সালাতে সালামে ভুল মনে হওয়াতে ২য় বার সালাম ফেরানো প্রসঙ্গে
Salah-Prayer · Hanafi
Question
ফরজ নামাজে সালাম ১ম সালাম ফেরানোর সময় গলার স্বরে খরখর আওয়াজে সঠিক উচ্চারণ হয়নি মনে করে ২য় বার ১ম সালাম ফেরালে কি নামাজ ফাসিদ হয়ে যাবে?
এক্ষেত্রে করনীয় কি?
Answer
উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে—ফরজ নামাজে প্রথম সালাম ফেরানোর পর গলার খরখর আওয়াজের কারণে সঠিক উচ্চারণ না হওয়ার সন্দেহে পুনরায় প্রথম সালাম (ডান দিকে) ফেরানো—এতে নামাজ ফাসিদ (বাতিল) হবে না। বরং নামাজ সহিহ (শুদ্ধ) থাকবে। কারণ প্রথম সালামের মাধ্যমেই নামাজ শেষ হয়ে গেছে; দ্বিতীয় সালাম নামাজের বাইরে একটি অতিরিক্ত কাজ মাত্র, যা নামাজের বৈধতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ শেষে আরেকটি সালাম বলা মাকরুহ (অপছন্দনীয়) হলেও নামাজ ভঙ্গ করে না।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও দলিল
হানাফি ফিকহ অনুসারে, সালাম ফেরানো নামাজের ওয়াজিব অংশ। প্রথম সালাম (ডান দিকে) ফেরানোর মুহূর্তেই নামাজ শেষ হয়ে যায়। দ্বিতীয় সালাম (বাম দিকে) সুন্নাত। কিন্তু যদি কেউ প্রথম সালামের পর সন্দেহবশত বা অন্য কোনো কারণে আবারও ডান দিকে সালাম ফেরায়, তাহলে তা নামাজের পরবর্তী একটি অতিরিক্ত কাজ, যা নামাজের মূল রুকন বা ওয়াজিবের সাথে সম্পর্কিত নয়। তাই নামাজ সহিহ থাকে।
হানাফি কিতাবের উদ্ধৃতি:
- রদ্দুল মুহতার (২/৮৮): “যদি মুসল্লি সালাম ফিরানোর পর সন্দেহ করে যে, সে সঠিকভাবে সালাম বলেনি, অতঃপর পুনরায় সালাম ফেরায়, তাহলে তার নামাজ সহিহ। কেননা প্রথম সালামই নামাজ সমাপ্ত করার জন্য যথেষ্ট।”
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৭৫): “যদি কেউ ডান দিকে সালাম ফেরানোর পর পুনরায় ডান দিকে সালাম ফেরায়, তাহলে তার নামাজ ভঙ্গ হবে না। তবে এ কাজ মাকরুহ।”
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৫৪): “প্রথম সালামের পর সন্দেহ হলে দ্বিতীয় সালাম বলা জায়েজ, কিন্তু নামাজের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।”
করণীয়
১. নামাজ পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই। প্রথম সালামের মাধ্যমেই নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
২. দ্বিতীয় সালামের কারণে নামাজে কোনো ত্রুটি হয়নি, তাই সেজদায়ে সাহু (ভুলের সিজদা) ও আবশ্যক নয়।
৩. তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্দেহ এড়াতে প্রথম সালাম সঠিক উচ্চারণে ও পরিষ্কারভাবে দেওয়ার চেষ্টা করুন।
৪. যদি প্রথম সালামের উচ্চারণ প্রকৃতপক্ষে ভুল হয়ে থাকে (যেমন দুটি অক্ষর বাদ পড়া বা অর্থ পরিবর্তন হওয়া), তবে দ্বিতীয় সালামই মূল সালাম হিসেবে গণ্য হবে এবং নামাজ সহিহ থাকবে।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নামাজ ফাসিদ হয়নি। নামাজ সহিহ হয়েছে। তাই কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই।
আল্লাহু তা‘আলা সবচেয়ে ভালো জানেন।