বাবার দলিলপত্র নাপাক হলে করণীয় কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Questioner: Amina Akter
Question Asked: 01 Jun 2026, 07:32 PM
Reviewed & Published: 01 Jun 2026, 07:40 PM
Views: 15
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার বাবায় দলিল পত্রের কাজ করতো উনি মারা গেছে। এখন কার কার দলিল আছে আমরা জানিনা এইসম্পর্কে আমি বুঝিনা। সেই দলিলগুলোতে বিভিন্ন মানুষের নাম থাকে সেই নামের ভিতরে আব্দুল মান্নান, আব্দুর রহমান, মো সাইফুল ইসলাম, নজির আহমেদ লিখা থাকার সম্ভাবনা বেশী এগুলো তো আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ উনাদের নাম। এগুলোর মধ্যে ইদুর, টিকটিকি তেলাপোকা পায়খানা করে ইদুর কেটে ফেলে। এগুলোর মধ্যে অন্য মানুষের প্রয়োজনীয় দলিলপত্র কাগজ আছে। বাবার পরিচিত একজন লোক ছিল সে দলিল সম্পর্কে বুঝে সে নাকি দেখবে অন্য মানুষের দলিল পত্রের বেপারে। এখন এগুলো দুইতে গেলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এগুলো ঝাড়া বা একটার সাথে হালকা বাড়ি দিয়ে অন্য কোনো বস্তায় রাখলে কি হবে।বস্তায় রাখলে তার উপরে নাপাকি করতে পারে ভিতরে কাগজে লাগবে কিনা জানিনা।এখন ভিতরে কাগজ পড়ে দেখতে গেলে সময় লাগবে অনেক আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ নামের সাথে অন্যন্য নাম এবং অমুসলিমের নাম একসাথে রাখলে ইমানে সমস্যা হবে কি বা গোনাহ হবে কি।এ বিষয়ে নিচে ক,খ ও গ আকারে প্রশ্ন দেওয়া হলো।

ক)এগুলো মানুষের দলিল পত্র দুইলে তো নষ্ট হয়ে যেতে পারে এখন যদি নাপাকি লেগে শুকিয়ে যায় হালকা করে ঝেড়ে বস্তায় রেখে দিলে হবে?

খ)সব কাগজে তো আর নাপাকি লাগে না আবার শিওর না যদি সব একসাথে রাখি গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?

গ)বস্তায় ভড়ে আলমারি বা কোনো কিছুর ুপরে রাখলাম নিচে কোরআন হাদিসে কিতাব আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম থাকে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?

ঘ)ঘরের ভিতরে যেখানেই রাখি না কেনো নাপাকি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বস্তায় রেখে উপরে কাপড় দিয়ে রাখলে কোনো সমস্যা হবে কি?

Answer

উত্তর

আপনার প্রশ্নে বাবার রেখে যাওয়া দলিলপত্র নিয়ে নাপাকি, নামের মর্যাদা, এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে উদ্বেগ রয়েছে। নিচে প্রতিটি বিষয়ে ইসলামী নির্দেশনা দেওয়া হলো, যা কুরআন, হাদিস, এবং হানাফি ফিকাহর কিতাবের আলোকে প্রস্তুত।


ক) নাপাকি লেগে শুকিয়ে গেলে হালকা ঝেড়ে বস্তায় রাখা

উত্তর:
যদি দলিলের কাগজে নাপাকি (যেমন: ইদুর, টিকটিকি, তেলাপোকার পায়খানা বা প্রস্রাব) লেগে থাকে এবং তা শুকিয়ে গেছে, তাহলে সেটি নাপাক হিসেবে গণ্য হবে। তবে আপনি যদি তা হালকা ঝেড়ে ফেলেন (অর্থাৎ শুকনো অবস্থায় নাপাকি অপসারণ করা সম্ভব নয়) এবং কাগজটি নাপাক অবস্থায় রাখেন, তাহলে তা জায়েজ আছে, কিন্তু নামাজের সময় কাগজ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলতে হবে।

