আল্লাহ ও রাসূলের নাম লেখা নাপাক কাগজ পোড়ানো, পুঁতে ফেলা, ছাই রাখা এবং পরবর্তী কর্মের বিধান।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Questioner: Shawon
Question Asked: 02 Jun 2026, 08:46 AM
Reviewed & Published: 02 Jun 2026, 08:54 AM
Views: 59
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১।একটা যায়গায় গর্ত করে নাপাকি লাগা আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম লিখা কাগজ পুরবো। সেখানের পাশে বাবা মাঝে মধ্যে প্রসাব করতে এটা প্রসাব খানা না এমনিতেই করতো বাবা মারা গেছে আমিও এর অন্যপাশে করতাম মাঝে মধ্যে এখন আর করবো না অনেকদিন করিনাই বৃস্টিতে দুয়ে চলে যাবে আর এমনিতেই মাটি শুকিয়ে গেলে পাক হয়ে যায়।আর টয়লেট ১৫ - ১৬ ফিট দূরে এর আগে টিবওয়েল ও গোসল খানা টয়লেটের সাথে সংযুক্ত নয় এমনিতেই নাপাকি আসার কথা না বৃষ্টির পানির সাথে আসবে কিনা শিওর না। আর গোসল খানার আনুমানিক ৪-৫ ফিট দূরে নাপাকি অবস্থায় গোসল করার সময় পানির ছিটা না আসার কথা আসতেও পারে। আর এ যায়গায় গর্ত করে পুড়লে পোড়ার পর ছাই রাখলে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?

২।যে গর্তে আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম লিখা কাগজ থাকবে পোড়ার পর মাটি দিয়ে ভরাট করার সময় পা দিয়ে মারাইলে শক্ত করার জন্য মারাতে হবে । ভড়াট করার পরে এর উপর দিয়ে হাটাহাটি করলে, নাপাকি তার উপরে পরলে, বৃষ্টির পানির সাথে গেলে ইমানে সমস্যা বা গোনাহ হবে কি?

৩।আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম লিখা সব কাগজ কিনা নিস্চিত না থাকার সম্ভাবনা বেশি অন্যন্য কাগজ থাকতে পারে । নাপাক কিনা শিওর তবে প্রবল ধারনা যে নাপাক। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে পাক নাপাক আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম লিখা অন্যন্য সব কাগজ একসাথে কেরোসিন তেল দিয়ে পুড়ালে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি

Answer

উত্তর/فتویٰ

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين

প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
প্রশ্নকারী কিছু কাগজ পোড়াতে চান যাতে আল্লাহ ও রাসূল (ﷺ)-এর নাম লেখা আছে এবং সেগুলো অপবিত্র (নাপাক) হওয়ার প্রবল ধারণা আছে। তিনি একটি গর্ত করে সেখানে কাগজ পোড়াতে চান, কিন্তু সেই গর্তের পাশেই তার বাবা ও তিনি নিজে মাঝে মাঝে পেশাব করতেন। এছাড়া কাগজ পোড়ানোর পর ছাই রেখে দিলে, গর্ত ভরাট করে পা দিয়ে চাপা দিলে এবং পরে ওপর দিয়ে হাঁটাহাঁটি করলে বা নাপাকি লাগলে কী হবে—এসব বিষয়ে জানতে চান।

১. গর্ত করে নাপাকির স্থানে আল্লাহ ও রাসূলের নামের কাগজ পোড়ানো ও ছাই রাখা

হুকুম:
যে স্থানে পেশাবের কারণে নাপাকি (নাজাসত) আছে, সেখানে আল্লাহ ও রাসূলের নামের কাগজ পোড়ানো বা পুঁতে ফেলা অপছন্দনীয় ও গুনাহের কাজ। কারণ এটি আল্লাহর নামের প্রতি অসম্মানের শামিল। তবে যদি সেই স্থানটি আগে শুকিয়ে পাক হয়ে যায় (অর্থাৎ পেশাবের চিহ্ন ও গন্ধ সম্পূর্ণ দূর হয়ে যায় এবং মাটি শুষ্ক হয়), তাহলে সেখানে কাগজ পোড়ানো বা পুঁতে ফেলা জায়েজ হবে।

