আল্লাহ এবং রাসূল সাঃ এর নাম লেখা নাপাক কাগজ কে রেখে দিলে কি গোনাহ হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Questioner:
Amina Begum
Question Asked:
01 Jun 2026, 08:09 PM
Reviewed & Published:
01 Jun 2026, 08:15 PM
Views:
57
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আমার বাবায় দলিল পত্রের কাজ করতো উনি মারা গেছে। এখন কার কার দলিল আছে আমরা জানিনা এইসম্পর্কে আমি বুঝিনা। সেই দলিলগুলোতে বিভিন্ন মানুষের নাম থাকে সেই নামের ভিতরে আব্দুল মান্নান, আব্দুর রহমান, মো সাইফুল ইসলাম, নজির আহমেদ লিখা থাকার সম্ভাবনা বেশী এগুলো তো আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ উনাদের নাম। এগুলোর মধ্যে ইদুর, টিকটিকি তেলাপোকা পায়খানা করে ইদুর কেটে ফেলে। এগুলোর মধ্যে অন্য মানুষের প্রয়োজনীয় দলিলপত্র কাগজ আছে। বাবার পরিচিত একজন লোক ছিল সে দলিল সম্পর্কে বুঝে সে নাকি দেখবে অন্য মানুষের দলিল পত্রের বেপারে। এখন এগুলো দুইতে গেলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এগুলো ঝাড়া বা একটার সাথে হালকা বাড়ি দিয়ে অন্য কোনো বস্তায় রাখলে কি হবে।এ বিষয়ে নিচে ক,খ ও গ আকারে প্রশ্ন দেওয়া হলো।
ক)এগুলো আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম লেখা মানুষের দলিল পত্র দুইলে তো নষ্ট হয়ে যেতে পারে সম্ভাবনা রয়েছে নষ্ট হওয়ার এখন যদি নাপাকি লেগে শুকিয়ে যায় দাগ থাকে হালকা করে ঝেড়ে বস্তায় রেখে দিলে নাপাক অবস্থায় পাক কাগজের সাথে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি ?
খ) আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম লেখা কাগজে তো আর নাপাকি লাগে না আবার শিওর না যদি সব পাক নাপাক একসাথে রাখি গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
গ)৷ আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম লেখা বস্তায় ভড়ে দলিলপত্র যেখানে শুকনা নাপাকি আছে আলমারি বা কোনো কিছুর উপরে রাখলাম বলতে একবারে উপরে খালি যায়গায়। নিচে কোরআন হাদিসে কিতাব আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম থাকে নিচে বলতে আলমারির ভিতরে বা ওয়ারড্রপ এর ভিতরে উপরে রাখবো বস্তা মানে ছাদে খালি যায়গায় থাকবে বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
ক)এগুলো আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম লেখা মানুষের দলিল পত্র দুইলে তো নষ্ট হয়ে যেতে পারে সম্ভাবনা রয়েছে নষ্ট হওয়ার এখন যদি নাপাকি লেগে শুকিয়ে যায় দাগ থাকে হালকা করে ঝেড়ে বস্তায় রেখে দিলে নাপাক অবস্থায় পাক কাগজের সাথে গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি ?
খ) আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম লেখা কাগজে তো আর নাপাকি লাগে না আবার শিওর না যদি সব পাক নাপাক একসাথে রাখি গোনাহ বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
গ)৷ আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম লেখা বস্তায় ভড়ে দলিলপত্র যেখানে শুকনা নাপাকি আছে আলমারি বা কোনো কিছুর উপরে রাখলাম বলতে একবারে উপরে খালি যায়গায়। নিচে কোরআন হাদিসে কিতাব আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ এর নাম থাকে নিচে বলতে আলমারির ভিতরে বা ওয়ারড্রপ এর ভিতরে উপরে রাখবো বস্তা মানে ছাদে খালি যায়গায় থাকবে বা ইমানে সমস্যা হবে কি?
Answer
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
উত্তর: আপনার পিতার রেখে যাওয়া দলিলপত্রে আল্লাহ ও রাসূল (ﷺ)-এর নাম থাকায় তা অত্যন্ত সম্মানীয় ও সংবেদনশীল। এই কাগজপত্র নাপাক (ইঁদুর, টিকটিকি ইত্যাদির পায়খানা-মূত্র) হওয়ায় এবং অন্যান্য মানুষের প্রয়োজনীয় দলিল থাকায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। নিচে আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর হানাফি ফিকহের কিতাবের আলোকে দেওয়া হলো।
ক) নাপাক কাগজ হালকা ঝেঁড়ে পাক কাগজের সাথে রাখা
- নাপাকি দূর করার নিয়ম: শুকনো নাপাকি ঝেড়ে ফেললে কাগজ পাক হয় না। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, নাপাকি দূর করতে পানি দিয়ে ধৌত করা জরুরি, শুধু ঝাড়া বা মুছে ফেলা যথেষ্ট নয় (রদ্দুল মুহতার, ১/৪০৭)। কিন্তু কাগজে আল্লাহর নাম থাকায় পানি দিলে তা মুছে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমতাবস্থায় ফিকহের নির্দেশনা হলো: যদি নাম মুছে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে সেই কাগজ পুড়িয়ে ফেলা বা কবর দেওয়া ওয়াজিব (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৩৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৭৮)।
