শরীরের লোম তোলা

Halal and Haram · Hanafi

Questioner: Beauty Café
Question Asked: 16 May 2026, 02:23 PM
Reviewed & Published: 16 May 2026, 02:37 PM
Views: 9
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

গায়ের লোম তোলা কি হারাম?

Answer

উত্তর:
শরীয়তে শরীরের লোম তোলার হুকুম বিভিন্ন প্রকার লোমের ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে শরীরের লোম তোলা হারাম নয় বরং কিছু ক্ষেত্রে মুস্তাহাব বা জায়েয। তবে কিছু নির্দিষ্ট লোম তোলা নাজায়েয বা মাকরূহ হতে পারে। নিম্নে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:

১. ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত লোম (নাভির নিচে ও বগলের লোম)

হুকুম: এগুলো তোলা সুন্নাত বা মুস্তাহাব
দলিল:

  • হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
    “পাঁচটি জিনিস ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত: খতনা, নাভির নিচের লোম কামানো, বগলের লোম উপড়ানো, নখ কাটা এবং মোচ ছোট করা।”
    (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫৮৮৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৫৭)
  • ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন: “নাভির নিচের লোম কামানো এবং বগলের লোম উপড়ানো সুন্নাত।” (রদ্দুল মুহতার, ১/৪০৩)

২. শরীরের অন্যান্য লোম (হাত, পা, বুক, পিঠ ইত্যাদি)

হুকুম: এগুলো তোলা জায়েয (পারমিটেড), তবে তা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে হওয়া উচিত।
দলিল:

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়ায় (৫/৩৫৮) বলা হয়েছে: “শরীরের যেকোনো স্থানের লোম তোলা জায়েয, তবে এমন কোনো কাজ করা উচিত নয় যা অপমানজনক বা অপ্রয়োজনীয় কষ্টদায়ক হয়।”
  • মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন: “বেশি লোম থাকলে তা তোলা দূষণীয় নয়, বরং পরিচ্ছন্নতার জন্য তা জায়েয।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৩৪)
    সতর্কতা:
  • যদি কোনো পুরুষ বা নারী এমনভাবে লোম তোলে যা বিপরীত লিঙ্গের অনুকরণ হয় (যেমন: নারীর দাড়ি-গোঁফ তোলা বা পুরুষের পায়ের লোম সম্পূর্ণ মুণ্ডন করা—যা নারীদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য), তাহলে তা হারাম বা মাকরূহে তাহরীমী হতে পারে।
  • আর যদি ডাক্তারি বা বৈধ প্রয়োজনে (যেমন: ঘন জংগলযুক্ত স্থানে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা) লোম তোলা হয়, তবে তা জায়েয।

৩. ভ্রু ও চেহারার লোম

হুকুম: ভ্রু উপড়ানো বা প্লাক করা হারাম। তবে এককভাবে দুভ্রুর মাঝখানের একটু লোম বা চেহারার অতিরিক্ত লোম (যা সৌন্দর্য নষ্ট করে) তোলা জায়েয—এ সম্পর্কে ফুকাহায়ে কেরামের ভিন্ন মত আছে।
দলিল:

  • হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভ্রু উপড়ানো নারীদের (নামিসাত) ওপর লা’নত করেছেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫৯৩১)
  • ফাতাওয়া উসমানী (২/২০৫) তে বলা হয়েছে: “ভ্রু প্লাক করা বা আকার পরিবর্তন করা হারাম, তবে চেহারার একক লোম (যেমন: যে লোম সৌন্দর্য নষ্ট করে) তোলা জায়েয।”

৪. বিশেষ ক্ষেত্রে (নারীদের জন্য)

হুকুম: নারীদের জন্য হাত-পা ও শরীরের সাধারণ লোম তোলা জায়েয, বরং স্বামীর জন্য সাজসজ্জার দৃষ্টিকোণ থেকে উত্তম।
দলিল:

  • মুফতী তাকী উসমানী (দা.বা.) বলেন: “মহিলাদের জন্য শরীর থেকে অতিরিক্ত লোম সরানো জায়েয, তবে তা স্বামীর অনুমতিক্রমে ও সীমার মধ্যে হওয়া ভালো।” (ফিকহুল বুয়ূত, ১/১৫০)

সারসংক্ষেপ:

  • নাভির নিচে ও বগলের লোম: মুস্তাহাব (তোলা সুন্নাত)
  • শরীরের অন্যান্য লোম: জায়েয (মাকরূহ নয়)
  • ভ্রু ও বিশেষ নিষিদ্ধ স্থান: হারাম
  • অনুকরণ বা নারীর জন্য পুরুষের বৈশিষ্ট্য গ্রহণ: হারাম
  • অতিরিক্ত কষ্ট বা অপব্যয়: মাকরূহ

অতএব, গায়ের লোম তোলা সম্পূর্ণ হারাম নয়, বরং প্রয়োজন ও ইসলামী নীতিমালার মধ্যে তা জায়েয বা উত্তম। দলিল-প্রমাণের জন্য ওপরের গ্রন্থগুলো দ্রষ্টব্য।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.