"গুনাহ করলে আল্লাহর রহমত আছে দোষ নেই" বলা কি কুফর?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি: "আল্লাহর রহমত আছে, তাই গুনাহ করলে দোষ নেই" – এই বক্তব্য যদি কেউ এ বিশ্বাসে বলে যে, গুনাহ করার পরও তার কোনো পাপ হবে না, বা আল্লাহর রহমতের কারণে গুনাহকে ছোট বা তুচ্ছ মনে করে, তবে এটি কুফরি হতে পারে। কারণ এটি আল্লাহর বিধান (হারাম-হালাল) ও শাস্তির প্রতি উদাসীনতা এবং রহমতের অপব্যাখ্যা।
তবে "দোষ নেই" বলতে যদি কেউ গুনাহ না হবার অর্থ গ্রহণ করে, তাহলে স্পষ্টতই এটি কুফরি। কিন্তু যদি কেউ আল্লাহর রহমতের আশায় গুনাহ করে এবং পরে তওবা করে নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে এই চিন্তা কুফরি না হলেও গুরুতর পাপ ও ভ্রান্ত আকীদা, কারণ এটি আল্লাহর রহমতকে অপব্যবহার করা এবং গুনাহকে লঘু গণ্য করা।
কুরআন-হাদীস ও হানাফী ফিকহের দলিল:
-
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তোমরা কি আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে গেছ?" (সূরা আয-যুমার: ৫৩)
"আর কেউ যদি এমন বলে যে, 'আল্লাহ আমার প্রতি দয়াপরবশ হয়ে আমাকে শাস্তি দেবেন না', তবে সে কুফরি করে।" (সূরা আল-মুলক: ২ এর তাফসীরে উল্লেখিত) -
হাদীসে কুদসীতে এসেছে:
"আমার রহমত আমার ক্রোধের চেয়ে অগ্রগামী।" (বুখারী ও মুসলিম)
ব্যাখ্যা: এটি গুনাহ করার উৎসাহ নয়, বরং তওবাকারীদের জন্য সুসংবাদ। এটি গুনাহকে হালাল করার অনুমতি দেয় না। -
ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেন:
"গুনাহকে হালাল মনে করা বা আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা করে অবাধ্যতা করা ঈমানের পরিপন্থী।" (ফিকহুল আকবার, বাবুল ইমান)
-
রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):
"যদি কেউ বলে, 'আল্লাহর রহমত অনেক, তাই গুনাহ করলে কিছু হবে না', তবে এটি আকীদাগত ফাসাদ (ভ্রষ্টতা) এবং কুফরি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।" (রদ্দুল মুহতার, ৪/২২৪)
-
ফাতাওয়া উসমানী:
"গুনাহকে হালাল জ্ঞান করা কুফর। তবে যদি কেউ জানে যে এটি নিষিদ্ধ, কিন্তু রহমতের আশায় গুনাহ করে, তাহলে সে ফাসেক (পাপী) হবে, কাফির নয়। কিন্তু এই চিন্তা ভুল ও তওবা ওয়াজিব।" (ফাতাওয়া উসমানী, ১/১৮২)
সারসংক্ষেপ:
- "দোষ নেই" বলতে যদি কেউ গুনাহ নেই/পাপ নেই বোঝায়, তবে এটি কুফরি।
- যদি রহমতের আশায় গুনাহ করা এবং পরে তওবা করা বোঝায়, তবে এটি কুফরি নয়, কিন্তু গুরুতর পাপ ও আকীদাগত ত্রুটি।
- সঠিক আকীদা: গুনাহ থেকে বিরত থাকা, রহমতের আশায় তওবা করা, কিন্তু গুনাহকে হালাল বা তুচ্ছ না ভাবা।
পরামর্শ: আল্লাহর রহমত যেমন অসীম, তেমনি তাঁর শাস্তিও কঠোর। গুনাহকে ছোট মনে করা বা হালাল জ্ঞান করা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।
আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।