পাক ও নাপাক কাগজ একসাথে রাখার বিধান জানতে চাই?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Questioner: Amina Akter
Question Asked: 01 Jun 2026, 07:52 PM
Reviewed & Published: 01 Jun 2026, 07:55 PM
Views: 49
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার বাবায় দলিল পত্রের কাজ করতো উনি মারা গেছে। এখন কার কার দলিল আছে আমরা জানিনা এইসম্পর্কে আমি বুঝিনা। সেই দলিলগুলোতে বিভিন্ন মানুষের নাম থাকে সেই নামের ভিতরে আব্দুল মান্নান, আব্দুর রহমান, মো সাইফুল ইসলাম, নজির আহমেদ লিখা থাকার সম্ভাবনা বেশী এগুলো তো আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ উনাদের নাম। এগুলোর মধ্যে ইদুর, টিকটিকি তেলাপোকা পায়খানা করে ইদুর কেটে ফেলে। এগুলোর মধ্যে অন্য মানুষের প্রয়োজনীয় দলিলপত্র কাগজ আছে। বাবার পরিচিত একজন লোক ছিল সে দলিল সম্পর্কে বুঝে সে নাকি দেখবে অন্য মানুষের দলিল পত্রের বেপারে। এখন এগুলো দুইতে গেলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এগুলো ঝাড়া বা একটার সাথে হালকা বাড়ি দিয়ে অন্য কোনো বস্তায় রাখলে কি হবে।বস্তায় রাখলে তার উপরে নাপাকি করতে পারে ভিতরে কাগজে লাগবে কিনা জানিনা।এখন ভিতরে কাগজ পড়ে দেখতে গেলে সময় লাগবে অনেক আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ নামের সাথে অন্যন্য নাম এবং অমুসলিমের নাম একসাথে রাখলে ইমানে সমস্যা হবে কি বা গোনাহ হবে কি।এ বিষয়ে নিচে ক,খ ও গ আকারে প্রশ্ন দেওয়া হলো।

ক)এগুলো মানুষের দলিল পত্র দুইলে তো নষ্ট হয়ে যেতে পারে সম্ভাবনা রয়েছে নষ্ট হওয়ার এখন যদি নাপাকি লেগে শুকিয়ে যায় দাগ থাকে হালকা করে ঝেড়ে বস্তায় রেখে দিলে হবে পাক কাগজের সাথে ?

খ)সব কাগজে তো আর নাপাকি লাগে না আবার শিওর না যদি সব পাক নাপাক একসাথে রাখি গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?

গ)বস্তায় ভড়ে দলিলপত্র যেখানে শুকনা নাপাকি আছে আলমারি বা কোনো কিছুর উপরে রাখলাম বলতে একবারে উপরে খালি যায়গায়। নিচে কোরআন হাদিসে কিতাব আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম থাকে নিচে বলতে আলমারির ভিতরে বা ওয়ারড্রপ এর ভিতরে আবরন থাকবে বা ইমানে সমস্যা হবে কি?

Answer

উত্তর প্রদান

প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে। নিম্নে কুরআন, হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে প্রতিটি অংশের উত্তর প্রদান করা হলো।


প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:

প্রশ্নকারীর বাবা দলিলপত্রের কাজ করতেন। তিনি মারা যাওয়ায় এখন বিভিন্ন মানুষের দলিলপত্র (যাতে আব্দুল মান্নান, আব্দুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ইত্যাদি নাম আছে) ইদুর-টিকটিকি-তেলাপোকার নাপাকিতে নষ্ট হচ্ছে। তিনি জানতে চান:

ক) নাপাকি লেগে শুকিয়ে গেলে হালকা ঝেড়ে বস্তায় রাখলে কাগজ পাক হবে কি?
খ) সব কাগজে নাপাকি নিশ্চিত না হলে পাক-নাপাক একসাথে রাখলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
গ) নাপাকিযুক্ত দলিলপত্র বস্তায় ভরে আলমারির উপরে রাখলে নিচের কোরআন-হাদিসের কিতাবের কারণে ঈমানের সমস্যা হবে কি?


