না বুঝে শিরকি গান গুন গুন করলে ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
Faith and Belief · Hanafi
Questioner:
Rajia Suntana
Question Asked:
02 Jun 2026, 08:45 PM
Reviewed & Published:
02 Jun 2026, 09:24 PM
Views:
30
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম। গানের লাইন, অর্থ না বুঝে যদি শিরকি গান সাউন্ড করে গুন গুন করি তাহলে কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
উত্তর:
অর্থ না বুঝে শিরকি বা কুফরি গানের লাইন গুনগুন করলে ঈমানের কোনো সমস্যা হবে না, যদি আপনি সেগুলোর অর্থ জানেন না বা শিরকি উদ্দেশ্যে না করে থাকেন। তবে এটি গুনাহের কাজ এবং তওবা ও এ অভ্যাস ত্যাগ করা আবশ্যক।
দলিল ও ব্যাখ্যা:
১. হানাফি ফিকহের বিধান:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে, কুফরি বা শিরকি শব্দ উচ্চারণ করলে ঈমান নষ্ট হওয়ার জন্য সেটির অর্থ জানা ও ইচ্ছাকৃতভাবে বলা শর্ত (রদ্দুল মুহতার, ৪/২৪২)।
- আল্লাহ বলেন:
"তোমার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছে, তার প্রতি ঈমান আর যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহতে ঈমান আনে, সে এমন এক মজবুত হাতল ধারণ করল যা কখনো ভাঙবে না।" (সূরা বাকারা, ২:২৫৬)- এখানে শিরকি কাজ ইচ্ছাকৃত ও জ্ঞানপূর্বক হলে ঈমানের পরিপন্থী, অজ্ঞতা বা অনিচ্ছায় করলে তা ভিন্ন।
২. ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মত:
- তারা বলেছেন, যদি কেউ অর্থ না বুঝে কুফরি শব্দ উচ্চারণ করে, তবে তার ঈমান নষ্ট হবে না। কিন্তু শিরকি বা কুফরি শব্দের অর্থ বুঝার পরও যদি তা উচ্চারণ করে, তাহলে ঈমান নষ্ট হবে (ফতোওয়া আলমগীরী, ২/২৫৪; আল-হিদায়া, ২/৩০০)।
৩. মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) এর ব্যাখ্যা:
- তিনি বলেন, "শিরকি গান গাওয়া বা শোনা হারাম। তবে যদি কেউ অর্থ না বুঝে গুনগুন করে, তাহলে তার ঈমান নষ্ট হবে না। কিন্তু তওবা ও গান ত্যাগ করা ফরজ।" (মা’রিফুল কুরআন, সূরা ফুরকানের তাফসির)
গুরুত্বপূর্ণ নোট:
- শিরকি গান শোনা বা গাওয়া নিজেই গুনাহ (সূরা লোকমান ৩১:৬)।
- অর্থ না বুঝলেও সন্দেহজনক কাজ পরিহার করা উত্তম (হাদিস: "যে সন্দেহজনক কাজ পরিহার করল, সে তার দ্বীন ও ইজ্জত বাঁচালো" – বুখারি, মুসলিম)।
- অভ্যাস পরিবর্তন করুন: কুরআন, হামদ-না’ত বা অর্থবোধক ইসলামি গান শোনা/গাওয়া উত্তম।
সারসংক্ষেপ:
- ঈমান নষ্ট হবে না যদি আপনি শিরকি অর্থ না জানেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে না করে থাকেন।
- তবে গুনগুন করা গুনাহ, তাই তওবা করুন এবং এ অভ্যাস ত্যাগ করুন।
- আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করুন।
সর্বোত্তম জ্ঞান আল্লাহরই কাছে।
(রেফারেন্স: ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/২৪; ফাতাওয়া উসমানি, ২/১২০; বাহিশতি জেওর, ২/৩৫)
আল্লাহ আমাদের সবাইকে শিরক ও কুফরি থেকে হেফাজত করুন। (আমিন)