বিড়াল লালন পালন সম্পর্কে জানতে চাই

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Questioner: Mariam
Question Asked: 29 May 2026, 12:57 AM
Reviewed & Published: 29 May 2026, 01:35 AM
Views: 32
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
শায়েখ আপনার কাছে অনুরোধ আপনি সবটা মেসেজ ভালো করে পড়বেন,জানি অনেক লম্বা মেসেজ হয়েছে এর জন্য আমি আফওয়ান।আমাকে দয়াকরে বিস্তারিত এর সমাধান দিবেন মিন ফাদ্বলিক,মিন ফাদ্বলিক।মিন ফাদ্বলিক
আমি যখন ছোট ছিলাম তখন একটা বিড়াল পালতাম,যেটা আমার বড় ভাই এনেছিল,তখন থেকেই আমার বিড়ালের প্রতি ভালবাসা জন্মায় আলহামদুলিল্লাহ। আমার ফেমিলিও বিড়াল পছন্দ করতে থাকে তখন থেকে,তারাও বিড়াল ভালোবাসে।কিন্তু বিড়াল পাললেও,, বিড়াল অনেক যন্ত্রণা দেয়,যেমন হিশু করে দিত যেখানে সেখানে,নোংরা করত ঘর,,বাহির থেকে বিশাক্ত প্রাণী নিয়ে আসত আরও ইত্যাদি,, যেহেতু আমার বিড়াল দেশি বিড়াল ছিল রাস্তা থেকে এনেছিল,,,আর আমরা একদম ওইরকমও নাহ যে বিড়াল কে বাহির থেকে কেট ফুড,জিনিস পাতি কিনে দিতে পারি।আমরা মধ্যেবিত্ত,,তাই সম্ভব হত নাহ,, সাধারণ বিড়ালের মতই পালতাম,তবে খুব ভালোবাসতাম তাকে আমি।নিজে না খেয়ে তাকে খাওয়াতাম এমন ছিল।এভাবেই যায়,,পরে বিড়াল টা অসুস্থ হয়ে মারা যায়,এবং তাতে আমি অনেক কষ্ট পাই আর নিয়ত করি যে আর বিড়াল পালব নাহ।কারণ আমি বাসার সবার বকা শুনতাম অনেক বিড়ালের জন্য, কারণ তারা বিড়াল ভালোবাসলেও যখন ঘর নোংরা করত,,বিশাক্ত প্রাণী আনত,হিশু করে দিত যেখানে সেখানে ইত্যাদি,, তখন অনেক বকা দিত আমাকে।এসব সহ্য করেই লালন পালন করেছিলাম।
এই বিড়াল মরার পর আমার আপু ২ বছর পর আবার একটা বিড়াল আনে আমার জন্য, বিড়াল টা ছিল মেয়ে বিড়াল,,জানি নাহ আমি কেন তাকে লালন পালন করার জন্য আমার কাছে রেখে দিয়েছি।এই বর্তমান বিড়াল টাও আমাকে অনেক যন্ত্রণা দেয়,,,,আগের টার মত,যদিও এসব আমার খারাপ লাগে নাহ,ফেমিলির সমস্যা,,, এটা অবশ্য ঠিক ঘর নোংরা করে,হিশু করে, হাগু করে যেখানে সেখানে।বিশাক্ত প্রাণী বাহির থেকে বাসায় নিয়ে আসে,,এখানে বলে রাখা উচিত যে আমাদের বাসার বারান্দা গ্রিলের মানে অনেক বড় বারান্দা যার জন্য সহজেই সবসময় বের হয়ে যায় আটকে রাখার কোনো উপায় হয় না,,এভাবেই কষ্ট করে ২ বছরের মত লালন পালন করছি। সবার কথা, বকা ঝকা শুনে এভাবেই লালন পালন করছি,,বাসা থেকে বের করে দিতে বলে,,কিন্তু আমি যে তাকে খুব ভালোবাসি,যখনই মনে করি যে বের করে দিব বাসা থেকে তখনই আমার কলিজা ফেটে যায়,,এটা আমি ভাবতেও পারি নাহ।আমি ত বাসায় বলি যে, যদি তোমরা বিড়াল কে বের করে দেও তাহলে আমাকেও বাসা থেকে বের করে দিবা।।আমার বিড়াল কয়েক মাস পর পর বাচ্চা দেয়,,পরে বাচ্চা গুলো বাধ্য হয়ে দিয়ে দেই,,একবার ত জোর করে ৩ টা বিড়াল কোথায় ছেড়ে চলে আসে,ছোট বাচ্চা।কি করব আমি ত নিরুপায়।কিন্তু আমি যে মা বিড়াল টা কে বের করতে পারি নাহ।
এখন আসল কথা হলো,,আমার ভাই বিয়ে করে বউ আনছে,আর ভাবি অনেক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন,, নোংরা পছন্দ করে নাহ।আমাকে বার বার সবাই বলতেছে বিড়াল এর বাচ্চা গুলো বের করে দেওয়ার জন্য, কারণ এখন একটু বড় হয়েছে,ঘরে হাগু করছে,রুমের ভিতর,আগে একটা সময় বাসার সামনে মাটি ছিল কিন্তু এখন বাসার সামনে মাটি নেই,পাকা করে ফেলেছে,তাই বাহিরে গিয়ে হাগুও করতে পারে নাহ।আবার থাকে বৃষ্টি,অহহ আরেকটা কথাও বাচ্চা বিড়াল গুলোর চিৎকারের জন্য ভাইয়া মাঝে মাঝে বকা দেয় আমাকে,ঘুমোতে পারে নাহ যে।আর বিড়াল গুলো বাসার জিনিস পাতির ক্ষতিও করছে।।....আমি এখন কি করব এই বাচ্চা গুলো,, আমি আবার এটাও চেষ্টা করছি যে কেউ বিড়াল এর বাচ্চা নিবে কি নাহ।।কিন্তু কেউ নাই নেওয়ার।।কেউ নিতে চায় নাহ বিড়াল।
বিড়ালের সমস্যা গুলো মুলত বাসার ফেমিলি সহ্য করতে পারে নাহ,,বিশেষ করে ভাই এর বউ মানবে নাহ।এদিকে আমার আপন বোন আমাকে ইগনর করে বার বার যে,বিড়াল গুলো ফেলে দিলে তর গুনাহ হবে এই সেই,,তর কি মায়া লাগে নাহ।।।।।....আমি কি করব বুজি নাহ।আমি যে মা বিড়াল অনেক ভালোবাসি,,ওহ যে বাহিরে মানিয়ে নিতে পারবে নাহ,মাছ মাংস ছাড়া কিছু খায় নাহ।বাচ্চা গুলোর প্রতি মায়া থাকলেও ওরা ত ছোট বেশিদিন পালি নাই,কিন্তু মা বিড়াল কে ত ২ বছর ধরে পালি সে বাহিরের খাবার খেতে পারে নাহ,বাচ্চা গুলো না হয় অভ্যাস করে নিবে।
আরও একটা কথা,,আমি মাঝে মাঝে এমন বলি যে মা বিড়াল টা যদি মারা যায়,আল্লাহ নিয়ে নেন এটা ভালো এতে ত আর আমার এত কষ্ট হবে নাহ,,কারণ আল্লাহ নিয়ে নিয়েছেন,কিন্তু বাহিরে থাকলে ত আমার অনেক কষ্ট হবে।আমার আপু পরে আমাকে বলে যে তোর এমন বলা ঠিক নাহ,এখন যদি তর এমন একটা সন্তান থাকত তাহলে তুই কি এমন বলতে পারতি যে আল্লাহ আপনি ওকে নিয়ে নিন।।।।দয়াকরে আমাকে বলেন আমি কি করব।

