প্রতারণা করে ভালো কাজ করা।
Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi
Question
Answer
উত্তর:
প্রশ্নে উল্লেখিত প্রতিযোগিতায় প্রতারণা (চিটিং) করা স্পষ্ট হারাম। কারণ এটি বিশ্বাসঘাতকতা ও মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে কিয়ামতের দিন প্রতারণার বোঝা নিয়ে আসবে।" (সূরা আলে ইমরান ৩:১৬১)
এছাড়া রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (মুসলিম: ১০১)
প্রতিযোগিতার শর্ত ছিল আল্লাহকে সাক্ষী রেখে সততার সাথে অংশগ্রহণ। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণা করা হারাম এবং গুনাহের কাজ।
১. প্রতারণার মাধ্যমে উমরার টিকিট জয় করা:
এই টিকিট হারাম উপায়ে অর্জিত। কারণ এটি প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া পুরস্কার। ইসলামে হারাম উপার্জন বা হারাম সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়া নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন:
"তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।" (সূরা বাকারা ২:১৮৮)
শায়খ ইবনু বায (রহ.) বলেন:
"হারাম উপায়ে অর্জিত বস্তু ব্যবহার করা জায়েয নয়। এমন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করবে।" (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৯/৪০০)
শায়খ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:
"প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির মাধ্যমে কোনো কিছু লাভ করলে তা হারাম। সেটি ভোগ করা জায়েয নেই।" (আল-মুনতাকা ২/২৪২)
২. উমরা আদায় হবে কি?
হ্যাঁ, উমরা আদায় হবে যদি এর শর্তসমূহ (ইহরাম, তাওয়াফ, সা‘ঈ, হালক/তাকসীর) পূর্ণ হয়। তবে:
- পাপ থেকে যাবে প্রতারণার কারণে।
- উমরা নিজেই একটি ইবাদত। কিন্তু হারাম উপায়ে সফর করলে ইবাদতের পূর্ণতা ও কবুলিয়্যাতে প্রভাব পড়তে পারে।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন:
"হারাম খাদ্য-পানীয় ইবাদতের কবুলিয়্যাতে বাধা সৃষ্টি করে। যদিও ইবাদতটি শারীরিকভাবে সহীহ হয়।" (মাদারিজুস সালিকীন ১/৪০৯)
শায়খ আলবানী (রহ.) বলেন:
"হারাম উপার্জন দ্বারা হজ্জ-উমরা করলে গুনাহ থেকে যায়, তবে হজ্জ আদায় হবে। কিন্তু এর সওয়াব কম হতে পারে।" (সিলসিলা হুদা ওয়া নূর: ১৮৬)
গুরুত্বপূর্ণ: তওবা করা আবশ্যক। তওবা না করলে উমরা হলেও পাপ মাফ হবে না।
৩. দু‘আ কবুলের সম্ভাবনা:
দু‘আ কবুলের জন্য পবিত্র উপার্জন ও তাকওয়া জরুরি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"তোমরা পবিত্র খাদ্য গ্রহণ কর, তাহলে তোমাদের দু‘আ কবুল হবে।" (তিরমিযী: ২৫২৪, সহীহ)
হারাম উপায়ে ভ্রমণ করলে ব্যক্তি নাফসে হারাম (হারাম উপার্জন)-এর অধিকারী হয়। ফলে দু‘আ কবুলের পথে বাধা আসতে পারে। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:
"যার উপার্জন হারাম, তার দু‘আ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।" (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২১/৫৮)
তবে আল্লাহর দয়া সীমাহীন। তওবা ও ইস্তিগফার করলে আল্লাহ মাফ করতে পারেন। কিন্তু প্রতারণা বজায় রেখে দু‘আর আশা করা ঠিক নয়।
৪. করণীয়:
১. তওবা করা - প্রতারণার জন্য অনুতপ্ত হওয়া, ভবিষ্যতে না করার সংকল্প করা।
২. পুরস্কার গ্রহণ না করা - সম্ভব হলে টিকিট ফেরত দেওয়া অথবা তার মূল্য দান করা।
৩. উমরা সম্পন্ন করলে - এর জন্য দ্বিগুণ তওবা ও ইস্তিগফার করা।
শায়খ ইবনু উসাইমীন (রহ.) বলেন:
"যে ব্যক্তি হারাম উপায়ে হজ্জের টিকিট জয় করে, সে যদি হজ্জ করে, তবে হজ্জ আদায় হলেও তার পাপ থেকে যায়। বরং তার উচিত তওবা করে পুরস্কার ত্যাগ করা।" (আশ-শারহুল মুমতি‘ ৭/২৭)
সারসংক্ষেপ:
- প্রতারণা করা হারাম ও গুনাহ।
- উমরা আদায় হবে কিন্তু সওয়াব কম হবে ও পাপ থেকে যাবে।
- দু‘আ কবুলের সম্ভাবনা কম কিন্তু আল্লাহ চাইলে মাফ করতে পারেন।
- তওবাই একমাত্র পথ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন।
ওয়াল্লাহু আ‘লাম।