শাতিমে রাসুল সাঃ কে নিয়ে

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Questioner: md saiful islam
Question Asked: 21 May 2026, 01:33 PM
Reviewed & Published: 21 May 2026, 01:52 PM
Views: 10
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

এক মুসলিম স্যার ক্লাসে ইসলামিক আলোচনা করে রাসুলুল্লাহ সাঃ আম্মাজান খাদিজা রাঃ বিয়ের প্রস্তাবের কথা বলছিলেন উনার চাচা আবু তালিব এত বড়লোক প্রস্তাব দিছে বিয়ে কররে চলতে ফিরতে সুবিধা হবে যে রাসুলুল্লাহ সাঃ বিয়ের বেপারে বলছিলেন যে এত ধনী বিয়ের প্রস্তাব দিছে বিয়ে করলে চলতে ফিরতে সুবিধা হবে স্যারের কথাটা যতটুকু মনে আছে পুরোপুরি মনে নাই। তখন একজন হিন্দু ছেলে বলছে যে লারেলাপ্পা হবে বিয়ে করলে সম্ভবত সে এটা বুঝাতে চাইছে সে কি শাতিমে রাসুল সাঃ হবে

Answer

উত্তর:
আপনার বর্ণিত ঘটনায় একজন হিন্দু ছাত্র রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিবাহ প্রসঙ্গে "লারেলাপ্পা হবে" বলে যে মন্তব্য করেছে, এটি স্পষ্টতই অশ্লীল ও অমার্জিত ভাষা। ইসলামের দৃষ্টিতে রাসূল (ﷺ)-এর পবিত্র সত্তা ও তাঁর জীবনের কোনো ঘটনা নিয়ে উপহাস বা অশ্লীল মন্তব্য করা শাতিমে রাসূল (ﷺ)-এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করে তার নিয়ত ও প্রেক্ষাপটের ওপর।

শারঈ বিধান:

  1. শাতিমে রাসূল (ﷺ)-এর সংজ্ঞা:

    • যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রাসূল (ﷺ)-কে গালি দেয়, উপহাস করে বা তাঁর সম্মানহানি করে, সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায় (মুরতাদ) এবং তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (ফিকহের দৃষ্টিতে)।
    • (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ৪/২৩৬; ফাতাওয়া আলমগীরী, ২/২৫৮)
  2. উপহাস বা অশ্লীল মন্তব্য:

    • রাসূল (ﷺ)-এর বিবাহ, জীবনযাপন বা তাঁর কোনো বৈধ কাজ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা কুফরী এবং মুসলিমদের জন্য তা হারাম।
    • (সূত্র: তাফসীরে মা‘আরিফুল কুরআন, সূরা তাওবা-এর ৬৫-৬৬ আয়াতের ব্যাখ্যা)
  3. হিন্দু ছাত্রের অবস্থা:

    • যেহেতু সে অমুসলিম, তাই তার উপর ইসলামী শরিয়তের হুদুদ (শাস্তি) কার্যকর হবে না। তবে তার এই মন্তব্য ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও অশালীনতা-এর পরিচয় বহন করে।
    • সে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রাসূল (ﷺ)-কে অপমান করে থাকে, তবে তা ধর্মীয় উস্কানি হিসেবে গণ্য হবে এবং তাকে সংশোধন বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
  4. মুসলিম স্যারের কর্তব্য:

    • এমন পরিস্থিতিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানানো এবং ছাত্রটিকে ইসলামের মর্যাদা সম্পর্কে বোঝানো জরুরি।
    • যদি সে অনুতপ্ত না হয়, তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ বা অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো উচিত।

সতর্কতা:

  • সকল প্রকার অশ্লীলতা ও উপহাস থেকে বিরত থাকা ইসলামের নির্দেশ।

  • সূরা হুজুরাত (৪৯:১১) -এ বলা হয়েছে:

    "হে মুমিনগণ! কোনো সম্প্রদায় অপর সম্প্রদায়কে উপহাস না করুক... আর একে অপরকে মন্দ নামে ডাকো না।"

  • রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি অসম্মান সর্বশ্রেষ্ঠ গুনাহ এবং তা থেকে তাওবা করতে বলা হয়েছে।

উপসংহার:
উক্ত ঘটনায় ছাত্রটির মন্তব্য রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি অশালীন ও অমর্যাদাকর। এটি শাতিমে রাসূল-এর পর্যায়ে পড়তে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তার নিয়ত ও পুনরাবৃত্তির বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। মুসলিম স্যার ও সংশ্লিষ্টদের উচিত এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী প্রতিবাদ করা।

আল্লাহু তা‘আলা আমাদের সবাইকে রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি পূর্ণ সম্মান ও ভালোবাসা রাখার তৌফিক দিন। (আমীন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.