ক) নাপাকি লেগে শুকিয়ে গেলে হালকা ঝেড়ে বস্তায় রাখা

উত্তর:

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, ভেজা বা শুকনো যেকোনো নাপাক (পায়খানা, প্রস্রাব, রক্ত ইত্যাদি) দূর করার জন্য পানি দিয়ে ধোয়া আবশ্যক। শুধু ঝেড়ে ফেললে বা শুকিয়ে গেলেও নাপাকি দূর হয় না। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৮)

  • দলিলপত্র যদি পানিতে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে সেগুলোকে পাক করার জন্য পানি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে নাপাকি লেগেছে এমন অংশ কেটে ফেলা বা কাগজটি পুড়িয়ে ফেলা উত্তম। তবে যদি সেটি অমুসলিমের দলিল হয় এবং ফেরত দেওয়া জরুরি হয়, তবে তা নাপাক অবস্থায়ই ফেরত দেওয়া যায় (কারণ অমুসলিমের জন্য নাপাকি বাধ্যতামূলক নয়)।

  • বিকল্প নিয়ম: কাগজের নাপাকি অংশে মাটি বা ছাই দিয়ে ঘষে নিলেও নাপাকি দূর হয় না। তবে যদি নাপাকি শুকনো থাকে এবং তা অন্য বস্তুতে না লাগে, তাহলে কাগজটি শুকনো অবস্থায় পাক কাগজের সাথে রাখা জায়েজ আছে, তবে উত্তম হলো নাপাকি কাগজ আলাদা করে পলিথিনে মুড়ে রাখা।

সিদ্ধান্ত:
নাপাকি শুকিয়ে গেলেও তা পাক হয় না। তাই হালকা ঝেড়ে সেটা পাক হবে না। বরং:

  • যদি সম্ভব হয়, নাপাকি অংশ কেটে ফেলুন বা পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • যদি সম্ভব না হয়, তবে কাগজটি নাপাক অবস্থায়ই বস্তায় রাখুন, কিন্তু সতর্ক থাকুন যেন পাক কাগজে নাপাকি না লাগে।

খ) পাক ও নাপাক কাগজ একসাথে রাখা

উত্তর:

ইসলামী ফিকহে নাপাকি ও পাক বস্তু একসাথে রাখা জায়েজ, তবে শর্ত হলো নাপাকি যেন পাক বস্তুতে স্থানান্তরিত না হয়। (আল-হিদায়া, ১/৪৫; ফাতাওয়া উসমানী, ২/১২০)

  • ঈমানের সমস্যা: পাক-নাপাক একসাথে রাখার কারণে ঈমানের কোনো ক্ষতি হয় না, কারণ ঈমান আকীদার সাথে সম্পৃক্ত, পবিত্রতার সাথে নয়।
  • গোনাহের সম্ভাবনা: যদি কেউ জেনেশুনে নাপাকি কাগজের সংস্পর্শে পাক কাগজ রাখে এবং পরে পাক কাগজ ব্যবহার করে (যেমন নামাজে) তবে গোনাহ হবে না, যদি না পাক কাগজ নাপাক হয়।
  • সতর্কতা: যেহেতু নাপাকি নিশ্চিত নয়, তাই সন্দেহের ভিত্তিতে সব কাগজকে নাপাক গণ্য করা যাবে না। ইসলামী মূলনীতি: "পবিত্রতা মূল, নাপাকি সন্দেহ সাপেক্ষ" (ইবনে আবিদীন, ১/৪২)। তাই পাক কাগজকে পাকই গণ্য করুন, নাপাক কাগজ আলাদা করুন।

সিদ্ধান্ত:
পাক ও নাপাক কাগজ একসাথে রাখলে গোনাহ বা ঈমানের সমস্যা হবে না, তবে নাপাকি যাতে পাক কাগজে না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখা ওয়াজিব।


