আরাফার দিন বাংলাদেশে কোনদিন? এবং কখন দুআ পড়বো ?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Questioner:
anika abdullah
Question Asked:
26 May 2026, 01:04 PM
Reviewed & Published:
01 Jun 2026, 10:00 PM
Views:
22
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
বাংলাদেশের মানুষ আরাফার দিনের দুআ কখন পড়বে আর বাংলাদেশে দুআ কবুলের সময় কখন?
Answer
উত্তর: বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরাফার দিনের দু‘আ ও দু‘আ কবুলের সময়
প্রশ্ন: বাংলাদেশের মানুষ আরাফার দিনের দু‘আ কখন পড়বে এবং বাংলাদেশে দু‘আ কবুলের সময় কখন?
উত্তর:
আরাফার দিন (৯ জিলহজ) ইসলামের সর্বোত্তম দিনগুলোর একটি। এই দিনের দু‘আ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “সর্বোত্তম দু‘আ হলো আরাফার দিনের দু‘আ।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৮৫)
বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরাফার দিনের দু‘আ পড়ার সময় ও দু‘আ কবুলের সময় নির্ধারণে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি বিবেচনাযোগ্য:
১. আরাফার দিন নির্ধারণ:
- হানাফি ফিকহ: আরাফার দিন হলো ৯ জিলহজ, যা স্থানীয় চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের অধিবাসীদের জন্য স্থানীয় রুইয়াতে হিলাল (চাঁদ দেখা) অনুযায়ী জিলহজ মাস নির্ধারণ করাই উত্তম। যদি স্থানীয় সাক্ষ্য পাওয়া না যায়, তাহলে সৌদি আরবের ঘোষণা অনুসরণ করা জায়েয।
(সূত্র: ফাতাওয়া উসমানি, ৪/৩৩৭; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/১৭৭)
২. দু‘আ কবুলের সময়:
- আরাফার দিন দু‘আ কবুলের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই, বরং সারা দিনই ফজিলতপূর্ণ। তবে বিশেষভাবে ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময় উল্লেখযোগ্য। হাদিসে এসেছে: “আরাফার দিনে আল্লাহ তাআলা সর্বাধিক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪৮)
- হানাফি উলামাদের মত: আরাফার দিন জোহরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দু‘আ কবুলের বিশেষ সময়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৬৩; বাহিশতি জেওর, ৪/২২১)
৩. বাংলাদেশে দু‘আর সময়:
- বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, আরাফার দিন ভোর থেকে মাগরিব পর্যন্ত দু‘আ পড়া উচিত। বিশেষত জোহরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত দু‘আর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া সুন্নাহ।
- অনেক মুফতি (যেমন মুফতি তাকি উসমানি) বলেছেন: আরাফার দিনের দু‘আ স্থানীয় সময় অনুযায়ী পড়তে হবে, কারণ দোয়া কবুল হওয়া সময়ের সাথে সম্পর্কিত নয় বরং দিনের বরকতের সাথে। (মাসায়েলে রমজান, পৃ. ২৮৩)
৪. ব্যবহারিক নির্দেশনা:
- বাংলাদেশের চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা অনুসারে জিলহজ মাসের ৯ তারিখে আরাফার দিন পালন করুন।
- সেদিন ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত বেশি বেশি দু‘আ করুন, বিশেষ করে জোহর ও আসরের মাঝে দু‘আর সময়কে গুরুত্ব দিন।
- মনে রাখবেন: আরাফার দিনের দু‘আয় একাগ্রতা ও বিনয় অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা সর্বোত্তম গ্রহণকারী।
উপসংহার: বাংলাদেশের মানুষ স্থানীয় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আরাফার দিন নির্ধারণ করে সেদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দু‘আ করবে। জোহর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময় দু‘আ কবুলের জন্য বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আরাফার দিনের পূর্ণ ফজিলত লাভের তৌফিক দান করুন। আমিন।