আমাকে দয়াকরে এর সমধান দিবেন মিন ফাদ্বলিক।আমি রীতিমতো মানসিক রোগী হচ্ছি।

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথমেই বলে নিচ্ছি, আপনার বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের লালন-পালনের আগ্রহ একটি প্রশংসনীয় গুণ। ইসলাম প্রাণীদের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি দেখানোর নির্দেশ দেয়। কিন্তু একই সাথে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের অধিকার রক্ষা করা জরুরি। আপনার সমস্যাটি জটিল, কারণ একদিকে আপনি বিড়ালকে ভালোবাসেন, অন্যদিকে পরিবারে এর কারণে সৃষ্ট অশান্তি ও অসুবিধা আপনাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। নিচে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান দেওয়া হলো:


১. বিড়াল পালনের ইসলামী বিধান

ইসলামে বিড়াল পালন জায়েজ (অনুমোদিত) এবং তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করা সুন্নত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিড়ালদের প্রতি দয়া দেখাতেন এবং তাদের পানি পান করাতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ২৮৪১)

তবে বিড়াল পালনের দায়িত্বশীলতাও রয়েছে। তাদের খাবার, পানি, এবং পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা জরুরি। বিড়ালের মলমূত্র বা নোংরা থেকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। যদি বিড়াল পালনের কারণে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঝগড়া বা অসুবিধা সৃষ্টি হয়, তাহলে ইসলামী শান্তি বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।