- আপনার অবস্থা: যেহেতু কাগজপত্র অন্য মানুষের দলিল, তাই পোড়ানো বা কবর দেওয়া সম্ভব নয়। তাই উত্তম হলো নাপাক কাগজগুলো আলাদা করে একটি পবিত্র কাপড় বা বস্তায় মুড়ে সম্মানের সাথে রাখা। যদি শুকনো নাপাকি থাকে এবং তা ঝেড়ে দিলেও দাগ থেকে যায়, তবে কাগজ নাপাকই থাকবে। পাক কাগজের সাথে রাখলে সরাসরি নাপাকি না লাগা পর্যন্ত পাক কাগজ নাপাক হবে না (যদি উভয় শুকনো হয়) (হিদায়া, ১/৪৪)। তবে নাপাক কাগজের সাথে পাক কাগজ একস্থানে রাখা মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। গুনাহ বা ইমানের সমস্যার বিষয়: যদি আপনি সম্মান রক্ষা করে আলাদাভাবে রাখেন এবং অবহেলা না করেন, তবে গুনাহ হবে না। ইমানের সমস্যা তো নয়ই, তবে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
খ) আল্লাহ ও রাসূলের নাম লেখা কাগজে নাপাকি লাগার বিষয়ে নিশ্চিত না থাকা
- সন্দেহ হলে মূলনীতি: আপনি যদি নিশ্চিত না হন যে কোন কাগজ নাপাক ও কোনটি পাক, তাহলে প্রত্যেক কাগজকে নাপাক ধরে নিয়ে সম্মানজনকভাবে আলাদা রাখা উচিত (ফাতাওয়া উসমানি, ১/২৫১)। তবে সবগুলো একসাথে রাখলে গুনাহ হবে না, যদি আপনি সম্মানের সাথে রাখেন এবং নাপাকি নিশ্চিত না হওয়ায় কোনো ফিকহি সমস্যা হয় না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে নাপাক ও পাক মেশালে যদি নাপাকি ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে, তাহলে সেটা গুনাহের কারণ হতে পারে। সতর্কতা ওয়াজিব।
গ) নাপাক কাগজের বস্তা কুরআন-হাদিসের উপরে রাখা
- কুরআনের মর্যাদা: কুরআন ও হাদিসের কিতাব সর্বোচ্চ সম্মানের স্থানে রাখা ওয়াজিব। এর উপরে কোনো নাপাক বস্তু রাখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ (রদ্দুল মুহতার, ১/৪৭২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৩৯)। এমনকি পাক বস্তু হলেও যদি তা অসম্মানজনক হয় (যেমন ময়লা কাপড়) তাহলেও নিষেধ।
- আপনার বস্তা: বস্তাটি যদি নাপাক কাগজে পূর্ণ হয় বা বস্তার গায়েও নাপাকি লেগে থাকে, তবে তা কুরআন-হাদিসের উপরে বা সমতলে রাখা জায়েজ নয়। ছাদে বা আলমারির ওপরে রাখলেও যদি তা কুরআনের চেয়ে উচ্চতর স্থানে না হয়, তবুও অসম্মানজনক। বরং বস্তাটি কুরআন-হাদিসের কিতাব থেকে আলাদা, নিচে বা পাশে নয় বরং দূরে কোনো নিরাপদ স্থানে রাখুন। যদি বস্তাটি পাক হয় এবং ভিতরের কাগজ নাপাক হলেও বাইরে পবিত্র কাপড়ে মুড়িয়ে থাকে, তাহলে কুরআনের উপরে না রেখে নিচের তাকে রাখা যেতে পারে (তবে উপরে না রাখাই শ্রেয়)।
সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ
- সর্বোত্তম পন্থা: সম্ভব হলে নাপাক কাগজগুলো শনাক্ত করে আলাদা করুন। কোনো সম্মানিত হাফেজ বা আলেমের সাহায্যে কাগজগুলোর লেখা অন্য পবিত্র কাগজে নকল করে নিন (যদি প্রয়োজন হয়), তারপর পুরনো নাপাক কাগজগুলো পুড়িয়ে বা কবর দিয়ে বা পানি দিয়ে ধুয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলুন। তবে অন্যের দলিল থাকায় সেগুলো নকল করে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
- অস্থায়ী ব্যবস্থা: দলিল নষ্ট হওয়ার ভয়ে যদি তা করতে না পারেন, তাহলে নাপাক কাগজগুলো একটি পরিষ্কার বস্তায় ভরে শুকনো জায়গায় (যেমন আলমারির ওপরের তাকে) রাখুন, তবে কুরআন-হাদিসের নিচে বা উপরে নয়। পাক কাগজ আলাদা বস্তায় রাখুন।
- নির্দিষ্ট জবাব:
- (ক) হালকা ঝেড়ে রাখলে কাগজ নাপাক থেকে যায়, পাক কাগজের সাথে রাখলে সরাসরি নাপাকি না লাগলে গুনাহ হবে না, তবে সতর্কতা আবশ্যক। ইমানের কোনো সমস্যা নেই।
- (খ) নাম লেখা কাগজেও নাপাকি লাগতে পারে। নিশ্চিত না হলে সন্দেহমতো সব একসাথে রাখা জায়েজ, তবে আলাদা রাখাই উত্তম। গুনাহ হবে না যদি সম্মান রক্ষা হয়।
- (গ) নাপাক বস্তা কুরআন-হাদিসের উপরে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এক্ষেত্রে গুনাহ হবে এবং ইমানের জন্য বিপদজনক কারণ এটা অপমান। তাই অবশ্যই কুরআন-হাদিস থেকে আলাদা ও নিচু স্থানে রাখুন।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- রদ্দুল মুহতার (১/৪০৭, ৪৭২)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/৩৩৫, ৩৩৯)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৭৮)
- ফাতাওয়া উসমানি (১/২৫১)
- হিদায়া (১/৪৪)
আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং এই কাজে সহজতা দিন।