শয়তান তাড়াতে কুরআনের আয়াত লিখে তাবিজ ব্যবহার করলে কি শিরক হবে?
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
শয়তান তাড়াতে কুরআনের আয়াত লিখে তাবিজ ব্যবহার করা শিরক নয়। বরং এটি জায়েয ও সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি, যদি নিম্নোক্ত শর্তগুলো পূরণ করা হয়:
১. তাবিজে শুধুমাত্র কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা সহিহ হাদিসে বর্ণিত দু‘আ লেখা থাকতে হবে।
২. তাবিজকে নিজে নিজে ফলদায়ক মনে করা যাবে না; বরং আল্লাহর ইচ্ছায় ফল হয় বলে বিশ্বাস করতে হবে।
৩. তাবিজ ব্যবহারে শরিয়তের কোনো নিষিদ্ধ কাজ (যেমন: শিরকি কালাম, অজ্ঞাত জিনের সাহায্য প্রার্থনা) না থাকা।
হানাফি ফিকহের কিতাব থেকে দলিল:
-
ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) "রদ্দুল মুহতার" (৫ম খণ্ড, ২৩৫ পৃষ্ঠা) এ লিখেছেন:
"জায়েয আছে কুরআনের আয়াত বা দু‘আ লিখে তাবিজ তৈরি করা, যদি তা দ্বীনের নিষিদ্ধ বিষয় থেকে মুক্ত হয়।" -
ফাতাওয়া আলমগীরী (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫ম খণ্ড, ৩৫৩ পৃষ্ঠা) এ উল্লেখ আছে:
"তাবিজে কুরআনের আয়াত লিখে গলায় ঝুলানো জায়েয, কারণ এটি শিফা হিসেবে সাহাবায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত।" -
আল-হিদায়া (১ম খণ্ড, ৩৫৬ পৃষ্ঠা) তে বলা হয়েছে:
"রোগ বা বালা-মুসিবত থেকে রক্ষার জন্য কুরআনের আয়াত লিখে তাবিজ ব্যবহার করা নাজায়েয নয়।"
সাহাবীদের আমল:
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) সাহাবীদের বাচ্চাদের কুরআনের আয়াত লিখে তাবিজ দিতেন (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৮৬)। হযরত উম্মে সালমা (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, নবী (সা.) তাবিজ ব্যবহারে অনুমতি দিয়েছেন (তিরমিজি, হাদিস: ২০৫৭)।
শিরক কখন হয়?
শিরক তখনই হবে যদি:
- তাবিজে শিরকি কালাম (যেমন: অন্য কারো নামে সাহায্য প্রার্থনা) লেখা হয়।
- তাবিজকেই স্বতন্ত্র শক্তি দেয়া হয়, আল্লাহর ইচ্ছা থেকে বিচ্ছিন্ন করে।
সুতরাং, কুরআনের আয়াত লিখে তাবিজ ব্যবহার করলে শিরক হবে না, বরং এটি একটি সুন্নাহসম্মত চিকিৎসা পদ্ধতি। তবে নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা এবং তাবিজের প্রতি অতিরিক্ত বিশ্বাস না রাখা জরুরি।