ওয়াজীব তরক হওয়ার পর সাহু সিজদা দেয়ার পর সালাতে সালাম ফেরানোর সময় ১ম বা ২য় সালাম ফেরাতে দেরী হলে
Salah-Prayer · Hanafi
Question
সালাতে কোনো ওয়াজীব তরক হওয়ার পর সাহু সিজদা দেয়ার পর যদি কোনো কারণে ১ম বা ২য় সিজদা দিতে ৭/৮ সেকেন্ড এর বেশি সময় লেগে যায় তখন কি করতে হবে??
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
সাহু সিজদা সালাতের ওয়াজিব তরকের পর সংশোধনস্বরূপ দেওয়া হয়। সাহু সিজদার প্রতিটি সিজদা সাধারণ সিজদার মতোই আদায় করতে হয়। এতে সিজদার ন্যূনতম সময় হলো কমপক্ষে তিনবার “সুবহানাল্লাহ” পড়া (অর্থাৎ প্রায় ৩-৪ সেকেন্ড)। তবে বেশি সময় ধরে সিজদা দেওয়া যদি ইচ্ছাকৃতভাবে হয় এবং কোনো প্রয়োজন ছাড়া হয়, তবে তা মাকরূহে তানযিহি (অপছন্দনীয়) হবে, কিন্তু সালাত সহিহ থাকবে।
সিজদায় ৭/৮ সেকেন্ড সময় লাগা:
- যদি কোনো কারণে (যেমন- ভুলে দীর্ঘক্ষণ পড়া, শারীরিক অসুবিধা, হাঁচি আসা ইত্যাদি) প্রথম বা দ্বিতীয় সিজদা ৭/৮ সেকেন্ড সময় নেয়, তাহলে তা বৈধ। কারণ এ সময়টুকু ‘তাসবিহে সিজদা’ তিনবারের চেয়ে বেশি হলেও অত্যন্ত দীর্ঘ নয়।
- কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রয়োজন ছাড়া সিজদা দীর্ঘায়িত করা মাকরূহ (নিকটবর্তী অপছন্দনীয়), তবে সালাতের কোনো ক্ষতি হয় না।
- যদি দীর্ঘ সময় এমন হয় যে সালাতের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যায় (যেমন- এক মিনিট বা তার বেশি নিরবতা), তবে সালাত ফাসিদ (বাতিল) হবে। কিন্তু ৭-৮ সেকেন্ড সেই পর্যায়ে পড়ে না।
সাহু সিজদার প্রথম ও দ্বিতীয় সিজদার মাঝের বৈঠক:
সাহু সিজদার উভয় সিজদার মাঝে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক (জলসা) করা ওয়াজিব। এর ন্যূনতম সময় “সুবহানাল্লাহ” একবার বলা। যদি ৭/৮ সেকেন্ড সময় লাগে (যা কয়েক তাসবিহ পড়ার সমান), তাও বৈধ, তবে ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করা মাকরূহ।
সারসংক্ষেপ:
৭/৮ সেকেন্ড সময়ে সিজদা দিলে বা সিজদার মাঝে দেরি হলে সালাত এবং সাহু সিজদা সহিহ আছে। কোনো অতিরিক্ত সিজদা বা সালাত পুনরায় আদায়ের প্রয়োজন নেই। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করা থেকে বিরত থাকা উত্তম।
আরো বিস্তারিত জানতে:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): সিজদার ন্যূনতম সময় তাসবিহ তিনবার, জলসার জন্য একবার তাসবিহ।
- ফাতাওয়া আলমগিরী: দীর্ঘ সিজদা মাকরূহ হলেও সালাত সহিহ।
- বেহেশতি জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী): সিজদা ও জলসা দীর্ঘ করলে মাকরূহ, কিন্তু নষ্ট হয় না।
প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা:
ভুলে বা অসুবিধায় যদি সিজদা দীর্ঘ হয়, তবে কোনো চিন্তা নেই। ইচ্ছাকৃতভাবে না করাই ভালো। সিজদা ও জলসায় তাসবিহ পড়ার পর দ্রুত উঠা সুন্নত।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।