গ) নাপাকিযুক্ত দলিলপত্র বস্তায় ভরে আলমারির উপরে রাখা এবং নিচে কোরআন-হাদিসের কিতাব থাকা

উত্তর:

কোরআন, হাদিস ও পবিত্র নামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ফরজ। নাপাক বস্তুকে পবিত্র বস্তুর উপর রাখা মাকরূহে তাহরীমা (নিষিদ্ধের কাছাকাছি) হতে পারে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫৮; রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭০)

  • ঈমানের সমস্যা: নাপাকি বস্তু পবিত্র বস্তুর উপরে রাখার কারণে ঈমান নষ্ট হয় না, তবে এটি অগ্রহণযোগ্য আচরণ এবং গোনাহ হতে পারে।
  • শর্ত: যদি বস্তায় নাপাকি এমনভাবে থাকে যে তা নিচের কিতাবে লাগার সম্ভাবনা নেই (যেমন বস্তার তলদেশ মোটা এবং নাপাকি শুকনো), তাহলে তা জায়েজ আছে। তবে উত্তম হলো নাপাকি বস্তু আলমারির নিচের তাকে না রেখে পৃথক স্থানে (যেমন অন্য আলমারি বা বাক্সে) রাখা।
  • বিশেষ ক্ষেত্রে: যদি নাপাকি কাগজে আল্লাহ, রাসূল (সা.)-এর নাম বা কুরআনের আয়াত থাকে, তাহলে সেগুলোকে নাপাক অবস্থায় রাখা বা পোড়ানো মাকরূহ। সেক্ষেত্রে নামগুলোকে কেটে আলাদা করে একটি পবিত্র কাপড়ে মুড়ে মাটিতে পুঁতে ফেলা বা প্রবাহিত পানিতে ফেলা উচিত। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/১৫০)

সিদ্ধান্ত:
নাপাকিযুক্ত বস্তা আলমারির উপরে রাখলেও ঈমানের সমস্যা হবে না, তবে সম্মান রক্ষার্থে কোরআন-হাদিস ও পবিত্র নামের কিতাব যেখানে আছে তার উপরে নাপাকি বস্তু না রাখাই শ্রেয়। বরং:

  • নাপাকি বস্তা পৃথক স্থানে রাখুন।
  • যদি সম্ভব হয়, নাপাকি কাগজ থেকে পবিত্র নামগুলো কেটে আলাদা করে সম্মানের সাথে সংরক্ষণ করুন।
  • নাপাকি কাগজ পোড়ানো বা ফেলে দেওয়ার আগে নিশ্চিত হোন যে এতে অন্য কারো অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে না।

সামগ্রিক পরামর্শ:

১. নাপাকি কাগজ শনাক্তকরণ: দলিলপত্রগুলো আলাদা করে দেখুন। যেসব কাগজে নাপাকি স্পষ্ট, সেগুলো পলিথিনে মুড়ে আলাদা বস্তায় রাখুন।
২. পবিত্র নাম সংরক্ষণ: কাগজে ‘আল্লাহ’, ‘রাসূল’, ‘আব্দুল্লাহ’, ‘আব্দুর রহমান’ ইত্যাদি নাম থাকলে সেগুলো কেটে একটি পবিত্র কাপড়ে মুড়ে মাটিতে পুঁতে দিন বা পবিত্র স্থানে রেখে দিন
৩. অন্য মানুষের দলিল: অমুসলিম বা অন্য মুসলিমের প্রয়োজনীয় দলিলপত্র নাপাক অবস্থায় ফেরত দেওয়া জায়েজ। তবে সম্ভব হলে পরিষ্কার করুন।
৪. বিশেষজ্ঞের সাহায্য: বাবার পরিচিত লোকটি যদি বিশ্বস্ত হন, তবে দলিলপত্র বুঝে ফেরত দেওয়ার জন্য তার সাহায্য নিন।

আল্লাহ তাআলা আপনার সহায় হোন এবং আপনাকে সঠিক পথ দেখান। (আমিন)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.