নাপাক বস্তুকে অপবিত্র অবস্থায় স্থানান্তর করার অনুমতি প্রসঙ্গে
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
ক)আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এবং ইসলামিক লেখা আমাদের বা অন্য মানুষের দলিলপত্র বা অন্যন্যা কাগজ ড্রয়ারে বা অন্য যায়গায় ছিলো নাপাকি লাগছে আমি নাপকি পরিস্কার না করে ইচ্ছাকৃত ভাবে আরেক যায়গায় রাখছি সেখানেও নাপাকি হওয়ার সম্ভাবনা আছে বা আছে কিনা সিওর না। তবে পরে পরিস্কার করবো বা পুড়িয়ে ফেলবো । আমাদের ঘরে মানুষ থাকেনা সবাই ৪-৫ মাস দূরে থাকে আমি একা থাকতাম এখন আমি একমাস ধরে দূরে থাকি। আমাদের ঘরে ইদুর, তেলাপোকা অনেক বেশি যেখানে রাখি নাপাকি করে ফেলতে পারে। যে কাজ আমি করছি আমার ইমানে সমস্যা হবে কি?
খ) আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম লেখা কাগজ তো আর আমি রাখিনি রাখছে অন্যজনে এর দায়ভার কেনো আমার উপর বর্তাবে। এটা নিয়ে খুবই পেরেশান ?
গ)দলিলপত্রে আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম লেখা বা লেখা ছাড়া আনুমানিক দুই বস্তা হবে আমি আবার আগামীকাল চলে যাবো ১০ -১২দিন পরে আসবো এরপরে পরিস্কার করার ইচ্ছা এখন আমার গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রশ্নটির উত্তর নিম্নরূপ দেওয়া হলো:
ক) নাপাক কাগজ সরানো ও ইমানের সমস্যা
আপনার বাবার রেখে যাওয়া দলিলপত্রে নাপাকি (ইদুর, টিকটিকি, তেলাপোকার বিষ্ঠা ইত্যাদি) লেগে থাকলে সেগুলো অপবিত্র হয়েছে। কিন্তু এই কাগজগুলো অন্যদের প্রয়োজনীয় দলিল হওয়ায় সেগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। অপবিত্র অবস্থায় কাগজ সরিয়ে রাখা জায়েজ, তবে তা যেন আরও নাপাক না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। আপনি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নাপাকি পরিষ্কার না করে শুধু স্থানান্তর করেন, তাহলে গুনাহ হবে না যদি পরে পরিষ্কার করার ইচ্ছা থাকে। তবে নাপাকি থাকা অবস্থায় ইসলামিক নাম বা আল্লাহ ও রাসুলের নাম লেখা কাগজকে অসম্মানজনক স্থানে রাখা উচিত নয়। আপনার ইমানের কোনো সমস্যা হবে না, কারণ আপনি এই অবস্থার প্রতিকারের চেষ্টা করছেন এবং অজ্ঞতাবশত বা অসুবিধার কারণে কিছু করছেন। ইচ্ছাকৃতভাবে নাপাকি বা অসম্মান করার সংকল্প না থাকলে ইমানের ক্ষতি হয় না।
হানাফি ফিকহের রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন): নাপাক বস্তুকে অপবিত্র অবস্থায় স্থানান্তর করার অনুমতি রয়েছে যদি সেটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন হয়। তবে অবশ্যই নাপাকি দূর করার চেষ্টা করতে হবে।
- ফাতাওয়া উসমানি: ইচ্ছাকৃতভাবে নাপাকি অপসারণ না করলে গুনাহ হবে, কিন্তু যদি অসুবিধা থাকে বা পরে করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে গুনাহ মাফ হবে।
খ) আল্লাহ ও রাসুলের নাম লেখা কাগজের দায়িত্ব
আপনি নিজে এই কাগজপত্র তৈরি করেননি, বরং আপনার বাবার মাধ্যমে এসেছে। এখন আপনার দায়িত্ব হলো সেগুলোকে সম্মানজনকভাবে সংরক্ষণ করা বা অপবিত্রতা দূর করা। যদি কাগজে আল্লাহ ও রাসুলের নাম থাকে এবং সেটি নাপাক হয়, তবে আপনি সেটি পুড়িয়ে ফেলতে পারেন অথবা কোনো পবিত্র স্থানে (যেমন নদী, পানিতে) ভাসিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু যেহেতু এগুলো অন্যদের দলিল, তাই শুধু নামগুলো কেটে আলাদা করে পুড়িয়ে ফেলুন, বাকি কাগজপত্র তাদের কাছে ফিরিয়ে দিন। আপনার উপর দায়িত্ব এসেছে কারণ আপনি বর্তমান মালিক (উত্তরাধিকারী হিসেবে)। তবে আপনি যদি অক্ষম হন, তাহলে কোনো অভিজ্ঞ লোকের মাধ্যমে কাজটি করাতে পারেন। এতে আপনার গুনাহ হবে না।
হানাফি ফিকহের রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া: পবিত্র নাম লেখা কাগজ নাপাক হলে তা পুড়িয়ে ফেলা বা সমাহিত করা জায়েজ।
- বাহিশতি জেওর: আল্লাহ ও রাসুলের নাম অসম্মানিত হতে দেওয়া জায়েজ নয়, তাই সেগুলো সংরক্ষণ করা আবশ্যক।
গ) ১০-১২ দিন পর পরিষ্কার করার ইচ্ছা
আপনি যদি এখন কাগজগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখেন এবং পরবর্তী তারিখে এসে পরিষ্কার বা পুড়িয়ে ফেলার ইচ্ছা রাখেন, তাহলে বর্তমানে কোনো গুনাহ হবে না। তবে মনে রাখবেন, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করেন এবং এই সময়ে নাপাকি বাড়ে, তাহলে দায়িত্ব বাড়তে পারে। আল্লাহ তাআলা আপনার নিয়তের প্রতি লক্ষ্য রাখবেন। আপনি যে চিন্তিত ও সচেতন, এটি ইমানের ইতিবাচক লক্ষণ।
মা'রিফুল কুরআনের আলোকে:
- "আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যের অতীত দায়িত্ব চাপান না" (সূরা বাকারাহ, ২৮৬)। আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করছেন, তাই অতিরিক্ত চিন্তার প্রয়োজন নেই।
সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ:
- কাগজগুলো নিরাপদ স্থানে সরান: একটি পরিষ্কার বস্তায় আলাদা করে রাখুন, যাতে নাপাকি ছড়িয়ে না পড়ে।
- নাম কেটে আলাদা করুন: আল্লাহ ও রাসুলের নামযুক্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলুন বা যথাস্থানে রাখুন।
- অন্যান্য দলিল: যেসব কাগজ অন্যদের প্রয়োজনীয়, সেগুলো তাদের কাছে পৌঁছে দিন বা সংরক্ষণ করুন।
- পরিষ্কারের ব্যবস্থা: ঘরে ইদুর ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক ব্যবহার করুন।
- ঈমানের চিন্তা করবেন না: আপনার ইমানের কোনো ক্ষতি হবে না, বরং আপনি সতর্কতার চেষ্টা করছেন।
দোয়া:
اللهم تقبل منا إنك أنت السميع العليم
(হে আল্লাহ, আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী)
মুফতি সাহেবের মতামত:
আপনার অবস্থা ও নিয়ত বিবেচনা করে কোনো গুনাহ নেই। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিষ্কারের ব্যবস্থা করুন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।