ইস্তেখারার পর স্বপ্নে দেখলাম যে, সুসজ্জিত রাস্তায় হাঁটছি এবং অল্প একটু সামনেই জান্নাত, এর ব্যখ্যা কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Questioner: Kitab Potro
Question Asked: 31 May 2026, 12:29 PM
Reviewed & Published: 31 May 2026, 12:31 PM
Views: 50
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আমার এক জায়গায় বিবাহের সম্ভাবনা আছে। এজন্য আমি ইস্তেখারা করেছি। ইস্তেখারার সালাত আদায়ের আগে তাহাজ্জুদের সময় দুই রাকাত সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে চেয়েছি " ইস্তেখারার ফলাফল পেতে অনেক সময় কয়েকবার ইস্তেখারা করা লাগে, আল্লাহ আপনি আমার প্রথম ইস্তেখারাতেই ফলাফল জানিয়ে দিন"। এরপর ইস্তেখারা করার পর পরই আমি জাগ্রত অবস্থায় দেখলাম যেখানে বিয়ে কথাবার্তা চলতেছে ঐ আহলিয়া আর আমি একসাথে একটা সুসজ্জিত রাস্তায় হাঁটতেছি এবং অল্প একটু সামনেই জান্নাত। এরকম জাগ্রত অবস্থায় স্বপ্ন আমি আগে কখনো দেখি নাই। ইস্তেখারা করার পর থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে মনের মধ্যে বিন্দুমাত্র সংশয় আসেনি। বিবাহ ফাইনাল হওয়ার পথে তবে এ স্বপ্নের ব্যখ্যা জানতে চাচ্ছিলাম কোনো আলেম থেকে। জাজাকাল্লাহ খাইরান।

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার ইস্তেখারা ও স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী ইস্তেখারা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল, যার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়। ইস্তেখারার ফলাফল স্বপ্নের মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া জরুরি নয়; বরং ইস্তেখারার মূল উদ্দেশ্য হলো অন্তরে শান্তি, সন্তুষ্টি এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক লাভ করা। আপনার বর্ণিত ঘটনা এবং পরবর্তী মানসিক অবস্থা অত্যন্ত ইতিবাচক। নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:

১. ইস্তেখারার প্রকৃতি ও ফলাফল

  • ইস্তেখারা করা হয় আল্লাহর কাছে কোনো বিষয়ের কল্যাণ চাওয়ার জন্য। ইমাম ইবনু আবেদীন (রহ.) ‘রাদ্দুল মুহতার’ (২/৪২৬) এ উল্লেখ করেছেন যে, ইস্তেখারা করার পর যদি অন্তর কোনো দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং তাতে সন্তুষ্টি অনুভব হয়, তবে সেটাই কল্যাণের লক্ষণ। স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়; বরং মানসিক প্রশান্তি ও সংশয় দূর হওয়াই মুখ্য।

  • আপনার বর্ণনায় বলা হয়েছে, ইস্তেখারার পর থেকে "মনের মধ্যে বিন্দুমাত্র সংশয় আসেনি"—এটাই ইস্তেখারার সুস্পষ্ট ফলাফল। ফকীহগণ বলেন, ইস্তেখারা যদি একবারও করা হয় এবং পরে অন্তর সঠিক সিদ্ধান্তে স্থির হয়, তবে তা-ই কল্যাণের নির্দেশক।

২. স্বপ্নের ব্যাখ্যা

  • আপনি জাগ্রত অবস্থায় যে দৃশ্য দেখেছেন (আপনি ও আহলিয়া সুসজ্জিত রাস্তায় হাঁটছেন এবং সামনে জান্নাত), এটি একটি ‘রু’য়া’ (শুভ স্বপ্ন) হতে পারে। হাদীসে এসেছে, “সত্য স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ” (বুখারী, ৬৫৮৩)।

  • ‘জান্নাত’ ও ‘সুসজ্জিত রাস্তা’ ইঙ্গিত করে যে এই সম্পর্কটি পবিত্র, বরকতময় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হবে। দ্বীনদার ও নেক আহলিয়া বিয়ে করা জান্নাতের পথে সহায়ক। এই স্বপ্ন আপনার অন্তরের প্রশান্তিকে সমর্থন করছে।

  • শায়খুল হাদীস মাওলানা মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভী (রহ.) স্বপ্নের ব্যাখ্যায় বলেন, “যদি স্বপ্ন শরীয়তের অনুকূল হয় এবং তাতে কোনো নিষিদ্ধ বিষয় না থাকে, তবে তা শুভ বলে গণ্য করা হয়।” আপনার স্বপ্ন সম্পূর্ণ ইতিবাচক, তাই এতে উৎসাহিত হওয়া উচিত।

৩. উলামায়ে কেরামের নির্দেশনা

  • মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.) বলেছেন, “ইস্তেখারা করার পর অন্তর যেদিকে আকৃষ্ট হয়, সেটাই উত্তম; স্বপ্ন বা অন্য কোনো চিহ্নের অপেক্ষা করা জরুরি নয়।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/৯৩)

  • মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহু) বলেছেন, “ইস্তেখারার স্বপ্ন কখনো কখনো প্রকাশ পায়, কিন্তু তা শর্ত নয়। মূল বিষয় হলো অন্তরের প্রশান্তি ও সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য দোয়া কবুল হওয়া।”

  • আপনার ক্ষেত্রে ইস্তেখারা, স্বপ্ন ও পরবর্তী মানসিক অবস্থা—সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি সুস্পষ্ট ‘ইস্তিখারাত’ (কল্যাণের নির্দেশনা) বলে গণ্য হবে।

৪. পরামর্শ

  • যেহেতু বিবাহ ফাইনাল হওয়ার পথে এবং আপনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী, তাই এগিয়ে যান। স্বপ্নকে ‘শুভ লক্ষণ’ হিসেবে গ্রহণ করুন, কিন্তু এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।

  • বিবাহের পর দাম্পত্য জীবন দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য দোয়া করতে থাকুন। নিয়মিত ইস্তেখারা ও তাহাজ্জুদের আমল চালু রাখুন।

সংক্ষেপে: আপনার ইস্তেখারা কবুল হয়েছে, স্বপ্নটি কল্যাণের সুসংবাদ, এবং অন্তরের প্রশান্তি ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা আপনার বিবাহকে বরকতময় করুন এবং জান্নাতের পথে পরিচালিত করুন। আমীন।

জাজাকাল্লাহু খাইরান।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.