লেজারের মাধ্যমে মেয়েদের মুখের এবং হাত-পা ও বগলের এবং নাভীর নিচের পসম পার্মানেন্টলি দূর করা যাবে কি না?

Halal and Haram · Hanafi

Questioner: Jannatul Erani
Question Asked: 05 Jun 2026, 10:50 PM
Reviewed & Published: 05 Jun 2026, 11:06 PM
Views: 50
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম
বর্তমান সময়ে লেজারের মাধ্যমে মেয়েদের মুখের এবং হাত ও পায়ের, বগলের নিচের এবং নাভির নিচের পশম পার্মানেন্টলি দূর করা যায়।

উল্লেখ্য ডাক্তারদের কাছে না যেয়ে, আধুনিক ডিভাইসের মাধ্যমে ঘরে বসেই এখন ট্রিটমেন্ট নেওয়া যাচ্ছে।
এক্ষেত্রে পারমানেন্টভাবে পশম দূর করা জায়েজ হবে কিনা?


যদি এভাবে পার্মানেন্টলি পশম দূর করা যায়, তাহলে তখনও কি ৪০ দিন অন্তর বগলের বা নাভির নিচের পশম কাটতে হবে?

Answer

উত্তর প্রদানে:
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

প্রশ্নের উত্তর নিম্নরূপ:

১. লেজার বা আধুনিক ডিভাইসের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে পশম দূর করার বিধান

হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, মহিলাদের জন্য মুখমণ্ডল, হাত-পা, বগল ও নাভির নিচের পশম স্থায়ীভাবে দূর করা জায়েজ। শর্ত হলো:

  • প্রক্রিয়াটি কোনো শরয়ী বাধা (যেমন: গোপনাঙ্গ উন্মুক্ত করা অথবা নামাহরামের কাছে যাওয়া) ছাড়া সম্পন্ন করতে হবে।
  • এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হয়।
  • চেহারার চুল অপসারণের ক্ষেত্রে স্বামী বা সম্ভাব্য স্বামীর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হলে অধিকতর উত্তম।

উল্লেখ্য: বর্তমানে ঘরে বসে প্রাইভেসি সহকারে ব্যবহারযোগ্য ডিভাইস থাকায় এটি সম্পূর্ণ বৈধ।

দলিল:

  • ইমাম ইবন আবিদীন (রহ.) রদ্দুল মুহতার এ উল্লেখ করেন:
    “মহিলাদের জন্য নিজের শরীরের চুল অপসারণ করা জায়েজ; তবে ভ্রু কাটা মাকরুহ যা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন।”
    (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭৩)

  • মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) ইমদাদুল ফাতাওয়া এ বলেন:
    “মহিলাদের জন্য বগল ও নাভির নিচের চুল স্থায়ীভাবে দূর করাতে কোনো দোষ নেই; বরং তা সুন্নতেরই অন্তর্ভুক্ত।”
    (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২২১)

  • আধুনিক ফতোয়ায় মুফতী তকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) লেজার বা আইপিএলের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে পশম দূর করাকে জায়েজ বলেছেন, যদি এটি ক্ষতিকর না হয় এবং গোপনীয়তা রক্ষা করে করা হয়।
    (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৫৪২)

২. স্থায়ীভাবে পশম দূর করলে কি ৪০ দিনের হুকুম বাকি থাকে?

না, যদি পশম সম্পূর্ণরূপে স্থায়ীভাবে দূর হয়ে যায় এবং আর না গজায়, তাহলে ৪০ দিন অন্তর কাটার বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ, এই হুকুমটি পশম থাকার উপর নির্ভরশীল। যদি পশম না থাকে, তাহলে কাটার প্রয়োজনও নেই।

দলিল:

  • হাদীসে এসেছে:
    “নিরাপদ স্বাস্থ্যবিধির অংশ হলো: নাভির নিচের পশম কাটা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা ও গোঁফ ছাঁটা।”
    (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৮)

  • ইমাম নববী (রহ.) শরহুল মুহাজ্জাব এ বলেন:
    “এগুলো করাই সুন্নত; তবে পশম না গজালে বা না থাকলে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।”
    (আল-মাজমূ‘, ১/৩৩২)

মনে রাখবেন:

  • যদি আংশিক পশম থেকে যায় বা পুনরায় হালকাভাবে গজায়, তাহলে সেগুলো ৪০ দিনের মধ্যে অপসারণ করতে হবে।
  • স্থায়ী অপসারণের পরেও যদি কোনো জায়গায় সামান্য চুল দেখা দেয়, তাহলে সেটি নিয়মিত কাটা বা অপসারণ করা কর্তব্য।

উপসংহার:

  • ঘরে বসে লেজার/ডিভাইসের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে পশম দূর করা জায়েজ।
  • সেই স্থানে পশম সম্পূর্ণ না গজালে ৪০ দিনের হুকুম রহিত হবে।
  • গোপনাঙ্গের পশম দূর করার সময় শুধুমাত্র নারী চিকিৎসকের কাছে যাওয়া বা নিজেই ডিভাইস ব্যবহার করা উত্তম।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.