ইস্তেখারা স্বপ্নের ব্যাপারে

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Questioner: Fauzia Fariha
Question Asked: 05 Jun 2026, 10:43 AM
Reviewed & Published: 05 Jun 2026, 11:13 AM
Views: 35
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ
আমি একজনকে নিয়ে বিয়ের ইস্তেখারা করেছি, এরপর এরকম স্বপ্ন দেখেছি।স্বপ্নে উনিও ছিলেন, স্বাভাবিক ছিলো উনার সাথে সব
১) গতকাল দেখেছি উনার সাথে সবাই বসে আছি।উনার বাবাকে অন্য একটা মেয়ে রক্ত দিয়ে হেল্প করেছে, তাই আমি ভাবলাম যদি উনার বাবা উনাকে ঐ মেয়েকে বিয়ে দিতে বলে।তাই আমি উনাকে ফোন দিই যেনো উনি ঐ ব্যাপারে রাজি না হয়

২))আজ আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমার ভাগ্নির বাচ্চাকে ভাগ্নির জামাই মে*রে ফেলসে।
আবার একই স্বপ্নে দেখলাম আমার আপন মামাতো বোন মারা গেছে, এমন একটা নিউজ পেলাম স্বপ্নে

(পিরিয়ড অবস্থায় দুয়া পড়ে ঘুমিয়েছিলাম)

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاتة

প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, ইস্তিখারা নামাজ ও দোয়া করার পর স্বপ্ন দেখা কোনো শর্ত নয়। ইস্তিখারার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা, এবং তারপর নিজের অন্তরে যে শান্তি বা প্রবণতা সৃষ্টি হয়, তা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া। স্বপ্নকে ইস্তিখারার ফলাফল হিসেবে বাধ্যতামূলকভাবে গণ্য করা ইসলামের শিক্ষা নয়।

স্বপ্নের ব্যাখ্যা ও ইস্তিখারার সাথে সম্পর্ক

আপনার বর্ণিত স্বপ্নগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

১. প্রথম স্বপ্ন: অন্য মেয়ের রক্ত দিয়ে সাহায্য করার ঘটনা। স্বপ্নে রক্ত দেখা সাধারণত সতর্কতা বা কোনো বিষয়ে সন্দেহের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে এটি সরাসরি এই বিয়ে সংক্রান্ত নেতিবাচক ইঙ্গিত নয়। বরং এটি আপনার মনের ভীতি বা চিন্তার প্রতিফলন হতে পারে - যে অন্য কোনো মেয়ের কারণে সম্পর্কে বাধা আসতে পারে।

২. দ্বিতীয় স্বপ্নের ঘটনা: ভাগ্নির সন্তান হত্যা ও মামাতো বোনের মৃত্যু। এ জাতীয় ভয়ঙ্কর স্বপ্ন প্রায়ই শয়তানের পক্ষ থেকে আসে, বিশেষ করে যখন কেউ ভালো কাজের (যেমন বিয়ের) সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। শয়তান মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে সঠিক পথ থেকে সরাতে চায়।

পিরিয়ড অবস্থায় দোয়া পড়ে ঘুমানো

ইসলামী শরিয়তে পিরিয়ড অবস্থায় (হায়েজ) কুরআন তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ, তবে দোয়া, জিকির, ইস্তিখারা দোয়া ইত্যাদি পড়া জায়েজ আছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও হানাফি ফিকহের মতে, হায়েজ অবস্থায় দোয়া ও জিকির করা সম্পূর্ণ বৈধ। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ১/২৯৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৯)

তাই আপনার দোয়া কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না। কিন্তু স্বপ্নের বিষয়টি দোয়া কবুল না হওয়ার ইঙ্গিত নয়।

হানাফি ফিকহের নির্দেশনা

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অন্যান্য হানাফি ইমামদের মতে, ইস্তিখারার পর স্বপ্নের উপর নির্ভর না করে বরং ইস্তিখারার মাধ্যমে অন্তরে যে প্রশান্তি বা অস্বস্তি হয়, তা দেখতে হবে। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) 'রদ্দুল মুহতার' এ বলেন:

"ইস্তিখারার পর স্বপ্নের জন্য অপেক্ষা করা বিদআত; বরং দোয়ার পর যদি কোনো কাজের প্রতি অন্তর প্রশান্ত হয়, তাহলে সেটাই কল্যাণের লক্ষণ।" (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৬৯)

আপনার করণীয়

১. আবার ইস্তিখারা করুন: পবিত্র অবস্থায় (যদি সম্ভব হয়) দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে ইস্তিখারার দোয়া করুন। তারপর অন্তরের অবস্থা লক্ষ করুন। কোন সিদ্ধান্তে শান্তি পান, সেটাই গ্রহণ করুন।

২. স্বপ্নকে ভিত্তি করবেন না: এই স্বপ্নগুলোকে ইস্তিখারার ফলাফল মনে করবেন না। শয়তানের প্ররোচনা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চান।

৩. চিন্তামুক্ত থাকুন: বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তাই স্বপ্নের ভয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, বাস্তবিক দিক থেকে বিচার-বিবেচনা করুন।

৪. পরামর্শ নিন: পরিবারের বড়দের বা অভিজ্ঞ আলেমের সাথে আলোচনা করুন।

উপসংহার

আপনার স্বপ্নগুলো ইস্তিখারার নেতিবাচক ফলাফল বলে গণ্য হবে না। বরং এগুলো শয়তানের প্ররোচনা বা মনের অস্থিরতার প্রতিফলন। হানাফি ফিকহের আলোকে, ইস্তিখারার পর অন্তরের প্রশান্তি বা অস্বস্তিকেই প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পিরিয়ড অবস্থায় ইস্তিখারা দোয়া পড়া জায়েজ আছে এবং তা কবুল হওয়ার পথে বাধা নয়। আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন এবং ভালো বুদ্ধি-বিবেচনার সাথে সিদ্ধান্ত নিন।

আল্লাহই তাওফিক দাতা।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.