প্রথম স্বামী তালাকের অস্বীকার করছে, দ্বিতীয় বিয়েও হয়ে গেছে, এখন করণীয় কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Questioner: Maisha Rahman 2249
Question Asked: 31 May 2026, 08:18 AM
Reviewed & Published: 31 May 2026, 12:27 PM
Views: 39
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হুজুর আমার লুকিয়ে বিয়ে হয়েছিলো কাবিন করে,তারপর আমার পরিবারের কারনে তাকে তালাক দেওয়ার জন্য বলেছিলাম,,,সে আমাকে তালাকনামা পাঠায় আমি সাইন করেছি,,,তারপর আমি অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে যায়,,,,কিন্তু হুজুর আমার আগের স্বামী বলছিল যে সাইন করেনি, ,সাইন করা বুঝি কোনো মেটার না।কিন্তু সে মুখেও তালাক দে নি, আমার নতুন বিয়ে হওয়ার ২ বছর হয়েগেছে,,,আর ইদ্দতের কথা মনে করতে পারছি না যে পালন হয়েছ কি না,,,,এখন সে আমাকে গতকাল রাতে ফোন কলের মাধ্যমে, তারমধ্য থকে একজনকে সাক্ষী রেখে এবং আমার মধ্যে থেকে আমার ২ সামিকে সাক্ষী রেখে মুখে তিন তালাক দেয়। এখন এই তালাকটি শুদ্ধ হয়েছে কিনা?

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم

উত্তর:
প্রথমে আপনার বর্ণিত ঘটনার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে আমরা হানাফি ফিকহ অনুযায়ী নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছি:

১. প্রথম বিবাহ ও তালাকনামা সম্পর্কিত বিধান

আপনার প্রথম বিবাহ হয়েছিল (লুকিয়ে হলেও) কাবিন (নিকাহ) সহকারে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ। পরবর্তীতে আপনি স্বামীকে তালাক দেওয়ার জন্য বলেন, এবং তিনি আপনাকে একটি তালাকনামা পাঠান, যাতে আপনি সাইন করেন। কিন্তু তিনি পরে দাবি করেন যে তিনি সাইন করেননি এবং মুখেও তালাক দেননি।

হানাফি ফিকহ অনুসারে:

  • লিখিত তালাক তখনই কার্যকর হয় যখন স্বামী নিজ হাতে লিখে বা স্বাক্ষর করে স্পষ্টভাবে তালাকের ইচ্ছা প্রকাশ করে। যদি তিনি স্বাক্ষর না করেন বা অস্বীকার করেন, তবে লিখিত তালাক শুদ্ধ হয় না। (রদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তালাক, বাবুত তালাক বিল কিতাবা)
  • যেহেতু তিনি মুখেও তালাক দেননি এবং তালাকনামায় তার স্বাক্ষর ছিল বলে প্রমাণিত নয়, তাই সে তালাক সংঘটিত হয়নি। বরং প্রথম বিবাহ অক্ষুণ্ন ছিল।

২. দ্বিতীয় বিবাহের বৈধতা

প্রথম বিবাহ ভঙ্গ না হওয়ায় আপনি তখনও প্রথম স্বামীর স্ত্রী হিসেবে গণ্য হন। এরূপ অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করা সম্পূর্ণ হারাম ও বাতিল (অবৈধ)। কেননা:

  • ইদ্দত পালন করা তো দূরের কথা, বিবাহই বৈধ ছিল না।
  • হানাফি ফিকহে নারী যদি বিদ্যমান বিবাহ থাকা অবস্থায় অন্যত্র বিবাহ করে, তবে সে বিবাহ আদৌ সংঘটিত হয় না এবং তা বিবাহবিচ্ছেদযোগ্য নয়; বরং তা বাতিল (ব্যাটিল) বলে গণ্য হয়। (ফতোয়া আলমগিরি, ১/৩৪১; রদ্দুল মুহতার, ৩/৭৮)
  • আপনি উল্লেখ করেছেন যে ইদ্দত পালন করেছেন কিনা স্মরণ নেই। যেহেতু প্রথম তালাকই সংঘটিত হয়নি, তাই ইদ্দতের প্রশ্ন আসে না।

