আযানের সময় পেশাব-পায়খানা করা কি গুনাহ? যিনি আযান দেবেন তিনিই কি ইকামত দেবেন?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
২। যিনি আজান দিবেন তিনিই কি এক্বামত দিবেন না অন্য কেউ দিলে হবে
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
১. আযানের সময় পেশাব-পায়খানা করা কি গুনাহ?
আযানের সময় পেশাব-পায়খানা করা কোনো গুনাহ নয়, বরং এটি মানবিক প্রয়োজন। তবে আদব হলো: আযানের শব্দ শোনার সময় অন্যান্য কাজ বন্ধ রেখে মনোযোগ সহকারে আযান শোনা এবং মুয়াজ্জিনের জবাব দেওয়া। কিন্তু যদি চাপ থাকে তাহলে প্রথমে পেশাব-পায়খানা সেরে নেওয়া জায়েয, কারণ শারীরিক চাপ নিয়ে নামায বা ইবাদতে মনোযোগ আসে না। হাদীসে এসেছে, “যখন তোমাদের কারো খাবার পরিবেশন করা হয় অথবা পেশাব-পায়খানার চাপ থাকে, তখন সে যেন নামায শুরু না করে।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৫৫৯)
এখানে আযানের সময় প্রস্রাব করলে গুনাহ হবে—এমন কোনো কঠোরতা ইসলামে নেই। তবে আযান শোনার পর যদি সময় থাকে এবং চাপ না থাকে, তাহলে আযানের জবাব দেওয়া উত্তম।
হানাফী ফিকহের কিতাবাদিতে এসেছে: আযানের সময় কথা বলা বা কাজ করা মাকরূহ হলেও পেশাব-পায়খানার মতো জরুরি প্রয়োজনে তা মাকরূহ নয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৫৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৫৮)
২. যিনি আযান দেবেন তিনিই কি ইকামত দেবেন, নাকি অন্য কেউ দিলেও হবে?
হানাফী মাযহাবে সুন্নত হলো: যে ব্যক্তি আযান দেবে, সে-ই ইকামত দেবে। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে আযান দেয়, সে-ই ইকামত দেবে।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ৫১৪; তিরমিযী, হাদীস: ১৯৮)
তবে কেউ যদি ইকামত দেওয়ার অনুমতি নিয়ে থাকে বা মুয়াজ্জিন ইকামত দেওয়ার সময় উপস্থিত না থাকে, তাহলে অন্য ব্যক্তি ইকামত দিলেও তা সহিহ এবং জায়েয। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে ইকামতের জন্য আযানের মতো একই ব্যক্তি হওয়া শর্ত নয়, তবে মুস্তাহাব। (আল-হিদায়া, ১/৪২; রদ্দুল মুহতার, ১/২৫৬; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৫৯)
সুতরাং, ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কেউ ইকামত দিলে নামায আদায় হবে, কিন্তু সুন্নতের বিপরীত কাজ হবে। তাই সুন্নত অনুযায়ী একই ব্যক্তির পক্ষে আযান ও ইকামত দেওয়া উচিত।
উপসংহার:
- আযানের সময় পেশাব-পায়খানা করলে গুনাহ নয়, তবে প্রয়োজন না থাকলে আযান শোনা ও জবাব দেওয়া উত্তম।
- একই ব্যক্তি আযান ও ইকামত দেওয়া সুন্নত; অন্য কেউ দিলেও নামায সহিহ হবে।
আল্লাহু আলম।