সাক্ষী কম থাকায় বিবাহ ফাসিদ হলে খুলা কি করা লাগবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Questioner: ‫شهناز أختر (شاهين)‬
Question Asked: 05 Jun 2026, 04:22 PM
Reviewed & Published: 05 Jun 2026, 04:31 PM
Views: 86
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ
সাক্ষীর কমতির কারণে ফাসিদ হওয়া বিয়েতে আলেমের মাধ্যমে ফাসক্ব করিনি।
খুলা করেছিলাম।
এখন কি আর ফাসখ করতে হবে?
ফাসখ করার পদ্ধতি কী??

Answer

উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে উল্লেখিত ‘সাক্ষীর কমতি’ (পর্যাপ্ত সাক্ষী না থাকা) কারণে বিবাহটি ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, বিবাহের বৈধতার জন্য দুইজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী থাকা আবশ্যক (শর্ত) – এটি ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর বিখ্যাত মত। তবে এ প্রসঙ্গে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর ভিন্ন মতও আছে। প্রকৃতপক্ষে, সাক্ষী ছাড়া বিবাহ হানাফী মতে বাতিল (অগ্রহণযোগ্য) প্রশ্নকারী যেহেতু বিবাহকে ‘ফাসিদ’, বলে আখ্যায়িত করেছেন, সেহেতু আমরা সে অনুযায়ী উত্তর দেব।

১. ফাসিদ বিবাহে ‘খুলা’ কি কার্যকর?

ফাসিদ বিবাহ মূলত বৈধ নয়; তাই এর জন্য ‘তালাক’ বা ‘খুলা’র কোনো বিধান নেই। তালাক ও খুলা শুধু সহীহ (শুদ্ধ) বিবাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আপনার ক্ষেত্রে আপনি ‘খুলা’ করলেও তা বৈধ বিবাহ বিচ্ছেদ হিসেবে গণ্য হবে না। তবে যদি শারীরিক মেলামেশা হয়ে যায়, তাহলে মহিলা মহরের হকদার হয়ে যাবে। এবং বিবাহকে আবার নতুনভাবে সাজাতে হবে বা বিবাহ করতে হবে।

হানাফী গ্রন্থসমূহে এসেছে:

“فإذا انعقد النكاح باطلاً أو فاسداً فلا يقع به الطلاق ولا الظهار ولا الإيلاء ولا اللعان”
অর্থ: “যখন বিবাহ বাতিল বা ফাসিদ হয়, তখন তাতে তালাক, যিহার, ইলা বা লি‘আন প্রভৃতি সংঘটিত হবে না।”
(রদ্দুল মুহতার, ৩/৪৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৭৩)

২. এখন কী করা উচিত?

সমাজের ন্যায়পরায়ন দুজন ব্যক্তির সামনে স্বামী স্ত্রী পৃথক হওয়ার ঘোষণা দিবে। অতঃপর চাইলে আবার বিবাহ করা যাবে।

৩. ফাসখ করার পদ্ধতি

  • নির্ভরযোগ্য আলেম বা ইসলামী আদালতের (কাযী) নিকট যান।
  • সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলুন – কীভাবে বিবাহ হয়েছিল, কয়জন সাক্ষী ছিল ইত্যাদি।
  • আলেম বিবাহের ফাসিদিয়াত (ত্রুটি) যাচাই করে ফাসখ ঘোষণা করবেন।
  • যদি কোনো কাযী বা আলেম সহজলভ্য না হয়, তবে আপনি নিজেরাও একে ‘বাতিল’ মনে করে পৃথক হতে পারেন, কিন্তু পরবর্তী কোনো জটিলতা এড়াতে আলেমের মাধ্যমে করাই উত্তম।
  • ফাসখের সময় যদি স্ত্রীকে মোহরানা দেওয়া বাকি থাকে, তবে তা আদায় করতে হবে (যদি দাম্পত্য সম্পর্ক ঘটে থাকে)।

গ্রন্থ উদ্ধৃতি:

  • “إذا عقد النكاح بغير شهود فهو فاسد عند الإمام … ويلزم التفريق بينهما” – ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/২৯০
  • “وإذا كان النكاح فاسداً فليس فيه طلاق ولا خلع، بل يفسخه القاضي” – ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৪৫

৪. কুরআন-হাদীসের দলিল

  • কুরআনে বিবাহের জন্য সাক্ষী রাখার আদেশ এসেছে:

    “وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِّنكُمْ” (সূরা আত-তালাক: ২)
    অর্থ: “তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখো।”

  • হাদীসে এসেছে:

    “لا نكاح إلا بولي وشاهدي عدل” (সুনানুল কুবরা লিল-বায়হাকী)
    অর্থ: “অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিবাহ হয় না।”

৫. সংক্ষিপ্ত উত্তর

  • হ্যাঁ, এখনও ফাসখ করতে হবে। খুলা করলেও তা গণ্য হবে না।
  • পদ্ধতি: আলেমের মাধ্যমে বিবাহটি ফাসখ করুন। আলেম না পেলে নিজেরা পৃথক হন, তবে আলেমের শরনাপন্ন হওয়া জরুরি।

আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে সঠিক পথ বুঝার তাওফীক দিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.