একটা মিউজিক ছোটবেলা থেকে শুনে আসতেছি, গানের ঐ লাইনের অর্থ বুঝিনা, সেই থেকে গুন গুন চলে আসে, এতেকরে কি আমার ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?

Faith and Belief · Hanafi

Questioner: Rajia Suntana
Question Asked: 02 Jun 2026, 09:18 PM
Reviewed & Published: 02 Jun 2026, 09:25 PM
Views: 31
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমি পড়াশোনা করতেছিলাম। এমন সময় একটা গানের লাইন মনে পড়ে। মানে টোন টা মনে হয়। পরে আমি গুনগুন করি। আমি কোনো অর্থ বা শব্দ মুখ দিয়ে বের করি নাই। আমার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হয় নাই। আমি শুধু গুনগুন করতেছিলাম। হঠাৎ মনে হওয়ার পরেই অফ করে দেই গুনগুন। আমি গানের লাইন এর অর্থ বুঝি না। ছোট সময় থেকে কিছু মিউজিক শুনে আসতেছি, সেগুলাই গুন গুন চলে আসে। আমার কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আপনার বর্ণিত ঘটনা বিশ্লেষণ করে আমরা বলতে পারি, আপনার ঈমানের কোনো সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ। কারণ:

১. অনিচ্ছাকৃত ও অজান্তে সংঘটিত বিষয়: আপনি যখন পড়াশোনা করছিলেন তখন হঠাৎ করেই আপনার মনে একটি গানের সুর এসেছে এবং আপনি অনিচ্ছাকৃতভাবে গুনগুন করেছেন। এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ছিল। আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে গান গাওয়ার বা হারাম কাজ করার নিয়ত করেননি। ইসলামে নিয়ত ও ইচ্ছার গুরুত্ব অপরিসীম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ১)

২. শব্দ উচ্চারণ না করা: আপনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন যে আপনার মুখ দিয়ে কোনো অর্থপূর্ণ শব্দ বের হয়নি, শুধু সুর (টিউন) গুনগুন করেছেন। যেহেতু আপনি গানের অর্থ বোঝেন না এবং কোনো শব্দ উচ্চারণ করেননি, তাই এটি গান গাওয়ার পর্যায়ে পড়ে না।

৩. সাথে সাথে বন্ধ করে দেওয়া: আপনি সাথে সাথে গুনগুন করা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং এর জন্য অনুশোচনা বোধ করেছেন। এটি আপনার ঈমানের দলিল। একজন মুমিন যখন কোনো ভুল বা পাপের কাছাকাছি যায়, তখনই তার অন্তর সতর্ক হয় এবং সে তা পরিত্যাগ করে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, "নিশ্চয়ই যারা আল্লাহকে ভয় করে, যখন তাদেরকে শয়তানের কোনো কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে, তখন তারা (আল্লাহকে) স্মরণ করে এবং সাথে সাথে তাদের অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়।" (সূরা আল-আ’রাফ, ৭:২০১)

৪. ঈমান নষ্ট হওয়ার শর্ত: ঈমান নষ্ট হওয়ার জন্য স্পষ্টভাবে কুফরি বা শিরকি কথাবার্তা বলা বা কাজ করা, অথবা ইসলামের কোনো অপরিহার্য বিধানকে অস্বীকার করা প্রয়োজন। আপনার বর্ণিত ঘটনায় এর কোনো কিছুই নেই। ইমাম তাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, "ঈমান শুধু মুখে বলা এবং অন্তরে বিশ্বাস করার নাম। আর পাপ ঈমানের ক্ষতি করে না, যেভাবে নেকি কুফরিকে উপকার করে না।" (শারহুল আকীদাতিত তাহাবিয়্যাহ)

৫. অভ্যাসগত বিষয়: আপনি ছোটবেলা থেকে কিছু মিউজিক শুনে আসছেন, যা আপনার অবচেতন মনে গেঁথে আছে। আবু হানীফা (রহিমাহুল্লাহ) ও অন্যান্য ফুকাহায়ে কেরামগণ বলেন, "অভ্যাসগত বা অনিচ্ছাকৃত বিষয় গুনাহ হিসেবে গণ্য হবে না।" (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭২)

উপসংহারে: আপনার ঈমানের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে যেহেতু গান-বাজনা ইসলামী শরীয়তে নিষিদ্ধ (হারাম), তাই আপনার উচিত ভবিষ্যতে সতর্ক থাকা। আপনি দোয়া করুন আল্লাহ যেন আপনাকে এসব থেকে হেফাজত করেন। সুর গুনগুন করার অভ্যাস থাকলে সেটি ত্যাগ করার চেষ্টা করুন এবং কুরআন তিলাওয়াত বা জিকিরের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমীন।

ওয়াল্লাহু তায়ালা আ’লামু বিস সাওয়াব।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.