভৃতি)।
- অ্যাকাউন্ট খোলার সময় জেনে নিন যে সেভিংস অ্যাকাউন্টটি মুদারাবা ভিত্তিক নাকি আমানাহ ভিত্তিক (যেখানে কোনো লাভ নেই)।
- মুদারাবা ভিত্তিক হলে তা জায়েয।
- যদি কোনো লাভের প্রতিশ্রুতি না থাকে এবং শুধু নিরাপদ রাখার জন্য হয় (চালতি অ্যাকাউন্টের মতো), তবে তাও জায়েয।
- যদি ব্যাংকের মুনাফা নির্ধারণে সুদী সূচকের ব্যবহার হয়, তবে সেই অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে বিরত থাকা উত্তম।
সারসংক্ষেপ:
বর্তমান সময়ে বাসায় টাকা-পয়সা রাখা অনেকটা অনিরাপদ। অন্যদিকে সুদ হারাম,এবং সুদী কাজে সাহায্য করাও হারাম।
,
তাই বলা যায় যে, ব্যাংকে সেভিংস একাউন্টে টাকা রাখা যাবে না। কেননা তখন ব্যাংক কর্তৃত আইনগতভাবে উক্ত টাকা সুদী কারবারে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
যদিও ব্যাংক চাহিবামাত্র গ্রাহককে উক্ত টাকা দিতে বাধ্য থাকে।
এজন্যই উলামায়ে কেরাম পরামর্শ দেন যে,উক্ত ব্যাংক সমূহে কারেন্ট একাউন্ট খুলে টাকা রাখতে হবে। কেননা কারেন্ট একাউন্টের টাকা আইনগতভাবে ব্যাংক ব্যবহার করতে পারেনা। , যদি কোনো কারণে ঐ সব ব্যাংক সমূহে কারেন্ট একাউন্ট খোলা দুস্কর হয়ে যায়, তাহলে সুদ গ্রহণ না করার শর্তে তাতে সেভিংস একাউন্ট খুলে টাকা রাখা যাবে। উলামায়ে কেরাম এ অনুমোদন দিয়েছেন।
★আপনি ইসলামী ব্যাংক গুলোর কোনো একটিতে কারেন্ট একাউন্ট খুলবেন। যদি কারেন্ট একাউন্ট খোলা সম্ভব না হয়, তাহলে বাধ্য হলে সেভিংস একাউন্টও জায়েজ আছে। তবে তার মুনাফাটি সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করে দিবেন।
فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ [٢:١٧٣
অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু। (সূরা বাকারা-১৭৩) , মুনাফা গ্রহন করবেননা, উক্ত মুনাফা উত্তোলন করে তাহা সতর্কতা মূলক মুনাফা গরিব মিসকিনদের মাঝে ছওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করে দিবেন।
আল্লাহু আলাম (সর্বজ্ঞ)।