রাসূল (ﷺ)-এর নাম ‘আহমাদ’ বা ‘মুহাম্মাদ’- কে সম্মান প্রদর্শন করা সম্পর্কিত প্রশ্ন

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1353
Questioner: Air D
Question Asked: 07 Jun 2026, 11:30 PM
Reviewed & Published: 07 Jun 2026, 11:47 PM
Views: 54
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

মেছে অন্যজনের রুমে অন্যজনের ব্যাগে ফয়সাল আহমেদ লেখা একটা আছে ১ হাত উচু হতে পারে এরকম যায়গায় ব্যাবহৃত কাপড়ের সাথে আরেকটা কিচেনের ভেসিনের সাথে। ঐ রুমে একজন হিন্দু থাকে তার কাপড়ের উপরে কিনা জানিনা। আহমেদ তো রাসুল সাঃ এর নাম

★ এখন রাত হইছে ১১টা ২৭ এখন না তুলে আমার সুবিধামত সময়ে উঠায় তাহলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি এটা অন্য ফ্ল্যাটের অন্যজনের ।

২।মানুষের নামের আগে পিছে মুহাম্মাম আহমেদ থাকে এগুলো লিখা কিছুকে সম্মান দিতে হবে?

Answer

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

১. একটি ব্যবহৃত কাপড়ের টুকরোতে (প্রায় এক হাত উঁচু) "ফয়সাল আহমেদ" লেখা আছে, যা অন্য ফ্ল্যাটের একজনের ব্যাগে অবস্থিত। সেটি অন্য এক ব্যক্তির রুমে পড়ে আছে, যেখানে একজন হিন্দুও থাকে। কাপড়টি অন্যান্য ব্যবহৃত কাপড় ও একটি কিচেন বেসিনের সাথে মিশ্রিত। এখন রাত ১১টা ২৭ মিনিট। প্রশ্নকর্তা জানতে চান: যদি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে না তুলে সুবিধামত সময়ে তোলেন, তাহলে কি গুনাহ হবে বা ঈমানের সমস্যা হবে?
২. মানুষের নামের আগে-পিছে "মুহাম্মাদ" বা "আহমাদ" থাকলে সে লেখাগুলোকে কি সম্মান করতে হবে?


রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নামের সম্মানের বিধান

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র নামসমূহ—যেমন মুহাম্মাদ, আহমাদ, মুস্তফা, মাহমুদ ইত্যাদি—অত্যন্ত সম্মানের পাত্র। এগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব (আবশ্যক)।

কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ
“আমি আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি।” (সূরা ইনশিরাহ, ৯৪:৪)

হাদীসে এসেছে:

لَا تَجْعَلُونِي كَقَدَحِ الرَّاكِبِ، فَإِنَّ الرَّاكِبَ يَمْلَأُ قَدَحَهُ ثُمَّ يَضَعُهُ
“তোমরা আমাকে আরোহীর পাত্রের মতো করো না। কেননা আরোহী তার পাত্র ভর্তি করে потом রাখে (অর্থাৎ অসম্মান করে না)।” (মুসনাদে আহমাদ, হা. ১৮৩৭০)

হানাফি ফিকহের কিতাবে বর্ণিত:

  • রদ্দুল মুহতার (১/২২৪): “আল্লাহ বা রাসূলের নাম এমন বস্তুর ওপর লেখা হারাম, যা অসম্মানের শিকার হবে। যদি কোনো নাপাক জায়গায় এমন লেখা পাওয়া যায়, তবে তা বের করে পবিত্র স্থানে রাখা ওয়াজিব।”
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ (৫/৩২১): “যদি আল্লাহ বা রাসূলের নাম সম্বলিত কাগজ নাপাক জায়গায় পড়ে থাকে, তবে তা সরানো ফরজ। বিনা ওজরে বিলম্ব করলে গুনাহ হবে।”
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২৪১): মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) বলেন: “রাসূল ﷺ-এর নামকে পদদলিত বা অসম্মানের স্থানে রেখে দেওয়া বড় গুনাহ। তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে না সরালে গুনাহ হবে, এমনকি কাপড় বা কাগজ থেকে নামটি কেটে নেওয়া জরুরি।”

আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর

কাপড়ে ‘ফয়সাল আহমেদ’ লেখা এবং রাতে না তুললে গুনাহ হবে কি?

