নিজের জন্য মুসলিম সাম্রাজ্যের জার্সি বানানো জায়েজ কিনা?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 1541
Questioner: Entishar Rashid Chowdhury
Question Asked: 12 Jun 2026, 02:55 PM
Reviewed & Published: 12 Jun 2026, 03:05 PM
Views: 105
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার ইচ্ছা, নিজের জন্য মুসলিম সাম্রাজ্য (যেমন, অটোমান, সেলজুক)-দের জার্সি বানানো। এটা জায়েজ হবে?

Answer

জার্সি সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন: আমার ইচ্ছা, নিজের জন্য মুসলিম সাম্রাজ্য (যেমন, অটোমান, সেলজুক)-দের জার্সি বানানো। এটা জায়েজ হবে?

উত্তর: আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক নীতি রয়েছে। নিজের জন্য মুসলিম সাম্রাজ্যের (যেমন উসমানীয়, সেলজুক) জার্সি তৈরি করা জায়েজ কিনা, তা নিম্নলিখিত শর্তসাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।

মূলনীতি ও বিধান

১. ছবি ও মূর্তি নিষিদ্ধ: হানাফী ফিকহের মতে, যে পোশাকে প্রাণীর ছবি বা মূর্তি থাকে তা পরা নিষিদ্ধ (হারাম)। যদি জার্সিতে কোনো প্রাণী বা মানুষের ছবি না থাকে (যেমন শুধু পতাকা, ক্যালিগ্রাফি, নকশা) তাহলে তা ছবির বিধানের আওতায় পড়বে না। তবে যদি পতাকায় কোনো প্রাণীর ছবি থাকে (যেমন অনেক দেশের পতাকায় সিংহ, ঈগল ইত্যাদি থাকে), তা হলে তা জায়েজ হবে না।

২. অমুসলিমদের অনুকরণ: ইসলাম অমুসলিমদের বিশেষ পোশাক বা প্রতীক অনুকরণ করতে নিষেধ করে। কিন্তু মুসলিম সাম্রাজ্যের জার্সি বানানো অমুসলিমদের অনুকরণ নয়, বরং নিজেদের ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ। তবে যদি সেই জার্সির ডিজাইন কোনো নির্দিষ্ট অমুসলিম সম্প্রদায়ের পোশাকের মতো হয়, তা হলে তা জায়েজ নয়।

৩. অহংকার ও গোত্রপ্রীতি: ইসলাম অহংকার ও গোত্রপ্রীতি (আসাবিয়্যাহ) নিষিদ্ধ করেছে। যদি জার্সি পরার উদ্দেশ্য হয় অহংকার করা, অন্যদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা, বা জাতীয়তাবাদী মনোভাব পোষণ করা, তবে তা জায়েজ হবে না। কিন্তু যদি উদ্দেশ্য হয় মুসলিম ইতিহাসের প্রতি ভালোবাসা ও স্মরণ, তাহলে তা দোষণীয় নয়।

৪. পোশাকের সাধারণ শর্তাবলী: জার্সিটি অবশ্যই শরীয়তের পোশাকের শর্ত পূরণ করতে হবে—যেমন পুরুষদের জন্য নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা, মহিলাদের জন্য পূর্ণ পর্দা ইত্যাদি। জার্সিটি যদি টাইট-ফিট বা স্বচ্ছ হয়, তা হলে তা জায়েজ নয়।

হানাফী গ্রন্থের দলীল

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): পোশাকে প্রাণীর ছবি সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ও তাঁর শিষ্যগণ পোশাকে ছবি রাখাকে (যদি সায়া (shadow) হয় বা মাথা কাটা না হয়) হারাম বলেছেন। তবে নিষ্প্রাণ বস্তু (যেমন গাছ, পাহাড়, ক্যালিগ্রাফি) জায়েজ। (রদ্দুল মুহতার, ১/৬১৭, ৬/৪১৭)
  • ফতোওয়া উসমানী: এতে অনুরূপ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে যে কোনো পোশাক যদি অশ্লীলতা, অহংকার বা নিষিদ্ধ ছবি থেকে মুক্ত হয়, তবে তা জায়েজ। (ফতোওয়া উসমানী, ২০/৫২৫)
  • বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী): পোশাকের ক্ষেত্রে সরলতা, লজ্জা ও শরীয়তের সীমা রক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। (বেহেশতী জেওর, ১ম খণ্ড, পোশাক অধ্যায়)

পরামর্শ

আপনার উদ্দেশ্য যদি শুধু নিজের জন্য ঐতিহাসিক ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়, এবং জার্সিতে কোনো নিষিদ্ধ ছবি বা অশ্লীলতা না থাকে, তাহলে তা জায়েজ। তবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি:

  • জার্সিতে প্রাণী বা মানুষের ছবি না থাকা।
  • জার্সি পরিধানের মাধ্যমে অহংকার বা গোত্রপ্রীতি না করা।
  • পোশাক শরীয়তের পর্দার শর্ত পূরণ করা (পুরুষের জন্য নাভি-হাঁটু আবৃত, মহিলার জন্য পূর্ণ পর্দা)।
  • জার্সি তৈরি ও পরার সময় ইসলামী আদব বজায় রাখা।

সারসংক্ষেপ: যদি উপরোক্ত শর্তগুলো পালন করা হয়, তাহলে নিজের জন্য মুসলিম সাম্রাজ্যের জার্সি তৈরি করা ও পরা জায়েজ। তবে উত্তম হলো আরও সতর্কতা অবলম্বন করা এবং এমন ডিজাইন বেছে নেওয়া যা বিতর্কমুক্ত।

আল্লাহু আলাম (আল্লাহই অধিক জ্ঞাত)।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.