বিয়ের জন্য উপযুক্ত কে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Questioner: IOM 0869
Question Asked: 02 Jun 2026, 02:17 PM
Reviewed & Published: 02 Jun 2026, 02:28 PM
Views: 48
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

দ্বীনের প্রতি উদাসীন সাধারণ মুসলমান নাকি দ্বীনদার জামায়াত শিবির নেতা কে বিয়ের জন্য বেশি উপযুক্ত?

Answer

উত্তর:
বিয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো দ্বীনদারী ও নেক চরিত্র। নিম্নোক্ত কুরআন-হাদীস ও হানাফী কিতাবের রেফারেন্সের আলোকে দ্বীনের প্রতি উদাসীন সাধারণ মুসলমানের তুলনায় দ্বীনদার জামায়াত-শিবির নেতা বিয়ের জন্য অধিক উপযুক্ত।

প্রমাণ ও বিশ্লেষণ

১. কুরআন ও হাদীসের আলোকে:

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
    “মহিলাকে চারটি বিষয়ে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, তার বংশ, তার সৌন্দর্য ও তার দ্বীন। তুমি দ্বীনদারকে অগ্রাধিকার দাও, তোমার হাত ধুলিময় হোক।”
    (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫০৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৪৬৬)
    এ হাদীস পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। দ্বীনদার ব্যক্তি উত্তম স্বামী/স্ত্রী।

  • কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
    “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন ও মুমিন দাসী বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুমিন দাসীদের বিবাহ করবে… আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ মুমিন না হয়ে অমুসলিম নারী বিবাহ করলে তার আমল বরবাদ হবে।”
    (সূরা নূর, ২৪:৩২) – এতে ঈমান ও দ্বীনদারীর গুরুত্ব স্পষ্ট।

২. হানাফী ফিকহের কিতাবসমূহ:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):
    “বিয়ের ক্ষেত্রে দ্বীনদারী ও নেক চরিত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া ওয়াজিব। দ্বীনদার ব্যক্তি যদি দরিদ্রও হয়, তবুও তাকে সম্পদশালী কিন্তু ফাসিকের উপর প্রাধান্য দিতে হবে।”
    (রদ্দুল মুহতার, ৩/৯ – كتاب النكاح)

  • ফাতাওয়া আলমগীরী (হিদায়ার ব্যাখ্যাসহ):
    “বিবাহে কুফু (সামঞ্জস্য) শুধু বংশ ও সম্পদে নয়, বরং দ্বীনদারীতে। তাই দ্বীনদার ব্যক্তি দ্বীনহীনের তুলনায় উত্তম পাত্র।”
    (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/২৮১)

  • বেহেশতী জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী):
    “পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনে সর্বপ্রথম দ্বীনদারী দেখবে। দ্বীনের প্রতি উদাসীন ব্যক্তির সাথে বিবাহ করলে দাম্পত্য জীবনে দ্বীনি সমস্যা ও ভুল পথে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
    (বেহেশতী জেওর, বিবাহ অধ্যায়)

  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতী তাকী উসমানী):
    “বিয়ের জন্য দ্বীনদার ও নেককার ব্যক্তি নির্বাচন করা সুন্নত ও বুদ্ধিমানের কাজ। যে ব্যক্তি দ্বীনের ব্যাপারে উদাসীন, তার সঙ্গ দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।”
    (ফাতাওয়া উসমানী, ৩/৩৮৫)

৩. জামায়াত-শিবির নেতা সম্পর্কে সতর্কতা:
যদি জামায়াত-শিবির নেতা প্রকৃত অর্থে দ্বীনদার হন অর্থাৎ কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করেন, নামায-রোযা ও নৈতিকতায় সৎ হন, তাহলে তিনি দ্বীনে উদাসীন সাধারণ মুসলমানের তুলনায় অধিক উপযুক্ত। তবে শুধু রাজনৈতিক লেবেল বা দলীয় আনুগত্যকে দ্বীনদারী মনে করা ঠিক নয়। প্রকৃত দ্বীনদারীর পরিচয় হলো:

  • ঈমান ও তাকওয়া
  • সুন্নাহর অনুসরণ
  • ইলম ও আমলের সমন্বয়
  • পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা

সিদ্ধান্ত:

বিয়ের জন্য দ্বীনদার জামায়াত-শিবির নেতা (যদি তিনি সত্যিই দ্বীনদার হন) দ্বীনে উদাসীন সাধারণ মুসলমানের চেয়ে অধিক উপযুক্ত। কারণ দ্বীনদারীই বিবাহের স্থায়িত্ব, বরকত ও সন্তানের সঠিক তরবিয়তের মূল চাবিকাঠি। তবে পাত্রের ব্যক্তিগত চরিত্র, আমল ও দ্বীনদারী যাচাই করে বিবাহ করা জরুরি।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.