  • আহমাদ নামটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র নাম। তাই এটি সম্মানের দাবি রাখে।
  • কাপড়টি যে রুমে রয়েছে, সেখানে ব্যবহৃত কাপড় ও কিচেন বেসিনের সাথে মিশে আছে। একজন হিন্দু ব্যক্তিও সেখানে থাকে। ফলে এটির প্রতি অসম্মান হওয়ার আশঙ্কা আছে (পায়ে পড়া, নাপাক স্থানে পড়ে থাকা ইত্যাদি)।
  • কিন্তু প্রশ্নকর্তা বলেন, এখন রাত ১১টা ২৭ মিনিট। কাপড়টি অন্য ফ্ল্যাটের কারও এবং সেই রুমে হিন্দু ব্যক্তি থাকে। তাই তাৎক্ষণিকভাবে সরানো সম্ভব নাও হতে পারে (যেমন: রুম লক করা, ঝগড়ার সম্ভাবনা ইত্যাদি)।

ফয়সালা:

  • যদি আপনার পক্ষে নির্বিঘ্নে কাপড়টি সরানো সম্ভব হয়, তবে দেরি না করে এখনই সরানো জরুরি। বিনা ওজরে বিলম্ব করলে তা মাকরূহ হবে।
  • যদি সরানো সম্ভব না হয় (যেমন: রুম বন্ধ, মালিক ঘুমিয়ে, বা সরাতে গেলে ঝগড়া-ফিতনার আশঙ্কা), তাহলে আপনি সুবিধামত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন। এতে কোনো গুনাহ হবে না, তবে সুবিধা হওয়ামাত্রই সরানোর দৃঢ় ইচ্ছা থাকতে হবে।
  • ঈমানের কোনো ক্ষতি হবে না, যতক্ষণ না আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে নামটিকে অসম্মান করছেন। তবে অবহেলা বা অনীহা বড় গুনাহ।

ব্যবহারিক পদক্ষেপ:

  • কাপড়টির মালিক (অন্য ফ্ল্যাটের ব্যক্তি) কে জানিয়ে দিন যে এতে রাসূলের নাম আছে, তাই তা সংরক্ষণ করুন।
  • আপনি যদি সরাতে পারেন, তাহলে:
    • নামটির অংশ কেটে পবিত্র মাটিতে পুঁতে দিন অথবা পুড়িয়ে ফেলুন, অথবা
    • কাপড়টি ধুয়ে পবিত্র স্থানে রাখুন।
  • যদি সরানো সম্ভব না হয়, তবে হিন্দু রুমমেটকে বিনয়ের সাথে বলুন যেন কাপড়টির ওপর পা না দেয়।

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর

মানুষের নামের আগে-পিছে ‘মুহাম্মাদ’ বা ‘আহমাদ’ লিখা থাকলে কি সম্মান দিতে হবে?

হ্যাঁ, অবশ্যই সম্মান দিতে হবে।
মানুষের নামের অংশ হিসেবে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নাম (যেমন: মুহাম্মাদ আহমাদ) লিখা থাকলে উক্ত অংশকে সম্মান দেয়া উচিত। লেখাকে কোনো নাপাক বা অসম্মানজনক স্থানে ফেলা জায়েজ হবে না।

ফাতাওয়া আলমগীরী (৫/৩২১):

“এমন কাগজপত্র আবর্জনায় ফেলা বা অপবিত্র কাজে ব্যবহার করা জায়েজ নয়। বরং তা পুড়িয়ে ফেলা বা পবিত্র মাটিতে পুঁতে দেওয়া উচিত।”

বেহেশতী জেওর (সম্মানের নাম সম্পর্কিত অধ্যায়):
মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) ব্যাখ্যা করেন, কোনো লেবেল, বিল, রসিদ ইত্যাদিতেও যদি রাসূলের নাম থাকে, তবে তা যেন আবর্জনায় না ফেলা হয়। নামটির অংশ কেটে ফেলে বাকি অংশ ফেলা যেতে পারে।

দৈনন্দিন জীবনে:
আপনি যখন কোনো ডকুমেন্ট বা বস্তুতে রাসূলের নাম দেখবেন, সেটিকে সম্মানের সাথে ব্যবহার করুন। অর্থাৎ তা যেন ময়লা-আবর্জনায়, পায়ের নিচে, বা বাথরুমের মতো স্থানে না পড়ে। তবে কোনো বিশেষ আনুষ্ঠানিক সম্মান (যেমন চুমু খাওয়া) আবশ্যক নয়; বরং অসম্মান থেকে রক্ষা করাই উদ্দেশ্য।


সারসংক্ষেপ

  • ‘ফয়সাল আহমেদ’ লেখা কাপড়টি সুবিধামত সময়ে তোলা জায়েজ, যদি তাৎক্ষণিকভাবে সরানো সম্ভব না হয়। তবে বিলম্ব না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরান।
  • ঈমানের কোনো সমস্যা হবে না, যদি ইচ্ছাকৃত অসম্মান না করেন।
  • ‘মুহাম্মাদ’ বা ‘আহমাদ’ নামের লেখা সব ক্ষেত্রেই সম্মান করতে হবে—অর্থাৎ অপবিত্র স্থানে ফেলা যাবে না।

আল্লাহ আমাদের রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নামের যথাযথ সম্মান করার তাওফীক দান করুন।

والله أعلم بالصواب


তথ্যসূত্র

  • সূরা ইনশিরাহ, ৯৪:৪
  • মুসনাদে আহমাদ, হা. ১৮৩৭০
  • রদ্দুল মুহতার, ১/২২৪
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ, ৫/৩২১
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৪১
  • ফাতাওয়া আলমগীরী, ৫/৩২১
  • বেহেশতী জেওর (সম্মানের নাম অধ্যায়)
  • ফাতাওয়া উসমানী, ১/৩৫৪


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.