অলস ও ধৈর্যহীন ব্যক্তি কী বেশি সন্তান নেবে না কম নিয়ে উত্তমভাবে গড়ে তুলবে?
Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi
Question
Answer
উত্তর:
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: “তোমরা বেশি বেশি সন্তান-সন্ততি লাভকারী নারীদের বিবাহ করো, কারণ আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের (উম্মতের) সংখ্যাধিক্যের গর্ব করবো।” (আবু দাউদ, নাসাঈ, সহীহ ইবনে হিব্বান; শাইখ আলবানী সহীহ বলেছেন)
এ হাদীস থেকে স্পষ্ট যে, সক্ষমতা থাকলে অধিক সন্তান গ্রহণ করা মুস্তাহাব (উত্তম) এবং তা নবী (ﷺ)-এর গৌরবের কারণ হবে। তবে এখানে সক্ষমতা একটি শর্ত। আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু আপনি অলস ও ধৈর্যহীন, এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করাই কঠিন মনে করেন, তাই আপনাকে প্রথমে নিজের ঈমান ও আমলকে মজবুত করতে হবে। সন্তান লালন-পালন একটি বড় দায়িত্ব। কুরআনে বলা হয়েছে: “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।” (সূরা তাহরীম ৬)
আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয় হলো যে ব্যক্তি কম সন্তান হলেও তাদেরকে সঠিকভাবে শরীয়ত মোতাবেক তালীম ও তরবিয়ত দেয় এবং নিজের নামায-রোযা ঠিক করে। অধিক সন্তান নিয়ে তাদের প্রতি অবহেলা করা অপেক্ষা কম সংখ্যক সন্তানকেই প্রকৃত মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলা উত্তম।
শাইখ ইবনু বায (রহ.) বলেছেন: “সন্তানের সংখ্যা নয়, বরং তাদের দ্বীনী শিক্ষা ও তাকওয়ার দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি।” (মাজমু ফাতাওয়া)
শাইখ উসাইমীন (রহ.) বলেন: “যে ব্যক্তি নিজের নামায ও ইবাদতে দুর্বল, তার উচিত প্রথমে নিজেকে সংশোধন করা, অতঃপর সন্তানের দায়িত্ব নেওয়া।” (লিকা আল-বাব আল-মাফতুহ)
সুতরাং আপনার জন্য উত্তম হবে:
- নিজের নামাযসহ ফরয ইবাদত ঠিক করার প্রচেষ্টা করা। নামাযের মাধ্যমেই বাকি কাজ সহজ হয়।
- সন্তানের সংখ্যা ২/৩ পর্যন্ত সীমিত রাখা এবং তাদেরকে পূর্ণ ইসলামী শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে মনোযোগী হওয়া।
- সামর্থ্য বাড়লে ও দ্বীনে দৃঢ় হলে পরে আরও সন্তান নেওয়ার নিয়ত করা যেতে পারে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন।