অহংকার ছাড়া সাধারণ অবস্থায় কাপড় ঝুলিয়ে পরা ?
Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi
Question
বিস্তারিত দেখুন: শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেছেন:
ومن لم ير بذلك باسا احتج بقول النبي ﷺ لأبي بكر: "إنك لست ممن يفعل ذلك خيلاء«وعن أبي وائل أن ابن مسعود رأى رجلا قد أسبل إزاره فقال له:»ارفع فقال له الرجل وأنت يا ابن مسعود فارفع إزارك فقال عبد الله إني لست مثلك أن لساقي حموشة وأنا أؤم الناس فبلغ ذلك عمر بن الخطاب فاقبل على الرجل ضربا بالدرة وقال أترد على ابن مسعود أترد على ابن مسعود
আর যাঁরা এতে (অহংকার ছাড়া কাপড় ঝুলিয়ে পরায়) কোনো সমস্যা বা ক্ষতি মনে করেন না, তাঁরা দলিল হিসেবে নবী ﷺ-এর সেই বাণীটি পেশ করেন যা তিনি আবু বকর (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: "তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও যারা অহংকারবশত এমনটা করে।" আবু ওয়ায়েল থেকে বর্ণিত, ইবনে মাসউদ (রা.) এক ব্যক্তিকে তার ইজার (লুঙ্গি বা নিচের কাপড়) ঝুলিয়ে পরতে (ইসবাল করতে) দেখে বললেন: "তোমার কাপড় ওপরে তোলো।" লোকটি পাল্টা জবাবে বলল: "আর আপনি, হে ইবনে মাসউদ! আপনিও তো আপনার কাপড় ওপরে তুলতে পারেন!" আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) জবাবে বললেন: "আমি তো তোমার মতো নই; আমার পায়ের নলা দুটি খুবই চিকন, আর আমি মানুষের ইমামতি করি (সালাত পরিচালনা করি)।" পরবর্তীতে এই ঘটনা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর কানে পৌঁছালে, তিনি ওই লোকটির দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাকে চাবুক (দরা) দিয়ে পিটাতে লাগলেন। তিনি রাগান্বিত হয়ে বলছিলেন: "তুমি ইবনে মাসউদের কথার ওপর পাল্টা উত্তর দাও?! তুমি ইবনে মাসউদের কথার ওপর পাল্টা উত্তর দাও?! (এটি ইবনে আবী শাইবাহ (২৫৩১৩) প্রায় একই শব্দে বর্ণনা করেছেন)
ولأن الأحاديث أكثرها مقيدة بالخيلاء فيحمل المطلق عليه وما سوى ذلك فهو باق على الإباحة وأحاديث النهي مبنية على الغالب والمظنة وإنما كلامنا فيمن يتفق عنه عدم ذلك.
যেহেতু এ বিষয়ের অধিকাংশ হাদিসই 'অহংকার'-এর শর্তের সাথে সীমাবদ্ধ বা শর্তযুক্ত (مقيدة), তাই নিঃশর্ত বা সাধারণ (المطلق) নির্দেশগুলোকে এই শর্তের আলোকেই ব্যাখ্যা করতে হবে (অর্থাৎ যেখানেই টাখনুর নিচে কাপড় পরার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত হাদিস এসেছে, তা অহংকারের সাথে যুক্ত)। আর অহংকার ছাড়া সাধারণ অবস্থায় কাপড় ঝুলিয়ে পরা বৈধতার (مباح) ওপরই বহাল থাকবে। কেননা, নিষেধাজ্ঞার হাদিসগুলো মূলত সাধারণত ঘটে থাকা স্বাভাবিক অবস্থা এবং অহংকারের প্রবল আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করে বর্ণিত হয়েছে। আর আমাদের আলোচনা কেবল ওই ব্যক্তির ব্যাপারে, যার ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃতভাবে বা স্বাভাবিকভাবে এমনটা ঘটে যায় (অর্থাৎ যার মধ্যে অহংকারের কোনো উদ্দেশ্য থাকে না)। [শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - ২/৩৭০-৩৭১— ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু ৭২৮ হি.)]
আমি (ইকরামুজ্জামান রুকন) বলি: ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ মুতলাক আর মুকাইয়্যাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন তাই আমি দ্বিতীয়বার এখানে আলোচনা পেশ করছি না। তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করতে চাই, যে ব্যক্তি জেদ ধরে বলে, আমার মধ্যে কোন অহংকার নেই, এ কারণেই আমি টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করি। তাহলে তার এই একঘেয়েমি জেদ নিজেই অহংকার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আর কোন সাধারণ মানুষ তার সকল দিক বিবেচনা করে এটা নির্ণয় করতে সক্ষম নয় যে তার মধ্যে আদৌও কোন ক্ষেত্রে অহংকার রয়েছে নাকি নেই। এ কারণে সাধারণত এর জন্য আমাদের দাওয়াত এটাই থাকবে তারা যেন টাখনুর উপরেই কাপড় পরিধান করে। কারণ কোন বেনামাজি ব্যাক্তি যদি আমাকে এ বিষয়ে বলে, যে আমার কোন অহংকার নেই এ কারণে আমি টাখনুর নিচে কাপড় পড়তে চাই, তাহলে তার এ কথা আমি বিশ্বাস করি না উদাহরণস্বরূপ এক ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেনা, ইচ্ছাকৃতভাবেই সে (সেটা তার ওপর ফরজ এটা জানার পরেও জেদ ধরে) সেটা ত্যাগ করে, এবং বলে আমার কবরে আমি যাব, তোমাকে আমাকে নিয়ে মাথা ব্যথা করতে হবে না। বা সালাত কোন জরুরী জিনিস নয়। ঈমান ঠিক থাকলে সব ঠিক। অধিকাংশ মানুষ এরকম কথা বলে। অথচ সালাতের গুরুত্ব সম্পর্কে তাদেরকে নিয়মিতভাবে জানানো হয়
এগুলো জানার পরেও যে নিয়মিতভাবে সালাত ত্যাগ করছে সেই অহংকারী। আর এই অহংকারবশত ত্যাগ করা, এবং সালাত ত্যাগ করার ভয়াবহ বিধান সম্পর্কে জানার পরেও যে সালাত আদায় করবে না সে মূলত আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আদেশকেই অমান্য করল (তার জেদের ভিত্তিতে) আর এটা তো সালাতকে অস্বীকারবশত ত্যাগ করার শামিল। আর যে (ইচ্ছাকৃতভাবে অহংকারের বর্ষীভূত হয়ে) আল্লাহ এবং তার রাসূলের আদেশ ও নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করল সে এমন বড় কুফরি করলো যা তাকে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়। কিন্তু যে ব্যক্তি অবহেলাবশত মাঝে মধ্যে সালাত পড়ে আর যে মাঝে মধ্যে সালাত ত্যাগ করে সে অহংকারী নয়। কারণ সে সে সালাতকে পরিপূর্ণভাবে অস্বীকার করছে না, সে জানে তার ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ। এবং সে এটাও মানে সে মাঝেমধ্যে সালাত ত্যাগ করার কারণে বড় ধরনের গুনাহে লিপ্ত। কবিরা গুনাহে লিপ্ত। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে সে পরিপূর্ণভাবে আদায় করতে সক্ষম হচ্ছেনা। সে নিজে থেকে লজ্জিত এবং সে সে চেষ্টা করছে। তাহলে আমি বলব সে ব্যক্তি অহংকারী নয়। তবে এদের মধ্যে আবার যে ব্যক্তি একটা বলে আমার ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ নয়। মাত্র তিন ওয়াক্ত সালাত ফরজ। অথবা ফজর এবং মাগরিবের সালাত পড়লে আমার জন্য যথেষ্ট বাকি সালাতের কোন দরকার নেই। তাহলে সেও কুরআন, সুন্নাহ এবং মুসলিম উম্মাহর ইজমার বিরোধিতা করে বড় কুফরি করেছে এ কারণে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে। সুতরাং আমাদের পার্থক্যগুলো বোঝা জরুরী।
অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি বেশিরভাগ সময়ই এই ভয়ে টাখনুর উপরে কাপড় পরে যে সে যেন অহংকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে না যায়, এবং সর্বাধিক উত্তম ও সতর্কতাপূর্ণ মত হলো টাখনুর উপরেই কাপড় পরিধান করা, তাহলে সেই ব্যক্তি যদি মাঝেমধ্যে কোনো বাধ্যবাধকতা বা অনিবার্য কারণবশত (যেমন কাপড় আলগা হয়ে বারবার নেমে যাওয়া (যেমনটা আবু বকর রা.-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল) অথবা কোন বৈধ কারণবশত (যেমনটা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর ক্ষেত্রে ঘটেছিল) তা টাখনুর নিচে পরে, কিন্তু নিজের জেদের বসে ইচ্ছাকৃতভাবে তা না করে, তাহলে সে অহংকারী হবে না। কেননা তার মূল অবস্থান ও নিয়মিত আমল হলো সতর্কতাপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করা।
আমাদের বিধান বোঝা জরুরী এবং পার্থক্য বোঝা জরুরী। আমি এ বিষয়ে অসংখ্য ইমামের বক্তব্য পেশ করতে পারব তবে আপাতত জরুরি মনে করছি না। ওয়াল্লাহু আলাম।
লেখা: ইকরামুজ্জামান রুকন.......... 💮❄️
> উপরের আলোচনা কতটুকু ঠিক বা বেঠিক, সবকিছু মিলিয়ে উত্তর দাও।
Answer
উত্তর:
প্রশ্নে উল্লেখিত আলোচনাটি শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ.-এর একটি মতামত তুলে ধরে, যা কিছু সালাফি স্কলার গ্রহণ করলেও অধিকাংশ সালাফি আলেমের (যেমন: ইমাম ইবনে বায, ইমাম আলবানী, ইমাম উসাইমীন, শাইখ সালেহ আল-ফাওজান) মতামতের সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ নয়। নিম্নে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে বিশদ বিশ্লেষণ পেশ করা হলো:
১. টাখনুর নিচে কাপড় পরা (ইসবাল) সম্পর্কে মূল বিধান:
- রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"ما أسفل من الكعبين من الإزار ففي النار"
"টাখনুর নিচে ঝুলন্ত কাপড় জাহান্নামে যাবে।"
(সহীহ বুখারী: ৫৭৮৭; সহীহ মুসলিম: ২০৮৫) - আরও বলেছেন:
"ثلاثة لا يكلمهم الله يوم القيامة ولا ينظر إليهم ولا يزكيهم ولهم عذاب أليم: المسبل إزاره..."
"তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না, এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি: তাদের মধ্যে একজন হলো যে তার কাপড় (অহংকারের সাথে) ঝুলিয়ে পরে।"
(সহীহ মুসলিম: ১০৬; ইবনে মাজাহ: ৪০৩)
২. ‘অহংকার’ শর্তযুক্ত কি না – ইমাম ইবনে তাইমিয়ার মতামত পর্যালোচনা:
- ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন:
অধিকাংশ হাদীসে ‘অহংকার’ (خيلاء) শর্তযুক্ত, তাই অহংকার ছাড়া ইসবাল বৈধ।
কিন্তু অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও ফকীহ (যেমন: ইমাম নববী, ইমাম ইবনে হাজার, ইমাম শাওকানী) বলেন:- হাদীসে ‘অহংকার’ শব্দটি আসলেও মূল নিষেধাজ্ঞা ইসবালের জন্যই, এবং অহংকার একটি সাধারণ কারণ।
- রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাধারণ বক্তব্য: "ما أسفل من الكعبين من الإزار ففي النار" (বুখারী) – এখানে কোনো শর্ত নেই।
