হারাম টাকায় উমরা করলে তা কি কবুল হবে? এবং সওয়াব কি পাওয়া যাবে?

Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi

Questioner: English Grammar
Question Asked: 01 Jun 2026, 05:29 PM
Reviewed & Published: 01 Jun 2026, 05:47 PM
Views: 49
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

অনলাইনে একটা প্রতিযোগিতায় নিয়ম হচ্ছে একটা নির্দিষ্ট বই পড়বে এবং পড়া শেষ হলে পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। প্রত্যেক প্রতিযোগী তাঁর নিজ বাসায় বসে পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। শর্ত হচ্ছে পরিক্ষার সময় কোন কিছুর সহায়তা নিতে পারবে না। যেমন কোন বই বা কারো থেকে উত্তর জেনে উত্তর দেওয়া। প্রতিযোগিকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কে সাক্ষী রেখে, সততার সহিত পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে কোন প্রতিযোগী যদি এই পরিক্ষার অসদ ভাবে পরিক্ষা দিয়ে প্রথম তিন জনের মধ্যে থাকে, তাহলে সে উমরা করার ফ্রি টিকিট পাবে। কেহ যদি অসদ ভাবে উক্ত উমরার টিকিট অর্জন করে, এবং উমরা করে এতে তাঁর পাপ হবে নাকি উমরা আদায় হবে? উমরা করার সময় তাঁর দুয়া কবুলের কোন সুযোগ থাকবে কিনা? যেহেতু সে অসদ ভাবে উমরা করতে গিয়াছে।

Answer

উত্তর:

প্রশ্নে উল্লেখিত প্রতিযোগিতায় প্রতারণা (চিটিং) করা স্পষ্ট হারাম। কারণ এটি বিশ্বাসঘাতকতা ও মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে কিয়ামতের দিন প্রতারণার বোঝা নিয়ে আসবে।" (সূরা আলে ইমরান ৩:১৬১)

এছাড়া রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (মুসলিম: ১০১)

প্রতিযোগিতার শর্ত ছিল আল্লাহকে সাক্ষী রেখে সততার সাথে অংশগ্রহণ। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণা করা হারাম এবং গুনাহের কাজ।


১. প্রতারণার মাধ্যমে উমরার টিকিট জয় করা:

এই টিকিট হারাম উপায়ে অর্জিত। কারণ এটি প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া পুরস্কার। ইসলামে হারাম উপার্জন বা হারাম সম্পদ থেকে উপকৃত হওয়া নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন:

"তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।" (সূরা বাকারা ২:১৮৮)

শায়খ ইবনু বায (রহ.) বলেন:

"হারাম উপায়ে অর্জিত বস্তু ব্যবহার করা জায়েয নয়। এমন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করবে।" (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৯/৪০০)

শায়খ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:

"প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির মাধ্যমে কোনো কিছু লাভ করলে তা হারাম। সেটি ভোগ করা জায়েয নেই।" (আল-মুনতাকা ২/২৪২)


২. উমরা আদায় হবে কি?

হ্যাঁ, উমরা আদায় হবে যদি এর শর্তসমূহ (ইহরাম, তাওয়াফ, সা‘ঈ, হালক/তাকসীর) পূর্ণ হয়। তবে:

  • পাপ থেকে যাবে প্রতারণার কারণে।
  • উমরা নিজেই একটি ইবাদত। কিন্তু হারাম উপায়ে সফর করলে ইবাদতের পূর্ণতা ও কবুলিয়্যাতে প্রভাব পড়তে পারে।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন:

"হারাম খাদ্য-পানীয় ইবাদতের কবুলিয়্যাতে বাধা সৃষ্টি করে। যদিও ইবাদতটি শারীরিকভাবে সহীহ হয়।" (মাদারিজুস সালিকীন ১/৪০৯)

শায়খ আলবানী (রহ.) বলেন:

"হারাম উপার্জন দ্বারা হজ্জ-উমরা করলে গুনাহ থেকে যায়, তবে হজ্জ আদায় হবে। কিন্তু এর সওয়াব কম হতে পারে।" (সিলসিলা হুদা ওয়া নূর: ১৮৬)

গুরুত্বপূর্ণ: তওবা করা আবশ্যক। তওবা না করলে উমরা হলেও পাপ মাফ হবে না।


৩. দু‘আ কবুলের সম্ভাবনা:

দু‘আ কবুলের জন্য পবিত্র উপার্জন ও তাকওয়া জরুরি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"তোমরা পবিত্র খাদ্য গ্রহণ কর, তাহলে তোমাদের দু‘আ কবুল হবে।" (তিরমিযী: ২৫২৪, সহীহ)

হারাম উপায়ে ভ্রমণ করলে ব্যক্তি নাফসে হারাম (হারাম উপার্জন)-এর অধিকারী হয়। ফলে দু‘আ কবুলের পথে বাধা আসতে পারে। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

"যার উপার্জন হারাম, তার দু‘আ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।" (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২১/৫৮)

তবে আল্লাহর দয়া সীমাহীন। তওবা ও ইস্তিগফার করলে আল্লাহ মাফ করতে পারেন। কিন্তু প্রতারণা বজায় রেখে দু‘আর আশা করা ঠিক নয়।


৪. করণীয়:

১. তওবা করা - প্রতারণার জন্য অনুতপ্ত হওয়া, ভবিষ্যতে না করার সংকল্প করা।
২. পুরস্কার গ্রহণ না করা - সম্ভব হলে টিকিট ফেরত দেওয়া অথবা তার মূল্য দান করা।
৩. উমরা সম্পন্ন করলে - এর জন্য দ্বিগুণ তওবা ও ইস্তিগফার করা।

শায়খ ইবনু উসাইমীন (রহ.) বলেন:

"যে ব্যক্তি হারাম উপায়ে হজ্জের টিকিট জয় করে, সে যদি হজ্জ করে, তবে হজ্জ আদায় হলেও তার পাপ থেকে যায়। বরং তার উচিত তওবা করে পুরস্কার ত্যাগ করা।" (আশ-শারহুল মুমতি‘ ৭/২৭)

সারসংক্ষেপ:

  • প্রতারণা করা হারাম ও গুনাহ।
  • উমরা আদায় হবে কিন্তু সওয়াব কম হবে ও পাপ থেকে যাবে।
  • দু‘আ কবুলের সম্ভাবনা কম কিন্তু আল্লাহ চাইলে মাফ করতে পারেন।
  • তওবাই একমাত্র পথ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন।

ওয়াল্লাহু আ‘লাম।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.