তালাকের অধিকার কি বাতিল করা যাবে?

Marriage and Divorce · Shafei

Questioner: White Sky
Question Asked: 05 Jun 2026, 12:13 PM
Reviewed & Published: 05 Jun 2026, 01:36 PM
Views: 37
This answer is according to the 'Shafei' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ইসলামে শাফেয়ী মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, কোনো স্বামী যদি স্ত্রীকে মৌখিকভাবে বলে, 'আমি তোমাকে আজীবনের জন্য তালাকের অধিকার দিলাম'—ঐ কথা বলার পর দুই মাস হয়ে গেছে এবং স্ত্রী নিজের কাছে ঐ অধিকার রাখতে চায় না; তাহলে শাফেয়ী মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী স্বামীর চিরকালের জন্য এই অধিকার বাতিল করার পথ বা উপায় কী?

Answer

শাফেয়ী মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী সমাধান

প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনাটি হলো স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার অর্পণ (تفويض الطلاق - তাফউইদ আল-তালাক) করেছেন। শাফেয়ী মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, এই অর্পণ একটি ওকালতি (وكالة) হিসেবে গণ্য, যা স্বামী যেকোনো সময় প্রত্যাহার করতে পারেন—এমনকি তিনি ‘আজীবনের জন্য’ বা ‘চিরকালের জন্য’ বললেও। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

১. অর্পণের প্রকৃতি ও প্রত্যাহারের বৈধতা

  • শাফেয়ী মাজহাবের ইমামগণ (ইমাম নববী, ইমাম রাফিঈ, ইবনে হাজার হায়তামি, ইমাম রামলি প্রমুখ) একমত যে, স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়া একটি প্রত্যাহারযোগ্য ওকালতি। এমনকি যদি স্বামী বলে, “আমি তোমাকে আজীবনের জন্য তালাকের অধিকার দিলাম,” তবুও তিনি যে কোনো সময় তা প্রত্যাহার করতে পারেন। কারণ ওকালতি চুক্তি মূলত বাতিলযোগ্য, এবং এখানে স্থায়িত্বের শর্তটি অকার্যকর (বাতিল) বলে গণ্য।
    (সূত্র: আল-মাজমূ‘, ইমাম নববী; মুগনি আল-মুহতাজ, ইমাম শিরবিনি; তুহফাত আল-মুহতাজ, ইবনে হাজার হায়তামি)

  • ইমাম শাফেয়ী (রহ.) তার গ্রন্থ আল-উম্ম-এ বলেন:
    “যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলে, ‘তোমার ব্যাপার তোমার হাতে,’ তাহলে তা ওকালতি হিসেবে গণ্য হবে, এবং সে (স্বামী) তা প্রত্যাহার করতে পারবে।”
    (আল-উম্ম, কিতাব আল-তালাক, বাব আল-তাফউইদ)

২. প্রত্যাহারের পদ্ধতি (স্বামীর করণীয়)

স্বামী সহজেই নিম্নলিখিত কোনো একটি উপায়ে এই অধিকার বাতিল করতে পারেন:

  • মৌখিকভাবে: স্পষ্ট ভাষায় বলবেন, “আমি তোমাকে যে তালাকের অধিকার দিয়েছিলাম, তা প্রত্যাহার করছি” বা “আমি তোমার তালাকের ওকালতি বাতিল করলাম”।
  • লিখিতভাবে: লিখে দিলেও তা কার্যকর হবে।
  • যে কোনো ইশারায়: যদি স্ত্রী বধির বা বোবা হয়, তবে ইশারায়ও প্রত্যাহার বৈধ।

শর্ত: প্রত্যাহার করার সময় স্ত্রী যেন তার নিজের তালাক দিয়ে না ফেলেন (অর্থাৎ অধিকার প্রয়োগ না করেন)। যেহেতু দুই মাস পার হয়েছে এবং স্ত্রী নিজে অধিকার রাখতে চান না, সুতরাং তিনি এখনও প্রয়োগ করেননি বলে ধরে নেওয়া যায়। তাই প্রত্যাহার সহজেই কার্যকর হবে।

৩. স্ত্রীর মতামতের প্রভাব নেই

স্ত্রী অধিকার রাখতে চান বা না চান—এতে স্বামীর প্রত্যাহারের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। স্বামী একতরফাভাবে এটি বাতিল করতে পারেন। তবে উত্তম হলো স্ত্রীকে জানিয়ে দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে misunderstandings না হয়।

৪. স্থায়ী বাতিলের জন্য কী করবেন?

স্বামী যদি চান যে এই অধিকার চিরতরে বাতিল হয়ে যাক, তাহলে শুধু একবার প্রত্যাহার করলেই যথেষ্ট। এরপর স্ত্রীর আর তালাক দেওয়ার কোনো ক্ষমতা থাকবে না। কোনো জটিল প্রক্রিয়া বা লিখিত দলিলের প্রয়োজন নেই। তবে সাক্ষী রাখা উত্তম, যাতে পরে কোনো বিবাদ না হয়।

৫. দলিল ও কুরআন-হাদিসের আলোকে

  • কুরআন: তালাক সম্পর্কিত আয়াতে (সূরা বাকারা, আয়াত ২২৯-২৩০) স্বামীর কর্তৃত্ব বোঝানো হয়েছে। তবে সরাসরি অর্পণের বিষয়টি কুরআনে নেই; এটি ফিকহি ইজতিহাদের বিষয়।
  • হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) তার স্ত্রীদের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন (সূরা আহযাবের আয়াত নাজিলের পর), যা ইমাম শাফেয়ী ও অন্যান্য আলেমদের মতে এটি ছিল ওকালতি, এবং তিনি তা প্রত্যাহার করতে পারতেন।
    (সহিহ বুখারি ও মুসলিম, হাদিস নং ৪৭৮৫-৪৭৮৬)

সারসংক্ষেপ

স্বামী নিম্নরূপ করবেন:
এখনই স্পষ্ট ভাষায় স্ত্রীকে বলুন বা লিখুন:
“আমি তোমাকে আগে যে তালাকের অধিকার দিয়েছিলাম, তা প্রত্যাহার করছি।”
এতে অধিকার চিরতরে বাতিল হবে। স্ত্রী সম্মত না হলেও কোনো সমস্যা নেই, কারণ এটি স্বামীর একতরফা অধিকার।

সতর্কতা: প্রত্যাহারের পর স্ত্রী যদি আবার তালাক দেওয়ার চেষ্টা করেন, তা কার্যকর হবে না। তবে ভবিষ্যতে স্বামী চাইলে নতুন করে আরেকবার অর্পণ করতে পারবেন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.