কোরআন হাদিসের কাগজ পোড়ানোর বিধান।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Questioner: Shawon
Question Asked: 02 Jun 2026, 09:12 AM
Reviewed & Published: 02 Jun 2026, 11:00 AM
Views: 44
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

শর্ত : পোড়ানোর সময় কোনো প্রকার অসম্মান যেন প্রকাশ না পায়। যেমন, আগুনে নিক্ষেপ করা, ফেলে দেওয়া, বা পায়ে মাড়ানো—এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।এবেপারে নিচি কওখ আকারে প্রশ্ন দেওয়া হলো?

ক) উপরের প্রশ্নের শর্তের ব্যাপারটা ছিলো কোরআন হাদিস আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম লিখা কাগজ পোড়ানোর ব্যাপারে। এখন আগুনে নিক্ষেপ না করলে পুড়বো কিভাবে?

খ)গর্ত করে সেখানে আস্তে আস্তে নিক্ষেপ করে পুড়লে কি অসম্মান করা হবে কারন আগুনের কাছে গেলে হিট লাগে আবার যদি হাত পুড়ে যায়?

গ)আমাদের বাড়ি থেকে আমনুমানিক ১৫ - ২০ কিলো দূরে হবে ছোট নদীর শাখা। ঐখানে নিয়ে যাওয়া আমার জন্য কষ্টকর বেপার হবে। এখন যদি পোড়াই গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি

Answer

উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد المرسلين، وعلى آله وأصحابه أجمعين

প্রশ্নটি কোরআন-হাদিস ও আল্লাহ-রাসুল (সা.)-এর নাম লেখা কাগজপত্র সম্মানের সাথে পোড়ানো বা ধ্বংস করার পদ্ধতি ও তার বিধান সংক্রান্ত। নিচে প্রতিটি অংশের উত্তর দেওয়া হলো—

ক) আগুনে নিক্ষেপ না করলে কীভাবে পোড়ানো সম্ভব?

শরিয়তে পবিত্র কাগজপত্র (যাতে কোরআনের আয়াত, হাদিস, আল্লাহ-রাসুলের নাম ইত্যাদি থাকে) পোড়ানোর অনুমতি আছে, তবে শর্ত হলো—এমনভাবে পোড়ানো যাতে সম্মানহানি না হয়। যেমন:

  • আগুনে ফেলে দেওয়া (উপেক্ষা করে ছুঁড়ে ফেলা) বা পায়ে মাড়ানো নিষিদ্ধ।
  • সম্মানজনক পদ্ধতি: একটি পরিষ্কার জায়গায় বা গর্ত করে ধীরে ধীরে কাগজগুলো রাখা, তারপর আগুন দেওয়া। অথবা কাগজগুলো ছোট ছোট টুকরো করে পানিতে দ্রবীভূত করা।

হানাফি ফিকহের কিতাবে এসেছে:

"কোরআনের পুরনো কাগজপত্র পোড়ানো জায়েজ, তবে সম্মানের সাথে—যেমন গর্ত করে পোড়ানো বা পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া। আগুনে অসম্মানজনকভাবে নিক্ষেপ করা মাকরুহ।"
(রদ্দুল মুহতার, ১/৪৭৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩২২)

খ) গর্ত করে ধীরে ধীরে নিক্ষেপ করা কি অসম্মানজনক?

না, এটি সম্মানজনক পদ্ধতি। কেননা:

  • গর্তে রাখার ফলে কাগজগুলো ছড়িয়ে পড়ে না, আগুনের তাপও নিয়ন্ত্রিত থাকে।
  • হাত পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে (যা সাধারণত হয় না যদি সাবধানে করা হয়) তা অসম্মানের পর্যায়ে পড়ে না, বরং ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞার অভাব থাকায় তা জায়েজ।
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, পুরনো কোরআন কাগজ আগুনে পোড়ানো জায়েজ যদি উদ্দেশ্য হয় অপমান না করে বিনষ্ট করা। (শরহু মাআনিল আছার, ৩/২৫৯; ফাতাওয়া উসমানি, ৪/৩২১)

গ) নদীতে ফেলতে দূরত্বের কারণে কষ্ট হলে পোড়ানো কি গোনাহ হবে?

না, এটি গোনাহ নয় এবং ইমানের কোনো সমস্যা নেই, যদি নিম্নোক্ত শর্তগুলো পালন করেন:

  1. সম্মানের সাথে পোড়ানো: গর্ত করে বা চুলায় ধীরে ধীরে আগুনে দেওয়া।
  2. ছাই সমাহিত করা: পোড়ানোর পর ছাই কোনো পবিত্র জায়গায় (যেমন বাগান, নদীর তীরে) মাটিচাপা দেওয়া উত্তম।
  3. অন্যথা: নদীতে ফেলা উত্তম কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়।

বিখ্যাত হানাফি ফাতাওয়াগ্রন্থ ফাতাওয়া উসমানি-তে আছে:

"কোরআনের পুরনো কাগজ যদি পোড়ানো বা নদীতে ফেলা কষ্টকর হয়, তবে সম্মানের সাথে পুড়িয়ে ছাই কবর দেওয়া জায়েজ। কোনো গোনাহ নেই।"
(ফাতাওয়া উসমানি, ৪/৩২৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৫১)

উপসংহার:

  • উত্তম পদ্ধতি: নদীতে ফেলা বা মাটি চাপা দেওয়া।
  • সুবিধাজনক পদ্ধতি: গর্ত করে সম্মানের সাথে পোড়ানো।
  • অনুমতি: দূরত্বের কারণে কষ্ট হলে বাড়িতেও পোড়ানো জায়েজ, তবে ছাই অপবিত্র জায়গায় ফেলবেন না।

আল্লাহ তাআলা আমাদের আমল কবুল করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.