  • হানাফি ফিকাহর বিধান: নাপাক বস্তু শুকিয়ে গেলে তা অপসারণ করা সম্ভব না হলে, তা ব্যবহার না করলেই চলে। কাগজে নাপাকি থাকলে তা পোড়ানো বা নষ্ট করা উচিত নয়, বিশেষ করে যদি তা অন্যদের প্রয়োজনীয় দলিল হয়।
  • পরামর্শ: কাগজগুলো আলাদা করে একটি বস্তায় রাখুন, তবে নাপাকি যদি দৃশ্যমান না হয় এবং শুকিয়ে গেছে, তাহলে তা স্পর্শ করলে পবিত্রতা ভঙ্গ হবে না। তবে উত্তম হলো প্লাস্টিকের ব্যাগ বা ঢাকনাযুক্ত বাক্সে রেখে দেওয়া।
  • সতর্কতা: নাপাক কাগজ স্পর্শ করার পর হাত ধুয়ে নিন।

কিতাব:

  • রদ্দুল মুহতার (২/৪০৭): "নাপাক বস্তু শুকিয়ে গেলে তা ধোয়া আবশ্যক নয়, তবে স্পর্শ করলে স্থান নাপাক হবে।"
  • ফাতাওয়া উসমানী (১/২২৪): "নাপাক কাগজ পোড়ানো বা ফেলে দেওয়া জায়েজ নয় যদি তাতে অন্য কারো অধিকার থাকে।"

খ) সব কাগজে নাপাকি নেই, কিন্তু নিশ্চিত না—একসাথে রাখলে গুনাহ হবে কি?

উত্তর:
সব কাগজে নাপাকি নেই, কিন্তু নিশ্চিত না হলে সন্দেহের ভিত্তিতে গুনাহ হবে না। ইসলামে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কিছু নাপাক বা হারাম ধরা হয় না।

  • শরয়ী নীতি: "اليقين لا يزول بالشك" (সন্দেহ দ্বারা নিশ্চিত জ্ঞান দূর হয় না)।

  • কাগজের নামের বিষয়ে: আব্দুল মান্নান (দয়াময়ের বান্দা), আব্দুর রহমান (দয়ালুর বান্দা), মো. সাইফুল ইসলাম (ইসলামের তরবারি), নজির আহমেদ—এগুলো আল্লাহ বা রাসূলের নাম নয়। বরং এগুলো সাধারণ মানুষের নাম, যা আল্লাহর গুণবাচক নামের সাথে সম্পর্কিত (বান্দা অর্থে)। তাই এগুলোকে পবিত্র কুরআনের আয়াতের মতো সম্মান দেওয়া জরুরি নয়। তবে নামের প্রতি সম্মান রাখা ভালো।

  • গুনাহ হবে না, কিন্তু উত্তম হলো নাপাকির সন্দেহ থাকলে কাগজগুলো আলাদা করে রাখা এবং নিয়মিত পরিষ্কার স্থানে সংরক্ষণ করা।

কিতাব:

  • আল-হেদায়া (১/২২): "নাপাকির ব্যাপারে সন্দেহ থাকলে আসল অবস্থা (পবিত্রতা) ধরা হবে।"
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/৩৪৫): "নামের মর্যাদা নিয়ে উদ্বেগ না করে বান্দার নামকে সাধারণ মনে করা উচিত।"

গ) বস্তায় ভরে আলমারির উপরে রাখা, নিচে কুরআন-হাদিসের কিতাব থাকলে গুনাহ হবে কি?

