বাবা ইসলামী ব্যাংক থেকে HPSM লোন নিয়ে বাড়ি করলে, তার প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে কি পিতার কাছ থেকে জীবনধারণের টাকা নিতে পারবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 1341
Questioner: Shaikh Farhan Anzum
Question Asked: 07 Jun 2026, 04:21 PM
Reviewed & Published: 07 Jun 2026, 04:25 PM
Views: 50
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার বাবা ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করতেন। এখন অবসরে। সেখান থেকে HPSM পদ্ধতিতে লোন নিয়ে বাড়ি করেছেন। এখন বাড়ি থেকে যে আয় হয় সেইটাই আমাদের আয়ের উৎস। আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে। আমার কোনো ইনকাম নেই। এখন আমার প্রশ্ন হলো, ইসলামী ব্যাংকগুলো নিয়ে আপত্তি অনেকেরই আছে। এমতাবস্থায় আমি আমার বাবা থেকে জীবনধারণ এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক টাকা পয়সা, খরচাপাতি সব নিয়ে থাকি। এখন আমার জন্য আমার বাবা থেকে টাকা পয়সা নেয়ার শরয়ী বিধান কী?

Answer

উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তর

আপনার বাবা ইসলামী ব্যাংক থেকে HPSM পদ্ধতিতে ঋণ নিয়ে বাড়ি তৈরি করেছেন এবং বর্তমানে সেই বাড়ি থেকে আয় হচ্ছে—এটি একটি জটিল বিষয়। তবে আপনার জন্য (প্রাপ্তবয়স্ক, অ-উপার্জনশীল ছেলে) আপনার বাবার থেকে জীবনধারণের জন্য টাকা-পয়সা নেওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ। কারণ পিতার ওপর সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব রয়েছে, বিশেষত যখন সন্তানের নিজের কোনো আয় না থাকে। পিতার উপার্জনের উৎস যদি সম্পূর্ণ হালাল না-ও হয়, তবুও আপনি তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রয়োজনীয় খরচ নিতে পারেন। তবে আপনার উচিত হবে নিজে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা এবং পিতাকে ইসলামী শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে জীবনযাপনের পরামর্শ দেওয়া।


বিস্তারিত উত্তর

১. ইসলামী ব্যাংক ও HPSM পদ্ধতি নিয়ে সতর্কতা

বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকগুলোর অধিকাংশ লেনদেনই পূর্ণ শরীয়াহসম্মত নয় বলে অনেক বড় বড় আলেম ও ফকীহ মত দিয়েছেন। বিশেষত HPSM (Home Purchase Shirkat Mutanaqisah) পদ্ধতিতে অনেক ত্রুটি রয়েছে। ফলে আপনার বাবার এই ঋণ নেওয়া গুনাহের কাজ হয়েছে। তবে এটি আপনার নিজের গুনাহ নয় এবং আপনার ওপর পিতার গুনাহের বোঝা চাপানো হবে না। (সূরা আন'আম ৬:১৬৪)

২. পিতার ওপর সন্তানের ভরণপোষণের বিধান

হানাফী ফিকহ অনুসারে, পিতার ওপর তার অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অসহায় সন্তানের ভরণপোষণ দেওয়া ওয়াজিব। যদি সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হয় কিন্তু উপার্জনে অক্ষম বা উপার্জন না থাকে, তাহলেও তার ভরণপোষণ পিতার ওপর ফরজ। (রদ্দুল মুহতার, ৩য় খণ্ড, নাফাকা অধ্যায়)

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أطعمه من طعامك، واكسه من كسوتك» (مشكاة المصابيح)

অর্থ: ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “(পিতা তার সন্তানকে) তোমার খাদ্য থেকে খাওয়াও এবং তোমার পোশাক থেকে পরাও।”

৩. পিতার মিশ্র আয় থেকে সন্তানের জন্য গ্রহণযোগ্যতা

আপনার বাবার বর্তমান আয় (বাড়িভাড়া) সেই বাড়ি থেকে আসে, যে বাড়ি ঋণের টাকায় নির্মিত। ঋণের টাকা যদি সুদযুক্ত হয়, তবে পুরো সম্পদই মিশ্র (halal-haram mixed) হয়ে যায়। এমন অবস্থায় আপনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত না নিয়ে শুধু জীবনধারণের প্রয়োজনীয় টাকা নিতে পারেন। এতে আপনার কোনো গুনাহ হবে না, কারণ আপনি নিজে সুদের লেনদেনে জড়িত নন এবং আপনার পিতার সম্পদ থেকে নেওয়াটা তার দায়িত্বের অংশ।

ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতে, পিতার সম্পদে যদি হারাম মিশ্রিত থাকে, তবুও সন্তানের জন্য প্রয়োজন পরিমাণ গ্রহণ করা জায়েজ, তবে অপচয় ও বিলাসিতা থেকে বিরত থাকতে হবে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, ৫ম খণ্ড)

৪. আপনার জন্য করণীয়

  • আপনার নিজের উপার্জনের চেষ্টা করুন: প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও উপার্জন না থাকাটা শরীয়তে উৎসাহিত নয়। নিজে হালাল পেশায় আয়ের চেষ্টা করা আপনার জন্য উত্তম।
  • পিতাকে নসীহত করুন: পিতার উচিত শরীয়তসম্মত পথে তওবা করা এবং ভবিষ্যতে সুদী লেনদেন থেকে দূরে থাকা। তবে আপনি তাকে সম্মানের সাথে বুঝানোর চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু পিতার সাথে বেআদবী করা যাবে না।
  • বাড়ি এবং আয়ের ব্যাপারে সাবধানতা: যদি কখনো আপনি নিজে ওই বাড়ির মালিক হন বা ভাড়া থেকে উপকৃত হন, তবে তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি যা দেন তা নেওয়া আপনার জন্য জায়েজ।

৫. গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া

ফতোয়ায়ে উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী দা.বা.)-তে এসেছে: “পিতা যদি স্পষ্ট হারাম পন্থায় উপার্জন করে এবং তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় (যেমন সুদী ব্যাংকের চাকরি বা সুদী লেনদেনের টাকা), তাহলে সন্তানের জন্য তার থেকে জীবিকা গ্রহণ করা মাকরূহ। কিন্তু যদি সম্পদ মিশ্র হয় এবং নিশ্চিতভাবে হারাম অংশ চিহ্নিত করা না যায়, তাহলে সন্তানের প্রয়োজনীয় খরচ গ্রহণে বাধা নেই। তবে সতর্কতা হল নিজের উপার্জন করাই উত্তম।”


সংক্ষিপ্ত ফতোয়া

  • আপনার জন্য পিতার কাছ থেকে জীবনধারণের টাকা নেওয়া জায়েজ।
  • পিতার ঋণগ্রহণের কাজটি নাজায়েজ হলেও আপনি তার দায়িত্বে থাকার কারণে তা নিলে আপনার কোনো গুনাহ হবে না।
  • আপনার নিজের হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা কর্তব্য।
  • পিতাকে ভদ্রভাবে ইসলামী পথে চলার পরামর্শ দিন।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.