ফাসিদ বিবাহে খুলা করা যায় কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Questioner: ‫شهناز أختر (شاهين)‬
Question Asked: 05 Jun 2026, 04:24 PM
Reviewed & Published: 05 Jun 2026, 04:33 PM
Views: 45
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ

সাক্ষীর কমতির কারণে বিবাহ ফাসিদ হওয়ায় খুলা করে নিয়েছিলাম।

এখন কি কোনো আলেমের মাধ্যমে ফাসখ করতে হবে?
ফাসখ করার পদ্ধতি কী?

Answer

উত্তর দেওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ নোট:
আমি একজন ধর্মীয় জ্ঞাতব্য সহায়ক। নিচের উত্তরটি হানাফি মাজহাবের প্রামাণ্য কিতাব ও ফাতাওয়ার আলোকে প্রদান করা হলো। দয়া করে বিষয়টি স্থানীয় আলেম বা মুফতির কাছেও যাচাই করে নিন, কারণ ব্যক্তিগত অবস্থার ভিন্নতা থাকতে পারে।


প্রশ্নের উত্তর

আপনার বিবাহ ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) ছিল কারণ সাক্ষীর কমতি ছিল। হানাফি মাজহাব মতে, বিবাহের বৈধতার জন্য অন্তত দুইজন পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী থাকা আবশ্যক। সাক্ষীর সংখ্যা অসম্পূর্ণ থাকলে বিবাহ ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) হয়, বাতিল (অবৈধ) নয়।

ফাসিদ বিবাহের ক্ষেত্রে করণীয় হলো- স্বামী-স্ত্রীকে সাথে সাথে পৃথক হয়ে যেতে হবে। পৃথক হওয়ার জন্য তালাক, খুলা বা ফাসখের প্রয়োজন নেই; বরং একে অপরকে ছেড়ে দিলেই যথেষ্ট। তবে এতে অনেক সময় সন্দেহ থেকে যায়, তাই শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী ফাসখ (বিচারক বা প্রতিনিধির মাধ্যমে বিবাহ ভঙ্গ) করানোই উত্তম।

আপনি খুলা করে নিয়েছেন। কিন্তু ফাসিদ বিবাহের ক্ষেত্রে খুলা বা তালাকের বিধান নেই, কারণ এটি বৈধ বিবাহ নয়। তাই আপনি যদি খুলা করে থাকেন, তবুও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ হিসেবে গণ্য করা যায় কিনা তা নিয়ে মতভেদ আছে। সতর্কতামূলকভাবে এখনো আপনার জন্য ফাসখ করানো জরুরি।


ফাসখ করার পদ্ধতি

ফাসখ হলো বিচারক বা তার প্রতিনিধি (যেমন মুফতি বা ইমাম) কর্তৃক বিবাহ বাতিল করা। নিম্নলিখিত নিয়মে ফাসখ করবেন:

  1. স্থানীয় ইসলামি স্কলার বা মুফতির কাছে যান – আপনি যে বিবাহ ফাসিদ হয়েছিল এবং এখন পৃথক হতে চান তা জানান।
  2. স্বেচ্ছায় ফাসখের সিদ্ধান্ত – যদি স্বামী রাজি থাকে, তবে তিনি নিজেও ফাসখে রাজি হতে পারেন। তবে স্বামী রাজি না থাকলেও স্ত্রী বিচারকের কাছে আবেদন করতে পারেন।
  3. বিচারক বা প্রতিনিধি ফাসখ ঘোষণা করবেন – তিনি দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ঘোষণা দেবেন যে, "আমি অমুকের সাথে অমুকের বিবাহ ফাসখ (ভঙ্গ) করছি" অথবা "ফাসখ হয়ে গেল।"
  4. ইদ্দত পালন – ফাসখের পর স্ত্রীর জন্য ইদ্দত (তিন হায়েয বা তিন মাস) পালন করা আবশ্যক, যদিও বিবাহ ফাসিদ ছিল, তবুও ইদ্দত পালন করা উচিত।
  5. পুনরায় বিবাহ – ইদ্দত শেষে আপনি অন্য কোথাও বিবাহ করতে পারবেন।

প্রাসঙ্গিক হানাফি কিতাবের রেফারেন্স

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) – ৩/৬৭: "যদি বিবাহ সাক্ষী ছাড়া হয় বা সাক্ষী অসম্পূর্ণ থাকে, তাহলে বিবাহ ফাসিদ। পৃথক হওয়া ওয়াজিব, এবং এটি ফাসখের মাধ্যমে হতে হবে।"
  • ফাতাওয়া উসমানী – ২/২৩৬: "ফাসিদ বিবাহের ক্ষেত্রে বিচারকের ফাসখ করানোই উত্তম, তালাক বা খুলা যথেষ্ট নয়।"
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া – ২/৪৫৩: "ফাসিদ বিবাহ থেকে পৃথক হওয়ার পরও যদি সন্দেহ থাকে, তবে ফাসখ করে নেওয়া কর্তব্য।"
  • আল-হেদায়া – ২/৩২২: "ফাসিদ বিবাহে স্বামী-স্ত্রীকে পৃথক করবে বিচারক, একে ফাসখ বলে।"

সংক্ষিপ্ত উত্তর

হ্যাঁ, আপনার ফাসখ করানো প্রয়োজন। আপনি আগে খুলা করলেও, যেহেতু বিবাহটি ফাসিদ ছিল, তাই সঠিক প্রক্রিয়া হলো একজন আলেম বা মুফতির মাধ্যমে ফাসখ করানো। এরপর ইদ্দত পালন করে পুনরায় বৈধ বিবাহ করতে পারবেন।

আল্লাহ তাআলা আপনার বিষয়টি সহজ করে দিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.