উত্তর:
এটি মাকরূহ (অপছন্দনীয়) যদি বস্তা নাপাক বা অশুদ্ধ অবস্থায় থাকে। কারণ কুরআন ও হাদিসের কিতাবকে উচ্চ ও সম্মানিত স্থানে রাখা ওয়াজিব। নাপাক বস্তু কুরআনের উপরে রাখা কুরআনের অসম্মানের শামিল।

  • সমাধান:

    1. বস্তাটি কুরআনের নিচে বা পৃথক স্থানে রাখুন।
    2. যদি নিচের তাকে কুরআন থাকে, তাহলে বস্তাটি অন্য আলমারি বা উচ্চ তাকে স্থানান্তর করুন।
    3. নাপাকির সম্ভাবনা থাকলে কুরআনের কিতাবের সাথে সরাসরি রাখবেন না।
  • গুনাহ হবে না, কিন্তু এড়িয়ে চলা উত্তম।

কিতাব:

  • আল-হেদায়া (৪/৩৭০): "কুরআন ও হাদিসের কিতাবকে সম্মান দেখানো ফরজ। নাপাক বস্তু কুরআনের উপরে রাখা হারাম।"
  • ফাতাওয়া আলমগিরী (৫/৪০২): "নাপাক বস্তু কুরআনের নিকট রাখা মাকরূহ।"

ঘ) ঘরের ভিতরে নাপাকির সম্ভাবনা; বস্তায় রেখে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখলে সমস্যা?

উত্তর:
বস্তায় রেখে উপরে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখলে নাপাকি থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে কিছুটা। তবে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়, কারণ নাপাকি কাপড় ভেদ করে বস্তায় আসতে পারে যদি তা তরল হয়।

  • উত্তম পদ্ধতি:

    1. কাগজগুলো প্লাস্টিকের ব্যাগ বা জিপারযুক্ত ফোল্ডারে রাখুন।
    2. তারপর একটি প্লাস্টিকের বাক্স বা ড্রামে সংরক্ষণ করুন।
    3. বাক্সটি উঁচু তাকে রাখুন, যেখানে ইদুর, পোকামাকড় বা নাপাকির সম্ভাবনা কম।
    4. কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার চেয়ে ঢাকনাযুক্ত পাত্র ব্যবহার করা ভালো।
  • নাপাকি থেকে বাঁচার দুআ:
    "بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ" (আবু দাউদ, ৫০৮৮)

কিতাব:

  • বেহেশতী জেওর (৪/২৪): "নাপাক বস্তুকে প্লাস্টিকের মোড়কে রাখা উত্তম।"
  • ফাতাওয়া উসমানী (১/৪৫৬): "নাপাকির স্থান থেকে দূরে রাখার জন্য উচ্চ স্থান নির্বাচন করা জরুরি।"

সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা

  1. নাপাকি লেগে থাকলে: শুকনো অবস্থায় হালকা ঝেড়ে ফেলুন, তারপর প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে ঢাকনাযুক্ত বাক্সে সংরক্ষণ করুন।
  2. নামের মর্যাদা: নামগুলো আল্লাহর নাম নয়; তাই একসাথে রাখলে ইমানের ক্ষতি নেই। তবে সম্মানজনক স্থানে রাখা ভালো।
  3. কুরআনের সাথে: কুরআনের কিতাবের উপরে তিন আঙ্গুলের কম উচ্চতায় রাখবেন না। বস্তা কুরআনের নিচে রাখুন।
  4. সম্পূর্ণ সমাধান: দলিলগুলো পৃথক ও নিরাপদ জায়গায় রাখুন, যেমন: লকার, আলমারির ওপরের তাক, অথবা শক্ত বাক্সে।

দুআ:
اللَّهُمَّ اجْعَلْ هَذِهِ الْأَوْرَاقَ سَبَبًا لِلْخَيْرِ وَالْبَرَكَةِ وَاحْفَظْهَا مِنَ الْآفَاتِ وَالْأَمْرَاضِ
(হে আল্লাহ, এই কাগজগুলোকে কল্যাণ ও বরকতের কারণ করুন এবং এগুলোকে বিপদ ও দূষণ থেকে রক্ষা করুন।)

আল্লাহু আলাম (আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত)।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.