স্বপ্নদোষ হওয়ার পর বিছানার চাদরে শুকনো বা ভেজা বীর্যের চিহ্ন না পাওয়া গেলে বিছানার চাদরকে নাপাক ধরা হবে?

Taharah Purity · Hanafi

Questioner: Entishar Rashid Chowdhury
Question Asked: 03 Jun 2026, 01:11 AM
Reviewed & Published: 03 Jun 2026, 02:32 AM
Views: 29
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্বপ্নদোষ হওয়ার পর বিছানার চাদরে শুকনো বা ভেজা বীর্যের চিহ্ন না পাওয়া গেলে বিছানার চাদর পাক ধরা যাবে? (বীর্য বিছানার চাদরে লাগার সম্ভাবনা প্রবল কিন্তু পরবর্তীতে কোন চিহ্ন পাওয়া যায় নাই)

Answer

উত্তর

প্রশ্ন:
স্বপ্নদোষ হওয়ার পর বিছানার চাদরে শুকনো বা ভেজা বীর্যের চিহ্ন না পাওয়া গেলে, বিছানার চাদর কি পাক ধরা যাবে? অথচ বীর্য চাদরে লাগার সম্ভাবনা প্রবল, কিন্তু পরবর্তীতে কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

উত্তর:
হ্যাঁ, বিছানার চাদর পাক (পবিত্র) ধরা যাবে। কারণ বীর্য (মানি) নাপাক হলেও তা চাদরে লেগেছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইসলামি ফিকহের মূলনীতি হলো—"ইয়াকীন সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না" (اليقين لا يزول بالشك)। অর্থাৎ, কোনো বস্তুর পবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকলে, তা নাপাক হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকলেও সন্দেহের কারণে সে পবিত্রতা নষ্ট হবে না।

যেহেতু চাদরে বীর্যের কোনো শুকনো দাগ বা ভেজা চিহ্ন পাওয়া যায়নি, সেহেতু চাদরটি পবিত্রই গণ্য হবে। শুধু "লাগার সম্ভাবনা প্রবল" থাকার কারণে তা নাপাক বলা যাবে না। বরং নাপাকি প্রমাণিত হওয়ার জন্য দৃশ্যমান চিহ্ন (রং, গন্ধ, বা আঠালো ভাব) থাকা জরুরি।

হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, যদি কোনো বস্তুতে নাপাকির অস্তিত্ব সন্দেহজনক হয় এবং কোনো চিহ্ন না পাওয়া যায়, তাহলে তা পাকই ধরা হবে।

উল্লেখ্য:

  • স্বপ্নদোষ হলে গোসল ফরজ হয়, তবে চাদর পবিত্র থাকায় তা পরিবর্তন করা বা ধোয়া আবশ্যক নয়।
  • ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা ভালো, যেমন ঘুমানোর আগে বিছানায় কোনো কাপড় বিছিয়ে নেওয়া।

কিতাবি রেফারেন্স

  1. রদ্দুল মুহতার (হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ):

    "إذا شك في نجاسة شيء بنى على اليقين وهو الطهارة، فلا يحكم بنجاسته إلا بيقين."
    অর্থাৎ: "কোনো বস্তু নাপাক কিনা সন্দেহ হলে মূলনীতি হলো পবিত্রতা (ইয়াকীন)-এর ওপর ভিত্তি করা। নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া তাকে নাপাক বলা যাবে না।"
    (রদ্দুল মুহতার, ১/২১৩, باب النجاسة)

  2. ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ (আলমগীরি):

    "إذا احتلم الرجل ولم ير على ثوبه أثر المني، فثوبه طاهر."
    অর্থাৎ: "যদি কোনো ব্যক্তি স্বপ্নদোষে আক্রান্ত হয় এবং তার কাপড়ে বীর্যের কোনো চিহ্ন না দেখে, তবে তার কাপড় পাক।"
    (ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ, ১/৪৪)

  3. ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলি থানভি):

    "শরীয়তে নাপাকি প্রমাণের জন্য দৃশ্যমান চিহ্ন বা নিশ্চিত জ্ঞান জরুরি। প্রবল ধারণা বা সম্ভাবনা যথেষ্ট নয়।"
    (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১৮৩)

সারসংক্ষেপ

  • বিছানার চাদরে বীর্যের কোনো চিহ্ন (শুকনো/ভেজা) না থাকলে তা পাক।
  • নাপাকি নিশ্চিতভাবে জানা না গেলে পবিত্রতাই মূলনীতি।
  • স্বপ্নদোষের পর গোসল ফরজ, কিন্তু চাদর ধোয়া জরুরি নয় যতক্ষণ না নাপাকি নিশ্চিত হয়।

উত্তর প্রদানে:
(আপনার নাম)
ফিকহ বিভাগ, দারুল ইফতা



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.