- আবু বকর রা.-এর ঘটনা (যে কারণে কাপড় নিচে ছিল) একটি ব্যতিক্রম, যা সাধারণ বিধানের বিপরীতে প্রযোজ্য নয়।
৩. আবু বকর ও ইবনে মাসউদ রা.-এর ঘটনা বিশ্লেষণ:
- আবু বকর রা.-এর কাপড় অনিচ্ছাকৃতভাবে নিচে নেমে গিয়েছিল, আর রাসূল ﷺ তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন: "তুমি অহংকারীদের অন্তর্ভুক্ত নও।"
(সহীহ বুখারী: ৫৭৮৪)
এটি প্রমাণ করে যে ইচ্ছাকৃতভাবে টাখনুর নিচে কাপড় পরা নিষিদ্ধ, আর অনিচ্ছাকৃত অবস্থা ক্ষমার যোগ্য। - ইবনে মাসউদ রা.-এর ঘটনায় তিনি নিজে টাখনুর উপরে কাপড় পরতেন (কারণ তার পায়ের নলা চিকন ছিল), অথচ অন্যদের ইসবাল করতে দেখে নিষেধ করেছিলেন।
এটি স্পষ্ট করে যে ইসবাল সাধারণ অবস্থায় নিষিদ্ধ, এবং নিজের ওজর থাকলেও তিনি অন্যকে নিষেধ করেছেন।
৪. সালাফি স্কলারদের অভিমত:
- শাইখ ইবনে বায রহ. বলেন:
"ইসবাল হারাম, চাই অহংকার থাকুক বা না থাকুক। কারণ হাদীসগুলি সাধারণ (মুতলাক) এবং কোনো শর্ত ছাড়াই এসেছে। আবু বকর রা.-এর ঘটনা ব্যতিক্রম, যা ইচ্ছাকৃত ইসবালের জন্য প্রযোজ্য নয়।"
(মাজমু‘ ফাতাওয়া: ২৯/৪৩) - শাইখ আলবানী রহ. বলেন:
"অহংকার ছাড়া ইসবাল বৈধ এই মত দলিল দ্বারা সমর্থিত নয়। বরং সহীহ হাদীসে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা এসেছে।"
(সিলসিলা সহীহা: ১৯৩) - শাইখ উসাইমীন রহ. বলেন:
"ইসবাল হারাম, যদিও কেউ মনে করে তার মধ্যে অহংকার নেই। কারণ মানুষ নিজের অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে না।"
(শারহুল মুমতি‘: ৬/১২৫)
৫. ইকরামুজ্জামান রুকনের বক্তব্য মূল্যায়ন:
- তিনি ইমাম ইবনে তাইমিয়ার মতকে সঠিক বলে উপস্থাপন করেছেন, কিন্তু সালাফি স্কলারদের মধ্যে এই মত সংখ্যালঘু।
- তার শেষের সতর্কবাণী (যে সাধারণ মানুষ নিজের অহংকার নির্ণয় করতে পারে না, তাই টাখনুর উপরে কাপড় পরা উচিত) অধিকাংশ সালাফি আলেমের অবস্থানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
- তবে তার সালাত ত্যাগকারীর সাথে তুলনা বিভ্রান্তিকর, কারণ ইসবাল হারাম হওয়ার বিষয়টি ইচ্ছাকৃত সালাত ত্যাগের মতো গুরুতর না হলেও এটি কবীরা গুনাহ।
সঠিক মত:
কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে এবং অধিকাংশ সালাফি স্কলারের ফতোয়া অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে টাখনুর নিচে কাপড় পরা (ইসবাল) হারাম, চাই তাতে অহংকার থাকুক বা না থাকুক।
- ব্যতিক্রম: অনিচ্ছাকৃতভাবে (যেমন: কাপড় আলগা হয়ে পড়ে গেলে) বা চিকিৎসাগত কারণে ইসবাল করলে গুনাহ হবে না, তবে সতর্ক থাকা উচিত।
উপসংহার:
উপরের আলোচনাটি ইমাম ইবনে তাইমিয়ার মতের ওপর ভিত্তি করে লেখা, যা সালাফি ফিকহের মূলধারার সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অধিকাংশ সালাফি আলেমের মতে, টাখনুর নিচে কাপড় পরা সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ, এবং অহংকার ছাড়া বৈধতার পক্ষে দলিল দুর্বল। তবে লেখকের শেষের দিকের সতর্কবাণী (যে সাধারণ মানুষ নিজের অহংকার বুঝতে পারে না, তাই টাখনুর উপরে কাপড় পরা উচিত) গ্রহণযোগ্য।
والله أعلم بالصواب