অতএব, আপনার দ্বিতীয় বিবাহ মোটেই বৈধ হয়নি এবং তা ভঙ্গ করা আবশ্যক।

৩. সর্বশেষ ফোন কলের মাধ্যমে তালাক

গতকাল রাতে প্রথম স্বামী আপনাকে ফোনে তিন তালাক দিয়েছে, তার পক্ষ থেকে একজন সাক্ষী এবং আপনার পক্ষ থেকে আপনার বর্তমান স্বামীর দুজন সাক্ষী রাখা হয়েছে।

  • ফোনের মাধ্যমে তালাক হানাফি মাজহাবে বৈধ এবং কার্যকর হয় যদি স্বামী স্পষ্টভাবে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে এবং স্ত্রী তা শুনে বুঝতে পারে। (ফতোয়া উসমানী, ২/১৮৭; ইমদাদুল ফতোয়া, ২/৪৪০)
  • সাক্ষীদের উপস্থিতি তালাক শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত নয়, বরং প্রমাণের জন্য। এখানে সাক্ষী থাকায় এটি অধিকতর সুপ্রমাণিত।

যেহেতু প্রথম বিবাহ এখনও বিদ্যমান ছিল (কারণ পূর্বের তালাকনামা কার্যকর হয়নি), তাই এই তিন তালাক শুদ্ধ হয়েছে এবং তা একবারেই তিন তালাক হিসেবে গণ্য হবে। এটি তালাকে বায়িন (অপরিবর্তনীয়) এবং এর ফলে আপনার প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে।

৪. বর্তমান করণীয়

  • অবিলম্বে দ্বিতীয় স্বামী থেকে পৃথক হোন: দ্বিতীয় বিবাহটি বাতিল হওয়ায় তার সাথে সম্পর্ক রাখা হারাম। আপনাকে অবিলম্বে ত্যাগ করতে হবে।
  • ইদ্দত পালন করুন: প্রথম স্বামীর দেওয়া এই তালাকের পর আপনাকে পূর্ণ ইদ্দত (তিন হায়জ বা তিন মাস) পালন করতে হবে। ফোনে তালাক দেওয়ার তারিখ থেকে ইদ্দত গণনা শুরু হবে।
  • ভবিষ্যৎ: ইদ্দত শেষে আপনি অন্য কাউকে বিবাহ করতে পারবেন। তবে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ করতে চাইলে ইদ্দতের পর নতুন করে নিকাহ করতে হবে, কিন্তু সেক্ষেত্রে এ বিষয়ে বিস্তারিত মাসআলা জানার জন্য কোনো মুফতির পরামর্শ নিন।

গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • আপনার এ পরিস্থিতিতে প্রবল বিভ্রান্তি ও গুনাহের আশঙ্কা রয়েছে। অতএব, তওবা ও ইস্তেগফার করুন এবং ভবিষ্যতে শরিয়তের বিধান মেনে চলার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হোন।
  • সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে নিকটস্থ কোনো বিশ্বস্ত মুফতি বা ইসলামি স্কলারের কাছে সরাসরি বিষয়টি উপস্থাপন করা, যাতে তিনি আপনার পূর্ণ অবস্থা শুনে ফতোয়া প্রদান করতে পারেন।

সংক্ষিপ্ত উত্তর:
হ্যাঁ, গতকাল রাতে ফোনে প্রথম স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত তিন তালাক শুদ্ধ হয়েছে। তবে আপনার দ্বিতীয় বিবাহ আদৌ বৈধ ছিল না, তাই তা ভঙ্গ করা আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে ক্ষমা করুন এবং সরল পথ দেখান।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:

  • রদ্দুল মুহতার (কিতাবুত তালাক)
  • ফতোয়া উসমানী (তালাক অধ্যায়)
  • ইমদাদুল ফতোয়া (২/৪৪০)
  • ফতোয়া আলমগিরি (১/৩৪১)
  • বেহেশতি জেওর (বিবাহ-তালাক অধ্যায়)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.