হানাফি ফিকহের দলিল:

  • রদ্দুল মুহতার (২/৪৬): "পবিত্র জায়গায় কুরআন ও আল্লাহর নামের কাগজ সমাহিত করা উচিত।"
  • ফাতাওয়া উসমানী (১/৪৫০): "নাপাক জায়গায় আল্লাহর নামের কাগজ রাখা বা পোড়ানো হারাম নয়, তবে অসম্মানের আশঙ্কায় তা থেকে বিরত থাকা উচিত।"

ছাই রাখার বিধান:
কাগজ পোড়ানোর পর ছাই পবিত্র বলে গণ্য হয় এবং তা পাক জায়গায় ফেলে দেওয়া বা পুঁতে দেওয়া উত্তম। ছাই রাখা জায়েজ, তবে দীর্ঘদিন অসম্মানজনক স্থানে না রাখাই ভালো।

আপনার বর্ণনা মতে:

  • যেখানে পেশাব হতো, সেটি এখন শুকিয়ে গেছে এবং বৃষ্টির পানি ধুয়ে দিয়েছে—এতে মাটি পাক হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় (মুসতাহিলায় পরিণত না হলে)। কিন্তু গর্তের পাশে পেশাব করার কারণে ঐ স্থানটি মুসতাহিলা (পেশাব জমার স্থান) হলে তা পবিত্র করতে পানি ঢেলে ধৌত করা জরুরি। অন্যথায় শুকিয়ে পাক হয় না।

গুণাহ বা ইমানের সমস্যা:

  • যদি আপনি সম্মানজনকভাবে এবং প্রয়োজনের তাগিদে কাগজ পোড়ান, তাহলে গুনাহ হবে না। ইমানের সমস্যা হবে না।
  • তবে ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্মান দেখালে তা গুনাহ এবং ইমানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সতর্কতা:

  • নাপাক জায়গায় কাগজ পোড়ানো থেকে বিরত থাকুন।
  • আগে স্থানটি পবিত্র করে নিন (প্রয়োজনে পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিন)।

২. গর্ত ভরাট করে পা দিয়ে মারলাম; ওপর দিয়ে হাঁটাহাঁটি, নাপাকি পড়া বা বৃষ্টির পানি

হুকুম:
যদি গর্তের ভেতরের কাগজ পোড়ানো শেষ হয় এবং ছাই পবিত্র হয়, তাহলে গর্ত ভরাট করে পা দিয়ে চাপা দেওয়া জায়েজ। এরপর ওপর দিয়ে হাঁটাহাঁটি করলে বা নাপাকি পড়লে বা বৃষ্টির পানি সহ অন্যান্য পানি গর্তে পড়লে ইমানের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে শর্ত হলো, কাগজ পোড়ানোর সময় সেটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং কোনো অক্ষর অবশিষ্ট নেই।

দলিল:

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/৪২২): "যদি কুরআনের পাতা বা আল্লাহর নামের কাগজ পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং তা ছাই হয়ে যায়, তবে পরবর্তী কোনো কর্মের জন্য গুনাহ নেই।"
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৬০): "ছাইয়ের ওপর দিয়ে হাঁটলে বা পানি পড়লে তাতে অসম্মান হয় না, কারণ নাম বিলুপ্ত হয়ে গেছে।"

সতর্কতা:

  • পুড়ানোর পর ছাই যদি এমন স্থানে থাকে যেখানে মানুষ চলাচল করে বা নাপাকি লাগে, তবে তা সরিয়ে পাক জায়গায় পুঁতে ফেলা উত্তম।

৩. নাপাক ও পাক মিশ্রিত বিভিন্ন কাগজ (আল্লাহ/রাসূলের নামসহ) একসাথে পোড়ানো

হুকুম:
যেসব কাগজে নিশ্চিত বা প্রবল ধারণা যে আল্লাহ ও রাসূলের নাম লেখা আছে, সেগুলোকে সম্মানের সাথে পোড়ানো বা পুঁতে ফেলা জায়েজ। আর যদি তার সাথে অন্য কাগজ মিশ্রিত থাকে (যাতে নাম নেই) এবং সেগুলো নাপাক হয়, তাহলে একত্রে পোড়ানো জায়েজ। কারণ পোড়ানোর মাধ্যমে নামের অক্ষর ধ্বংস হয়ে যায় এবং নাপাকিও দূর হয়।

