বন্ধুত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিজের মা-বাবা আপন বোনের পর স্থান দিতে ভাই/বোনের মতো থাকতে চাওয়ার বিধান কি?

Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi

Questioner: abcd efg
Question Asked: 28 May 2026, 02:43 AM
Reviewed & Published: 28 May 2026, 05:38 AM
Views: 47
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ক নামক এক ব্যক্তি খ নামক আরেক ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব খুব ভালো। ক হচ্ছে খ কে বলে যে সে তার আজীবন দায়িত্ব নিতে চাই, নিজের মা বাবা এর পরে তাকে স্থান দিতে চাই।ভাই/বোনের মতো করে দেখে অগ্রাধিকার দিতে চাওয়ার ইচ্ছা থেকে বলা।সেজন্য খ কেও একটা অনুরোধ করে নিজের মা বাবা বোনের পর তাকে স্থায়ীভাবে স্থান দিতে।এখন খ বলে খ এরকম স্থান দিতে পারবেনা কারণ খ এর বিয়ে হতে পারে।এখন ক বলেছে খ কে খ এর মন চাইলে ক এর সাথে আজীবন বন্ধুত্ব কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিজের মা বাবা আপন বোনের পর স্থান দিতে ভাই/ বোনের মতো থাকতে পারে যদি বন্ধুত্বকে জীবনে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে চাই।এখন ক এরকম কথা খ কে বলাতে কী ক খারাপ কিছু বলে ফেলেছে?বিয়ে এবং বন্ধুত্ব এর মধ্যে বন্ধুত্বকে যদি কেউ বেছে নিতে( কোনো খারাপ চিন্তা মাথায় না এনে) চাই যদি সেই বন্ধুত্ব তার জীবনকে রহমত এবং বরকতময় করে তুলে তাহলে ব্যাপারটা কি খারাপ দেখায়?এখানে হালাল বন্ধুত্বকে ইঙ্গিত করে ঘটনাটি বলা হয়েছে।

Answer

উত্তর

আপনার প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনাটি ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। নিম্নে কুরআন, সহীহ হাদীস এবং সালাফী/আহলে হাদীস ফিকহের আলোকে উত্তর দেওয়া হলো:

১. বন্ধুত্ব ও বিবাহের মধ্যে অগ্রাধিকার

ইসলামে বিবাহ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং সুন্নাতে মুআক্কাদা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"যে ব্যক্তি বিবাহ করল, সে তার অর্ধেক ঈমান পূর্ণ করল। অতএব বাকি অর্ধেকের জন্য আল্লাহকে ভয় করুক।" (সহীহুল জামি', ২/৪৩০)

অন্য হাদীসে এসেছে:

"হে যুবকগণ! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কারণ তা দৃষ্টি নিচু রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাযত করে।" (সহীহ বুখারী, ৫০৬৫; সহীহ মুসলিম, ১৪০০)

সুতরাং বিবাহকে বন্ধুত্বের কারণে পরিত্যাগ করা বা বন্ধুত্বকে বিবাহের উপরে স্থান দেওয়া ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক নয়। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"বিবাহ একটি ইবাদত, যা নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম। কারণ এটি দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য অপরিহার্য।" (মাজমু' ফাতাওয়া, ৩২/২৭)

২. বন্ধুত্বের সীমা ও শর্ত

ইসলামে বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি হল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দ্বীনের কল্যাণ। তবে কোনো বন্ধুকে মা-বাবার পর স্থায়ীভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া বা বিবাহের সম্ভাবনাকে বাদ দেওয়া শরী'আতসম্মত নয়। শায়খ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:

"বন্ধুত্বের সম্পর্ক অবশ্যই দ্বীনের ভিত্তিতে হতে হবে, কিন্তু তা কখনোই পিতা-মাতা বা স্বামী-স্ত্রীর অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করবে না।" (আল-মুনতাকা মিন ফাতাওয়া, ২/৮৭)

বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষণীয়:

  • বন্ধুত্বকে দ্বীনের অনুসারী হতে হবে, ব্যক্তির আবেগের নয়।
  • কোনো বন্ধুকে মা-বাবার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া জায়েয নয়। রাসূল ﷺ বলেছেন:

"তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় না হই।" (সহীহ বুখারী, ১৫; সহীহ মুসলিম, ৪৪)

এখানে রাসূল ﷺ-এর ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে, যা ঈমানের শর্ত। কিন্তু কোনো বন্ধুকে এভাবে প্রাধান্য দেওয়া রাসূলের ভালোবাসার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।

৩. ঘটনায় 'ক' ব্যক্তির কথা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

'ক' যে বলেছে, "তুমি চাইলে তোমার মা-বাবা ও বোনের পর আমাকে স্থান দিতে পারো, এমনকি বিয়ে করলেও আমাকে বেছে নিতে পারো" — এটি শরী'আতের আলোকে সঠিক নয়। কারণ:

  • এটি বিবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, অথচ বিবাহ ফরজ বা ওয়াজিব পর্যায়ের।
  • এটি বন্ধুত্বের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ফিতনার কারণ হতে পারে। শায়খ আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"অতিরিক্ত বন্ধুত্ব এবং একে অপরের প্রতি অন্ধ আনুগত্য ইসলামে নিন্দনীয়, কারণ তা দ্বীনের সীমা লঙ্ঘন করে।" (সিলসিলাহ সহীহাহ, ১/২৯)

তাই 'ক' ব্যক্তি খারাপ বা অনুচিত কথা বলেছে। তার উচিত ছিল বন্ধুত্বকে হালাল সীমার মধ্যে রাখা এবং বিবাহকে উৎসাহিত করা।

৪. বিবাহ ও বন্ধুত্বের মধ্যে বন্ধুত্ব বেছে নেওয়া

যদি কেউ বিবাহ না করে শুধু বন্ধুত্বকে জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় — যদিও বন্ধুত্ব হালাল হয় — তবুও তা ইসলামী জীবনাদর্শের পরিপন্থী। কারণ বিবাহ হল নবী ﷺ-এর সুন্নত এবং মানব স্বভাব। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"বিবাহ বর্জন করা নবী ﷺ-এর পথ থেকে বিমুখতা, এবং এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা নিষিদ্ধ।" (যাদুল মা'আদ, ৬/৩০২)

সুতরাং বন্ধুত্বের নামে বিবাহকে উপেক্ষা করা বা বন্ধুত্বকে বিবাহের চেয়ে বড় করে দেখা শরী'আতসম্মত নয়। বরং বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রীর অধিকার মা-বাবার অধিকারের পরই আসে। কোনো বন্ধুকে স্ত্রীর উপরে স্থান দেওয়া জায়েয নয়।

৫. উপসংহার

  • 'ক' ব্যক্তি যা বলেছে তা শরী'আতসম্মত নয় এবং এতে বন্ধুত্বের সীমা লঙ্ঘন হয়েছে।
  • কোনো বন্ধুকে মা-বাবার পর স্থায়ী অগ্রাধিকার দেয়া বা বিবাহের সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করে বন্ধুত্বকে বেছে নেওয়া ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নিষিদ্ধ।
  • বন্ধুত্বের সম্পর্ক সর্বদা দ্বীনের সীমার মধ্যে রাখতে হবে এবং বিবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রশ্রয় দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • উত্তম পন্থা হল: বন্ধুত্বকে হালাল ও উপকারী পর্যায়ে রাখা, বিবাহকে উৎসাহিত করা এবং কোনো বন্ধুর প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি না পোষণ করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দিন। আমীন।


আল্লাহ-ই ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.