শাতিমে রাসুল সাঃ কে নিয়ে
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
আপনার বর্ণিত ঘটনায় একজন হিন্দু ছাত্র রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিবাহ প্রসঙ্গে "লারেলাপ্পা হবে" বলে যে মন্তব্য করেছে, এটি স্পষ্টতই অশ্লীল ও অমার্জিত ভাষা। ইসলামের দৃষ্টিতে রাসূল (ﷺ)-এর পবিত্র সত্তা ও তাঁর জীবনের কোনো ঘটনা নিয়ে উপহাস বা অশ্লীল মন্তব্য করা শাতিমে রাসূল (ﷺ)-এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করে তার নিয়ত ও প্রেক্ষাপটের ওপর।
শারঈ বিধান:
-
শাতিমে রাসূল (ﷺ)-এর সংজ্ঞা:
- যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রাসূল (ﷺ)-কে গালি দেয়, উপহাস করে বা তাঁর সম্মানহানি করে, সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায় (মুরতাদ) এবং তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (ফিকহের দৃষ্টিতে)।
- (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৪/২৩৬; ফাতাওয়া আলমগীরী, ২/২৫৮)
-
উপহাস বা অশ্লীল মন্তব্য:
- রাসূল (ﷺ)-এর বিবাহ, জীবনযাপন বা তাঁর কোনো বৈধ কাজ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা কুফরী এবং মুসলিমদের জন্য তা হারাম।
- (সূত্র: তাফসীরে মা‘আরিফুল কুরআন, সূরা তাওবা-এর ৬৫-৬৬ আয়াতের ব্যাখ্যা)
-
হিন্দু ছাত্রের অবস্থা:
- যেহেতু সে অমুসলিম, তাই তার উপর ইসলামী শরিয়তের হুদুদ (শাস্তি) কার্যকর হবে না। তবে তার এই মন্তব্য ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও অশালীনতা-এর পরিচয় বহন করে।
- সে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রাসূল (ﷺ)-কে অপমান করে থাকে, তবে তা ধর্মীয় উস্কানি হিসেবে গণ্য হবে এবং তাকে সংশোধন বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
-
মুসলিম স্যারের কর্তব্য:
- এমন পরিস্থিতিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানানো এবং ছাত্রটিকে ইসলামের মর্যাদা সম্পর্কে বোঝানো জরুরি।
- যদি সে অনুতপ্ত না হয়, তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ বা অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো উচিত।
সতর্কতা:
-
সকল প্রকার অশ্লীলতা ও উপহাস থেকে বিরত থাকা ইসলামের নির্দেশ।
-
সূরা হুজুরাত (৪৯:১১) -এ বলা হয়েছে:
"হে মুমিনগণ! কোনো সম্প্রদায় অপর সম্প্রদায়কে উপহাস না করুক... আর একে অপরকে মন্দ নামে ডাকো না।"
-
রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি অসম্মান সর্বশ্রেষ্ঠ গুনাহ এবং তা থেকে তাওবা করতে বলা হয়েছে।
উপসংহার:
উক্ত ঘটনায় ছাত্রটির মন্তব্য রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি অশালীন ও অমর্যাদাকর। এটি শাতিমে রাসূল-এর পর্যায়ে পড়তে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তার নিয়ত ও পুনরাবৃত্তির বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। মুসলিম স্যার ও সংশ্লিষ্টদের উচিত এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী প্রতিবাদ করা।
আল্লাহু তা‘আলা আমাদের সবাইকে রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি পূর্ণ সম্মান ও ভালোবাসা রাখার তৌফিক দিন। (আমীন)