হানাফি ফিকহের আলোকে পুরুষ শিক্ষক-নারী শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষিকা-পুরুষ শিক্ষার্থীর মধ্যে চেহারা খোলা ও দৃষ্টির বিধান।

Halal and Haram · Hanafi

Questioner: أمة الله
Question Asked: 24 May 2026, 05:26 PM
Reviewed & Published: 24 May 2026, 05:48 PM
Views: 45
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

দ্বীনি বা দুনিয়াবি শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে যদি কোনো পুরুষ শিক্ষককে নারী শিক্ষার্থীদের বা কোনো নারী শিক্ষিকাকে পুরুষ শিক্ষার্থীদের পড়াতে হয়, তবে পাঠদানের প্রয়োজনে এবং পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে চেহারা খোলা রাখা এবং তাকানোর অনুমতি রয়েছে। তবে এখানেও শর্ত হলো, দৃষ্টি হতে হবে সম্পূর্ণ নিষ্কাম এবং শুধুমাত্র পড়ালেখা সংক্রান্ত। এটা কি সঠিক?

Answer

প্রশ্নের উত্তর

ইসলামি শরিয়তে নারী-পুরুষের মধ্যে দৃষ্টি ও পর্দার ক্ষেত্রে সাধারণ নীতি হল, পরস্পরের দিকে তাকানো ও মুখ খোলা রাখা জায়েজ নেই। তবে বিশেষ প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে অনুমতি আছে।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি

হানাফি মাজহাবের বিশুদ্ধ মতানুসারে, পুরুষের জন্য অমহরম নারীর চেহারা ও হাতের তালু ছাড়া বাকি পুরো শরীর সতরের আওতাভুক্ত। তবে চেহারার ক্ষেত্রেও ফিতনার আশঙ্কা থাকলে তা ঢেকে রাখা ওয়াজিব।

শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে যদি কোনো পুরুষ শিক্ষককে নারী ছাত্রীদের পড়াতে হয়, সেক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তাবলী অবশ্যই পালন করতে হবে:

শর্তাবলী

  1. দৃষ্টি সম্পূর্ণ নিষ্কাম হতে হবে – দৃষ্টিতে কোনো প্রকার কামনা, লালসা বা আনন্দ থাকা যাবে না। এটি কেবল শিক্ষাগত প্রয়োজনের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে।

  2. প্রয়োজন ও পরিমাণের সীমা – শুধুমাত্র পড়ালেখার প্রয়োজনীয় অংশ পর্যন্তই মুখমণ্ডল ও দৃষ্টি অনুমোদিত। অপ্রয়োজনে দৃষ্টি বাড়ানো বা চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকা জায়েজ নয়।

৩,একান্তে মিলিত না হওয়া (খালওয়াত)** – শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোলা জায়গায় বা অন্য ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিতে পাঠদান করতে হবে। একান্তে (একা একা) শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে ক্লাস নেওয়া নিষিদ্ধ।

  1. প্রয়োজনের বিকল্প না থাকা – যদি একই বিষয়ের জন্য মহিলা শিক্ষিকা (মহিলাদের জন্য) বা পুরুষ শিক্ষক (পুরুষদের জন্য) পাওয়া যায়, তবে তা বাধ্যতামূলক। বিকল্প থাকলে ভিন্ন লিঙ্গের শিক্ষা গ্রহণ করা জায়েজ নয়।

  2. গুরুতর ফিতনার আশঙ্কা থাকলে নিষিদ্ধ – যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে দৃষ্টি বা মুখ খোলা রাখার কারণে অশ্লীলতা, কুমন্ত্রণা বা অন্য কোনো পাপের সম্ভাবনা প্রবল, তবে শিক্ষাদানও জায়েজ হবে না; বরং অন্য ব্যবস্থা করতে হবে।

হানাফি কিতাবের দলিল

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) - এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রয়োজনের তাগিদে অমহরম নারীর চেহারার দিকে তাকানো জায়েজ (যেমন: ওকালতি, চিকিৎসা, সাক্ষ্য ইত্যাদি)। শিক্ষাদানও এর অন্তর্ভুক্ত, তবে শর্ত হলো দৃষ্টি নিষ্কাম হতে হবে এবং কেবল প্রয়োজন পর্যন্ত।

  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানী) - তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে সীমিত ও শর্তসাপেক্ষে যোগাযোগ জায়েজ হতে পারে, কিন্তু পর্দা ও লিঙ্গ পৃথকীকরণের নীতি বজায় রাখা অপরিহার্য। তিনি দৃষ্টি অবনত রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও দৃষ্টি থেকে বিরত থাকার তাগিদ দিয়েছেন।

  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী) - এতে শিক্ষাদানের জন্য পুরুষ শিক্ষকের নারী ছাত্রীদের কাছে যাওয়া বা মুখ খোলা রাখার অনুমতি প্রয়োজনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, তবে তা ফিতনার আশঙ্কামুক্ত পরিবেশে সীমাবদ্ধ।

★মহিলা শিক্ষিকা গায়রে মাহরাম বালেগ পুরুষকে পড়াতে পারবেনা। এটির অনুমতি শরীয়তে নেই।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.