২. আপনার করণীয়

ক. বিড়ালের বাচ্চাগুলোর ব্যাপারে:

  • বাচ্চা বিড়ালগুলোকে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার আগে চেষ্টা করুন তাদের জন্য ভালো মালিক খুঁজে বের করার।
  • কোনো পশু সেবা সংস্থা বা আশেপাশের পরিচিতদের কাছে দিয়ে আসতে পারেন।
  • যদি কোনোভাবেই মালিক পাওয়া না যায়, তাহলে নিরুপায় হয়ে তাদের নিরাপদ স্থানে (যেখানে তারা খাবার পাবে এবং নিরাপদ থাকবে) ছেড়ে আসা জায়েজ আছে। তবে সরাসরি রাস্তায় ফেলে না দিয়ে কোনো আশ্রয়কেন্দ্র বা মসজিদের আশেপাশে রেখে আসতে পারেন।

খ. মা বিড়ালটির ব্যাপারে:

  • মা বিড়ালটি দীর্ঘদিন ধরে আপনার বাসায় অভ্যস্ত এবং বাইরের খাবার খেতে পারে না। তাই তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া তার জন্য কষ্টদায়ক হবে।
  • যদি পরিবারের চাপ অত্যধিক হয় এবং আপনি তাকে নিজের কাছে রাখতে না পারেন, তাহলে চেষ্টা করুন:
    1. তাকে কোনো পশু সেবা কেন্দ্রে বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে দিতে।
    2. বাসার কোনো নির্জন জায়গায় (বারান্দা, ছাদ) তার থাকার ব্যবস্থা করুন, যাতে তিনি ঘরের ভেতরে নোংরা করতে না পারেন।
    3. তার খাবারের জন্য নিয়মিত মাছ বা মাংসের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করুন। যদি ব্যক্তিগতভাবে সম্ভব না হয়, তাহলে পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব বুঝিয়ে বলুন যে এটি ইসলামী দায়িত্ব।

গ. পরিবারের সাথে যোগাযোগ:

  • আপনার ভাই ও ভাবির সাথে বসে বিড়ালটির ব্যাপারে আলোচনা করুন। তাদের বোঝান যে এটি একটি প্রাণী এবং দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করায় আপনি এতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন।
  • বিড়ালটির যত্নের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করুন (যেমন বারান্দা), যাতে ঘর নোংরা না হয়।
  • যদি বিড়ালটি ঘরের ভেতর মলত্যাগ করে, তাহলে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার চেষ্টা করুন অথবা একটি ট্রে ব্যবহার করুন।

৩. মা বিড়ালের মৃত্যু কামনা করা সম্পর্কে

আপনার আপু সঠিক বলেছেন। বিড়ালের মৃত্যু কামনা করা উচিত নয়। বরং আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তার জন্য কোনো কল্যাণকর ব্যবস্থা হয়। মনে রাখবেন, প্রাণীদের জন্যও আল্লাহর রহমত রয়েছে। তাদের প্রতি দয়া না দেখিয়ে বরং দুআ করুন:
"হে আল্লাহ, তুমি এই প্রাণীটির জন্য সহজ পথ তৈরি করে দাও।"


৪. মানসিক অবস্থার সমাধান

আপনি মানসিকভাবে অস্থির। এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করুন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চান। পরিবারের সদস্যদের সাথে রাগ না করে ভালোভাবে কথাবার্তা বলার চেষ্টা করুন। যদি বিড়ালটি আপনার জন্য অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে তাকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা আপনার এবং তার জন্য ভালো হবে। ইসলাম দ্বিধাবিভক্ত করে না, বরং সহজ সমাধান শেখায়।


৫. একটি সুপরামর্শ

বিড়ালের বাচ্চাগুলোকে কোনো খালি জায়গায় (যেমন বাগান বা পশু আশ্রয় কেন্দ্র) রেখে আসতে পারেন। আর মা বিড়ালটির জন্য কোনো মসজিদের পাশে বা পরিচিত কোনো ব্যক্তির কাছে দিয়ে দিন যেখানে তিনি খাবার পাবেন। মনে রাখবেন,
"আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বেশি দায়িত্ব দেন না।" (সূরা বাকারা: ২৮৬)

আপনি যদি বিড়ালটির জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে থাকেন এবং তবুও তাকে রাখতে না পারেন, তাহলে আল্লাহর কাছে আপনি দায়ী হবেন না, ইনশাআল্লাহ।

আপনার জন্য দুআ:
"হে আল্লাহ, তুমি আমার এবং এই প্রাণীটির জন্য কল্যানের পথ প্রশস্ত করে দাও। আমাকে ধৈর্য ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দান কর।"

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.