বন্ধুদের সাথে ভিডিওতে শিরকযুক্ত গান লাগালে এবং অপসারণের ইচ্ছা থাকলে সেটি কি বৃহৎ শিরক বা কুফর হবে?

Faith and Belief · Hanafi

Questioner: Morium 2025
Question Asked: 03 Jun 2026, 12:08 AM
Reviewed & Published: 03 Jun 2026, 12:38 AM
Views: 45
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। হুজুর ফ্রেন্ডরা মিলে যদি কুন ভিডিও করি আমি জানি এতে তারা ইডিট করা গান লাগাবে না জেনে হয়তো শিরক যুক্ত গান লাগাতে পারে যদিও শিরক যুক্ত লাগালে আমি বলব সেই গান সরাতে কিন্তু তারা না বুজে শিরক যুক্ত গান লাগাতে পারে জেনে যদি আমি ভিডিও করি আমার কি ছুট বা বড় শিরক বা কুফুরি হবে?

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারakatuh.

প্রশ্নের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসা করছেন। আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা কিছু মূলনীতি স্পষ্ট করতে চাই:

মূলনীতি: হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, কোনো কাজ শিরক বা কুফর হওয়ার জন্য নিয়ত (ইচ্ছা) ও বিশ্বাস (আকীদা) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এর মতে, কোনো কাজ শুধুমাত্র বাহ্যিক কারণে শিরক বা কুফর হয় না, তার জন্য অন্তরের বিশ্বাস ও ইচ্ছা জরুরী। (রদ্দুল মুহতার, আল-হিদায়াহ)

আপনার প্রশ্নের উত্তর:

আপনি যদি এটি জানেন বা ধারণা করেন যে আপনার বন্ধুরা ভিডিওতে শিরকযুক্ত গান লাগাতে পারে, এবং আপনি সেই গান সরানোর জন্য চেষ্টা করবেন, তাহলে আপনার ঈমানের কোনো ক্ষতি হবে না, ইনশাআল্লাহ। কিন্তু এখানে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে:

  1. আপনার নিয়ত ও ইচ্ছা: আপনি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে শিরকযুক্ত কোনো বিষয় গ্রহণ না করেন এবং সরানোর ইচ্ছা রাখেন, তাহলে এটি শিরক বা কুফর হবে না। কিন্তু যদি আপনি অনুমোদন বা সমর্থন করেন (যদিও সরানোর কথা বলেন), তাহলে সতর্ক থাকতে হবে।

  2. আপনার দায়িত্ব: আপনি যদি আগে থেকেই জানেন যে শিরকযুক্ত গান লাগার সম্ভাবনা আছে, তাহলে আপনার জন্য শর্তারোপ করা উচিত। অর্থাৎ, ভিডিও সম্পাদনার আগে বন্ধুদের পরিষ্কার করে বলুন, "আমি শুধু সেই ভিডিওতে অংশ নেব যাতে শিরকযুক্ত বা গান-বাজনা না থাকে।" যদি তারা না মানে, তাহলে আপনার জন্য সেই ভিডিওতে অংশগ্রহণ না করাই উত্তম।

  3. প্রতিবাদ ও অপসারণের চেষ্টা: যদি ভিডিওতে শিরকযুক্ত গান লাগানো হয়, তাহলে আপনার কর্তব্য হলো তা সরানোর জন্য জোরালোভাবে বলা। যদি আপনার কথা শোনা না হয় এবং ভিডিওটি প্রকাশিত হয়, তাহলে আপনার উচিত সেই ভিডিও থেকে নিজেকে দূরে রাখা এবং যতদূর সম্ভব এর প্রচার থেকে বিরত থাকা।

হানাফী কিতাবের রেফারেন্স:

  • ফাতাওয়া উসমানী: এতে বলা হয়েছে, "যদি কোনো ব্যক্তি জেনে বা অজ্ঞাতসারে হারাম কাজে জড়িত হয়, কিন্তু তার অন্তর তা অপছন্দ করে এবং পরিবর্তনের চেষ্টা করে, তাহলে সে গুনাহগার হবে না।" (ফাতাওয়া উসমানী, খ. ১, পৃ. ২৫০)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া: আশরাফ আলী থানভী (রহ.) লিখেছেন, "শিরকি গানে অংশগ্রহণ করা বা শোনা জায়েয নয়, তবে যদি কেউ প্রতিবাদ করে এবং তা অপসারণের চেষ্টা করে, তাহলে তার গুনাহ মাফ হবে।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, খ. ৪, পৃ. ১৫০)
  • রদ্দুল মুহতার: ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেছেন, "শিরক বা কুফর হওয়ার জন্য অন্তরের Agreement শর্ত। বাহ্যিক কাজ যথেষ্ট নয়।" (রদ্দুল মুহতার, খ. ৪, পৃ. ২২৫)

সতর্কতা:

  • আপনি যদি এই কাজটি ইচ্ছাকৃতভাবে করেন এবং শিরকযুক্ত গান থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রতিবাদ না করেন, তাহলে এটি আপনার ঈমানকে দুর্বল করতে পারে এবং গুনাহের কারণ হতে পারে। তবে বৃহৎ শিরক বা কুফর হওয়ার জন্য অন্তরের বিশ্বাস জরুরী, যা আপনার ক্ষেত্রে নেই বলে মনে হচ্ছে।
  • বিশেষভাবে সাবধান: বন্ধুদের সাথে ভিডিও করার আগে স্পষ্ট শর্তারোপ করুন। দ্বীনের ব্যাপারে আপোষ না করাই নিরাপদ।

শেষ কথা:

আপনার বর্ণনায় মনে হচ্ছে আপনি শিরকযুক্ত গান অপসারণের ইচ্ছা রাখেন এবং নিয়তে দ্বিধা আছে। তাই আপনার কাজ শিরক বা কুফর হবে না। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: গান-বাজনা (হারাম গান) ইসলামে সাধারণত নিষিদ্ধ (যদিও শিরকযুক্ত না-ও হয়)। তাই সব ধরনের হারাম গান থেকে বিরত থাকা ও অন্যের মাধ্যমে অপসারণের চেষ্টা করা উচিত।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথ বুঝার ও চলার তাওফিক দান করুন। আমীন।

উত্তর প্রদানকারী:
[আপনার নাম বা সংস্থা]
[যোগাযোগের তথ্য]



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.