ঈদ উল আযহার নামাজ এর আগে মেয়েরা কিছু খেতে পারবে? আমি কুরবানি দিচ্ছি, আমি খেতে পারবো?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
ঈদুল আযহার দিনে নামাজের আগে খাওয়া-দাওয়া করা নিষিদ্ধ নয়, তবে এটি মুস্তাহাব (উত্তম) যে, ঈদের নামাজ ও কোরবানি সম্পন্ন করার পরই খাওয়া হবে। বিশেষ করে যারা কোরবানি দিচ্ছেন, তাদের জন্য এই নিয়মটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
হানাফি ফিকহের দলিল:
- ইবনে আবিদীন (রহ.) রদ্দুল মুহতার (২/১৬৮) গ্রন্থে বলেন:
"ويسن تأخير الأكل في الأضحى إلى بعد الصلاة ليأكل من أضحيته"
অর্থ: “ঈদুল আযহায় খাওয়া দেরি করে নামাজের পর করা সুন্নাত, যাতে কোরবানির গোশত খেতে পারেন।” - ফাতাওয়া আলমগিরি (১/১৬৮)-তেও বলা হয়েছে:
"ويستحب أن لا يأكل يوم الأضحى شيئاً حتى يصلّي ويذبح ويأكل من أضحيته"
অর্থ: “ঈদুল আযহার দিন কোনো কিছু না খেয়ে নামাজ পড়া, তারপর কোরবানি করে তা থেকে খাওয়া মুস্তাহাব।”
মহিলাদের জন্য হুকুম:
মহিলাদের জন্যও এই বিধান সমান প্রযোজ্য। তারা চাইলে নামাজের আগে কিছু খেতে পারেন, তবে উত্তম হলো নামাজ ও কোরবানির পর খাওয়া। কারণ এটি নবী করীম (ﷺ)-এর সুন্নাত।
কোরবানিদাতার জন্য বিশেষ নির্দেশনা:
যিনি কোরবানি দিচ্ছেন, তার জন্য মুস্তাহাব হলো ঈদের নামাজ পর্যন্ত কিছু না খাওয়া এবং নামাজের পর নিজের কোরবানি থেকে আহার করা। তবে কেউ যদি ভুলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে আগে খান, তাতে গুনাহ হবে না, বরং সুন্নাতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন।
সারসংক্ষেপ:
- মহিলা ও পুরুষ উভয়ের জন্যই ঈদুল আযহার নামাজের আগে না খাওয়া উত্তম (মুস্তাহাব)।
- কোরবানিদাতার জন্য এই রীতি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, তবে খেলে গুনাহ হয় না।
- যদি কারো শারীরিক দুর্বলতা থাকে বা অন্য কোনো প্রয়োজনে খেতে চান, তবে তা জায়েজ।
সতর্কতা: ঈদুল ফিতরের দিন সুন্নাত হলো নামাজের আগে কিছু খাওয়া, আর ঈদুল আযহার দিন সুন্নাত হলো নামাজের পর খাওয়া। এই পার্থক্য মনে রাখা জরুরি।