শিরকি গানের অর্থ জানি। কিন্তু তাও মনের ভুলে গুন গুন করে কেউ যদি গেয়ে ফেলে তাহলে কি তার ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?

Faith and Belief · Hanafi

Questioner: Rajia Suntana
Question Asked: 02 Jun 2026, 08:48 PM
Reviewed & Published: 02 Jun 2026, 09:25 PM
Views: 22
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
শিরকি গানের অর্থ জানি। কিন্তু মনের ভুলে যদি কেউ এগুলা গেয়ে ফেলে, কিন্তু বিশ্বাস না করে তাহলে কি তার ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاتة

আপনার প্রশ্নের জবাবে বলা যায়, শিরকি গান যদি কেউ মনের ভুলে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে গেয়ে ফেলে, কিন্তু তার অন্তরে সেই শিরকের বিশ্বাস না থাকে, তাহলে তার ঈমানের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে এটি একটি গুনাহের কাজ, তাই দ্রুত তওবা করা ও ভবিষ্যতে এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

দলিল ও ব্যাখ্যা:

  1. কুরআন:

    • আল্লাহ তাআলা বলেন:
      "তোমরা যা ভুলবশত করো, তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ নেই; কিন্তু যা তোমাদের অন্তরে সংকল্প করে করো, (সেটার জন্য জিজ্ঞাসা করা হবে)। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।"
      (সূরা আল-আহযাব: ৫)
    • অন্য আয়াতে:
      "যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত কোনো পাপ করে, অতঃপর তওবা করে ও নিজেকে সংশোধন করে, তাহলে আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, দয়ালু।"
      (সূরা আল-আনআম: ৫৪)
  2. হাদিস:

    • রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
      "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং যা তারা বাধ্য হয়ে করে তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।"
      (সহীহ ইবনে মাজাহ: ২০৪৫, ইমাম বায়হাকী)
    • অন্য হাদিসে:
      "আমার উম্মতের অন্তরের কথা (যা কাজে পরিণত না হয়) ও ভুলবশত কথা বলা ও কাজ করাকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তা কাজে পরিণত হয়।"
      (সহীহ বুখারী: ৬৬৬৯)
  3. হানাফি ফিকহের রেফারেন্স:

    • ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন:
      "ঈমান নষ্ট হওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে শিরক বা কুফরি বিশ্বাস করা বা সেটা জেনে ও স্বেচ্ছায় উচ্চারণ করা শর্ত। ভুলে বা অনিচ্ছায় কোনো কিছু বললে বা করলে ঈমানের ক্ষতি হয় না, তবে গুনাহ হয়।"
      (ফাতাওয়া আলমগীরী: ২/২৬০, কিতাবুল ইমাম)
    • ইমাম ইবনে আবেদিন শামী (রহ.) 'রদ্দুল মুহতার' এ লিখেছেন:
      "যদি কেউ ভুলবশত শিরকি শব্দ উচ্চারণ করে, কিন্তু তার অন্তরে আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাস অটুট থাকে, তাহলে তার ঈমান বাহ্যিক শব্দের কারণে নষ্ট হবে না। বরং তাকে সিজদায়ে সাহু বা তওবা করতে হবে।"
      (রদ্দুল মুহতার: ৪/২৪৪)
    • মুফতি আশরাফ আলী থানভী (রহ.) 'ইমদাদুল ফাতাওয়া' তে বলেন:
      "ভুলে গান গাওয়া বা অনিচ্ছাকৃত কাজ ঈমানের পরিপন্থী নয়, তবে এ থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ এটি গুনাহ ও অন্যায় কাজ।"
      (ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৫/৪৩২)
  4. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:

    • বিশ্বাস না থাকলেও শিরকি গান গাওয়া বা শোনা কবিরা গুনাহ। এতে করে ঈমান দুর্বল হয় এবং শয়তানের প্রভাব বাড়ে। তাই শিরকি গান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা ফরজ।
    • মনের ভুল যদি বারবার ঘটে তবে ধারণা করা যায় যে অন্তরে সেই গানের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়েছে, যা ঈমানের জন্য বিপজ্জনক। তাই সতর্কতা ও তওবা আবশ্যক।

সিদ্ধান্ত:

  • যদি শিরকি গানটি অনিচ্ছাকৃত ও বিশ্বাসহীন অবস্থায় গাওয়া হয়: ঈমানের সমস্যা হবে না, তবে গুনাহ হবে। দ্রুত তওবা ও এস্তেগফার করুন এবং ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে সচেতন থাকুন।
  • যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ও বিশ্বাস সহকারে গাওয়া হয়: তাহলে ঈমান চলে যাবে, ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে নতুন করে কলেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করতে হবে ও আরও কঠোর তওবা করতে হবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে শিরক ও গুনাহ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.