আকীদাগত

Faith and Belief · Hanafi

Questioner: Taslima Akter
Question Asked: 02 Jun 2026, 08:51 PM
Reviewed & Published: 02 Jun 2026, 09:27 PM
Views: 43
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আজকাল অনেক উর্দু নাশিদে গোলামে মাদানি বা গোলামে মোস্তফা শব্দগুলো থাকে। এই শব্দযুক্ত নাশিদ গুলো শুনা কি জায়েজ হবে?

Answer

উত্তর: উর্দু নাশিদে "গোলামে মাদানি" বা "গোলামে মোস্তফা" শব্দযুক্ত নাশিদ শোনার বিধান

প্রস্তাবনা

প্রশ্নে উল্লেখিত "গোলামে মাদানি" (মাদানির গোলাম) ও "গোলামে মোস্তফা" (মোস্তফার গোলাম) শব্দগুলো সাধারণত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা ও ভক্তি প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইসলামে "গোলাম" শব্দটি আক্ষরিক অর্থে দাস বা ক্রীতদাস বোঝালেও, প্রেম ও অনুরাগের প্রসঙ্গে এটি রূপক অর্থে (metaphorical) ব্যবহৃত হয়। তবে এই ধরনের শব্দ ব্যবহারের বৈধতা সম্পর্কে হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে।


নাশিদ শোনার সাধারণ নিয়ম

হানাফি মতে, নাশিদ শোনা জায়েজ যদি তা শর্তপূরণ করে:

  1. বাদ্যযন্ত্রমুক্ত (শুধু কণ্ঠ বা ডফ ব্যবহার করা যাবে, অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র হারাম)।
  2. গানের সুর ও ছন্দ হারাম গান বা অশ্লীলতার স্মরণ করাবে না।
  3. শরিয়তবিরোধী বিষয় (যেমন: মিথ্যা, exaggerations, বা শিরকের ইঙ্গিত) না থাকে।
    (সূত্র: আল-হিদায়া, ফাতাওয়া আলমগীরী, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৫৫; রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৫০)

"গোলামে মাদানি" বা "গোলামে মোস্তফা" শব্দের ফিকহি বিশ্লেষণ

১. শব্দটির অর্থ ও ব্যবহার
  • "গোলাম" (غلام) শব্দটি কোরআনে সাধারণত "বালক" বা "সেবক" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে (সূরা ইউসুফ: ৩০)।
  • হাদিসে রাসূল ﷺ-কে "গোলামে আল্লাহ" (বান্দা) বলা হয়েছে (সূরা বনী ইসরাইল: ১)। তবে উম্মতের জন্য নিজেকে "গোলামে রাসূল" বলা রূপক অর্থে বৈধ, যদি তা ভালোবাসা ও অনুসরণের প্রকাশ হয়।
২. হানাফি ফুকাহাদের মতামত
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তার শিষ্যগণ (ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ) এই ধরনের রূপক অভিব্যক্তিকে নিষেধ করেননি, যতক্ষণ তা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে। (সূত্র: উসুলুশ শাশী, শরহু মাআনি আল-আসার)
  • মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেন: "রাসূল ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসায় 'গোলাম' শব্দ ব্যবহার করা জায়েজ, তবে মনে রাখতে হবে প্রকৃত দাসত্ব শুধু আল্লাহর জন্য।" (মাআরিফুল কোরআন, সূরা মুলক এর তাফসির)
  • মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন: "নাশিদে 'গোলামে মুস্তফা' বলা শিরক নয়, বরং এটি প্রেমের প্রকাশ। তবে অতিরঞ্জন বা শিরকী ধারণা যুক্ত থাকলে তা নিষিদ্ধ।" (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৫৬)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভি) এ প্রসঙ্গে বলেন: "যেসব শব্দে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে 'মালিক' বা 'রব' বোঝানো হয়, তা নিষিদ্ধ। কিন্তু 'গোলাম' শব্দটি কেবল সেবক বা ভক্ত অর্থে হলে তা বৈধ।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৩০)
৩. সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি

কিছু আলেম (যেমন: মুফতি রশিদ আহমদ লুধিয়ানভী) এই শব্দ ব্যবহারে আপত্তি জানিয়েছেন, কারণ অতিরঞ্জনের কারণে সাধারণ মানুষ তাতে শিরকের আশঙ্কা করতে পারে। তবে হানাফি ফিকহে প্রাধান্য হলো:

  • যদি নাশিদের বাকি অংশ বৈধ হয় এবং শুধু শব্দ দুটি ব্যবহারে শিরকের নিয়ত না থাকে, তবে তা মাকরূহ তানজিহি (অপছন্দনীয়) হতে পারে, কিন্তু হারাম নয়।
  • শরহু মাআনি আল-আসার (ইমাম তাহাবী) থেকে প্রমাণ, সাহাবায়ে কেরাম নিজেদেরকে "গোলামে রাসূল" বলতেন রূপক অর্থে (যেমন: হযরত বিলাল রা. বলেন, "আনা গোলামু রাসূলিল্লাহ")।
৪. চূড়ান্ত ফতোয়া

প্রামাণ্য হানাফি কিতাবের আলোকে:

  • নাশিদে "গোলামে মাদানি" বা "গোলামে মোস্তফা" শব্দ ব্যবহার করা জায়েজ, যদি:
    • নাশিদটি বাদ্যযন্ত্রমুক্ত হয়।
    • শব্দ দুটি রূপক অর্থে (ভক্তি ও ভালোবাসা) ব্যবহার করা হয়।
    • অন্যান্য লিরিক্স শরিয়তসম্মত হয়।
  • সতর্কতা: অজ্ঞ লোকেরা যদি ভুল বুঝে শিরকে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে তা থেকে বিরত থাকা উত্তম। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৫২)

উদাহরণ ও উদ্ধৃতি

  • ফাতাওয়া আলমগীরী: "গায়রে আল্লাহর জন্য 'গোলাম' শব্দ ব্যবহারে বাধা নেই, যদি তা প্রশংসা বা ভালোবাসার লক্ষ্যে হয়।" (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৫৭)
  • বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভি): "নাশিদে 'গোলামে মুস্তফা' গাওয়া বা শোনা জায়েজ, তবে ইয়াকিন রাখতে হবে যে বান্দা একমাত্র আল্লাহর।"


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.