শর্ত:

  • পোড়ানোর সময় কোনো প্রকার অসম্মান যেন প্রকাশ না পায়। যেমন, আগুনে নিক্ষেপ করা, ফেলে দেওয়া, বা পায়ে মাড়ানো—এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • কেরোসিন তেল দিয়ে পোড়ালে সমস্যা নেই, বরং আগুনে পুড়িয়ে ফেলাই মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) পদ্ধতি।

দলিল:

  • ফাতাওয়া উসমানী (১/৪৫১): "কুরআনের পুরাতন পাতা বা আল্লাহর নামের কাগজ পুড়িয়ে ফেলা জায়েজ, যদি তা পুঁতে ফেলা সম্ভব না হয়।"
  • আল-হিদায়া (১/৫৮): "নাপাক কাগজ পোড়ালে তা পবিত্র হয় না, বরং ছাই পবিত্র হয়।" (টিকা: উলামায়ে কেরামের মতে, নাপাক কাগজ পোড়ানোর পর ছাই পবিত্র হয় না যদি নাজাসত অক্ষরের সাথে লেগে থাকে; কিন্তু আল্লাহর নামের সম্মান রক্ষার্থে পোড়ানো উচিত।)

আপনার বর্ণনা মতে:

  • যেহেতু নাম লেখা কাগজের সাথে নাপাক কাগজ মিশ্রিত, তাই প্রথমে নাপাকি আলাদা করা সম্ভব না হলে পুরো মিশ্রণটি একত্রে পোড়ানো জায়েজ।
  • তবে নাপাক কাগজের সংখ্যা কম হলে এবং নামের কাগজের সম্মান রক্ষার্থে আলাদাভাবে পোড়ানো উত্তম।

গুণাহ বা ইমানের সমস্যা:

  • যদি প্রয়োজন ও সম্মান রক্ষা করে পোড়ানো হয়, তাহলে গুনাহ নয়। ইমানের সমস্যা হবে না।
  • তবে যদি অলসতা বা অসম্মানবোধ থেকে পোড়ানো হয়, তা নিন্দনীয়।

উত্তম পদ্ধতি (মুস্তাহাব)

১. পাক জায়গায় পুঁতে ফেলা: আল্লাহর নামের কাগজ পরিষ্কার কাপড়ে মুড়ে পবিত্র মাটিতে গর্ত করে পুঁতে দেওয়া সবচেয়ে উত্তম।
২. পুড়িয়ে ছাই পুঁতে ফেলা: দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো পুড়িয়ে ছাই পাক জায়গায় পুঁতে দেওয়া।
৩. পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া: কোনো অপবিত্র পানিতে না দিয়ে প্রবাহিত পবিত্র পানিতে ফেলা জায়েজ।

সতর্কীকরণ:

  • কোনো অবস্থাতেই কাগজ ময়লা-আবর্জনার সাথে ফেলা যাবে না বা পায়ে মাড়ানো যাবে না।
  • পোড়ানোর সময় আগুনে ফেলার আগে 'বিসমিল্লাহ' পড়ে সম্মানের সাথে ফেলবেন।

সারসংক্ষেপ (উত্তর)

১. নাপাক জায়গায় গর্ত করে নামের কাগজ পোড়ানো করবেন না। আগে স্থান পবিত্র করে নিন। পোড়ালে ছাই পবিত্র, তবে তা পাক জায়গায় পুঁতে ফেলা উত্তম। ইমানের সমস্যা হবে না।
২. গর্ত ভরাট করে পা চাপা দেওয়া এবং ওপর দিয়ে হাঁটাহাঁটি বা পানি পড়া—কোনোটিই গুনাহ নয়, যদি নামের অক্ষর ধ্বংস হয়ে যায়।
৩. পাক-নাপাক মিশ্রিত কাগজ একত্রে সম্মানের সাথে পোড়ানো জায়েজ। ইমানের কোনো ক্ষতি নেই।

মহান আল্লাহই সর্বজ্ঞ এবং তিনিই তাওফিক দাতা।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.