মৃতের দোয়ার মাহফিলে মুখ মিষ্টি করানো কি জায়েজ?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Questioner: NADEEM
Question Asked: 02 Jun 2026, 09:16 AM
Reviewed & Published: 02 Jun 2026, 10:58 AM
Views: 37
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম
সম্মানিত মুফতি সাহেব আমাদের এলাকায় আগে মাইয়াতের বাড়িতে নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করে কুরআনখানি এবং খাওয়া-দাওয়ার খুবই প্রচলন ছিল। কিন্তু বর্তমানে আমরা মানুষকে বোঝানোর পরে এ বিষয়গুলো অনেকটা কমে এসেছে।
দিন নির্ধারণ করে সেরকম ভাবে কোরআন পড়া হয় না ।
বর্তমানে মৃত্যুর কয়েকদিন পর কোন নির্দিষ্ট দিন নির্ধারিত না করে একটা দোয়ার আয়োজন করা হয়। উক্ত দোয়ার মাহফিলে যারা শা ওমিল হয় দোয়া শেষে তাদেরকে মুখ মিষ্টি করানো হয়। এই মুখ মিষ্টি করানোটা শরীয়ত মোতাবেক কতটা জায়েজ এ ব্যাপারে একটু জানাবেন ইনশাআল্লাহ।
বি . দ্র .যারা মিষ্টি জাতীয় জিনিস দেয় তারা বলে এটা দুআ করার জন্য নয় বরং সাধারণ আপ্যায়নের জন্য।

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاتة

আপনার এলাকায় প্রচলিত "মাইয়াতের দোয়ার মাহফিলে মুখ মিষ্টি করানো" বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি নিম্নরূপ:

১. মাইয়াতের জন্য দোয়া ও কুরআন তিলাওয়াত:

  • মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও ইসালে সওয়াব করা শরীয়তসম্মত এবং পুণ্যের কাজ। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট দিন (যেমন ৩য়, ৭ম, ৪০তম) ধার্য করা এবং সেটাকে অনুষ্ঠানের রূপ দেওয়া বিদআত (অপসংস্কৃতি) হিসেবে গণ্য হবে। (রদ্দুল মুহতার, ২/২৪২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৬২)

২. দোয়ার পর মুখ মিষ্টি করানো:

  • মনে করুন, মৃতের জন্য দোয়ার পর উপস্থিত লোকদের মিষ্টি বা খাবার দেওয়া যদি শুধুমাত্র সাধারণ আপ্যায়ন (যেমন: মেহমানদারি) হিসেবে করা হয় এবং একে দোয়ার অংশ বা ইবাদতের রীতি মনে না করা হয়, তবে তা জায়েজ হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এটি সাধারণত দোয়ার আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে যুক্ত এবং একটি রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা শরীয়ত সমর্থন করে না।

৩. বিদআতের শামিল হওয়ার কারণ:

  • রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং সাহাবায়ে কেরাম মৃতের জন্য দোয়ার পর এভাবে সম্মিলিত খাওয়ার আয়োজন করতেন না। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬১২)
  • হানাফী ফিকহের কিতাবে বলা হয়েছে, মৃতের বাড়িতে লোকদের খাওয়ানো বা মৃতের নামে খাবারের আয়োজন করা বিদআত। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২১৮; ফাতাওয়া উসমানী, ৫/৩৫৪)
  • ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ও তার অনুসারীদের মতে, মৃতের জন্য দোয়া করলে সওয়াব পৌঁছে, কিন্তু একত্রিত হয়ে খাবার গ্রহণ বা আপ্যায়নের নিয়ম চালু করা সুন্নতের খিলাফ। (শরহু মাআনিল আসার, ২/২২৪)

৪. প্রশ্নের বক্তব্য: "দুআ করার জন্য নয়, সাধারণ আপ্যায়নের জন্য"

  • যদি সত্যিই শুধু মেহমানদারির নিয়তে মিষ্টি দেওয়া হয় এবং একটি ধারাবাহিক রীতি না থাকে, তবে তা জায়েজ। কিন্তু বর্তমানে সমাজে এটি দোয়ার অনুষ্ঠানের অঙ্গ হয়ে গেছে, তাই বিদআতের আশঙ্কা থেকে বিরত থাকা উচিত।
  • উত্তম পন্থা: মৃতের জন্য দোয়া ও কুরআন তিলাওয়াত ব্যক্তিগতভাবে বা পরিবারের মধ্যে সীমিত রাখা। প্রয়োজনে মৃতের পক্ষ থেকে গোপনে দান-সদকা করা, কিন্তু আয়োজন করে খাওয়ানো পরিহার করা।

ফতোয়া:

  • মৃতের দোয়ার মাহফিলে মুখ মিষ্টি করানো বা খাওয়ানো বিদআত বলেই গণ্য হবে, বিশেষ করে যখন এটি একটি স্বীকৃত রীতি হয়ে দাঁড়ায়। তাই এটি পরিত্যাগ করা কর্তব্য।
  • যদি কেউ অনানুষ্ঠানিকভাবে মিষ্টি বিতরণ করতে চান, তবে দোয়ার পরপরই না করে ভিন্ন সময়ে বা গোপনে করাই উত্তম।

সূত্র:

  • রদ্দুল মুহতার (২/২৪২)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/১৬২)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২১৮)
  • ফাতাওয়া উসমানী (৫/৩৫৪)
  • শরহু মাআনিল আসার (২/২২৪)

وَاللّٰهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.