পাত্র কিছু মিউজিক শোনে, এবং কিছু জাপানি এনিমে দেখে, অনেকটাই এডিক্টেড বলা যায়, এমন পাত্রের প্রস্তাব কি গ্রহণযোগ্য?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
ইসলামে তো ছেলের দ্বীনদারিতাকে প্রায়োরিটি দিতে বলা হয়েছে, ছেলের পরিবার তো পরে তাইনা উস্তাদ।
আসলে ছেলের মা আমার উস্তাযা, তার দ্বীনদারিতার ব্যাপারে আমি অবগত। এটায় আমার দুর্বলতা। কিন্তু ছেলে সম্পর্কে এমনটা জানতে পেরে আমি তাকে কিভাবে না করবো বুঝতে পারছি না উস্তাদ।ইস্তেখারা করে বুঝতে পারছি না।
আমি জানি না উস্তাদকে বিষয়টা বোঝাতে পেরেছি কিনা!
একটু দ্রত উত্তর দিলে মুনাসিব হয় উস্তাদ।
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রথমেই জানিয়ে রাখি, আপনার দ্বিধা ও উস্তাদার প্রতি সম্মান রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ্রহ প্রশংসনীয়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন, বিশেষ করে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে।
ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি: পাত্র নির্বাচনে দ্বীনদারির প্রাধান্য
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا، وَلِحَسَبِهَا، وَجَمَالِهَا، وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ"
(মুসলিম, ইবনে মাজাহ)
অর্থ: নারীকে চারটি বিষয়ের জন্য বিয়ে করা হয়: সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য ও দ্বীন। সুতরাং তুমি দ্বীনদার নারীকে পাওয়ার চেষ্টা করো—তোমার হাত ধুলায় ধুসরিত হোক!
একইভাবে পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি। হানাফি ফিকাহে বলা হয়েছে:
"يُسْتَحَبُّ أَنْ تُزَوَّجَ الْمَرْأَةُ بِالْكَفْءِ الْمُسْتَقِيمِ الدِّينِ"
(রদ্দুল মুহতার, ৩/৩০)
অর্থ: নারীর জন্য কুফু (সামঞ্জস্যপূর্ণ) ও দ্বীনদার পাত্র নির্বাচন করা মুস্তাহাব।
সঙ্গীত ও জাপানি অ্যানিমে শোনা—শরীয়তের দৃষ্টিতে
- সঙ্গীত: হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী—বাঁশি, তারযন্ত্র ইত্যাদি সহ যাবতীয় বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গীত ও গান হারাম। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) এর মতে অধিকাংশ মিউজিকই নাজায়েয। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৫/৩৮৯; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩৯২)
- জাপানি অ্যানিমে: এগুলোতে প্রায়শই মিউজিক, অশ্লীল দৃশ্য, শিরক, নারী-পুরুষের অমর্যাদাকর চিত্রায়ণ থাকে। তাই দ্বীনদার মুসলমানের জন্য এগুলো দেখা অনুচিত। পাত্র যদি এতে আসক্ত হয়, তবে তা তার দ্বীনদারির ঘাটতি ও শয়তানের প্রভাবে থাকার ইঙ্গিত বহন করে।
ইস্তেখারা ও সঠিক সিদ্ধান্ত
ইস্তেখারা করার অর্থ হলো—আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা। তবে ইস্তেখারার ফলাফল কোনো স্বপ্ন বা অনুভূতি নয়; বরং বাস্তব পরিস্থিতি ও শরীয়তের নির্দেশনার আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা মেনে নেওয়াই ইস্তেখারার পরিপূর্ণতা। আপনি যখন জানতে পেরেছেন যে পাত্রের দ্বীনদারি সঠিক নয় এবং তার মধ্যে হারাম কাজের আসক্তি আছে, তখন শরীয়ত পরিষ্কার ভাষায় বলে—এমন ব্যক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
উস্তাদার প্রতি সম্মান রেখে প্রত্যাখ্যানের উপায়
আপনার উস্তাদা দ্বীনদার হলেও, পাত্রের নিজস্ব দায়িত্ব তার। উস্তাদার প্রতি সম্মান রেখে আপনি ভদ্রভাবে ও কৌশলে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। যেমন বলতে পারেন:
- "আমি আপনার সন্তানের গুণাবলি সম্পর্কে জেনেছি এবং ভালো অনেক দিক পেয়েছি। তবে আমার ব্যক্তিগত কিছু মানদণ্ডের সাথে সম্পূর্ণ মিল না হওয়ায় আমি এই প্রস্তাবটি গ্রহণে অক্ষম। আপনার প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা রইল।"
- অথবা বলুন: "আমি ইস্তেখারা করেছি এবং আমার মনে শান্তি আসছে না। তাই বর্তমানে এই বিয়েতে সায় দিতে পারছি না।"
সরাসরি দোষ আরোপ না করে নিজের অনাপত্তির কথা বলা উত্তম।
সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত
- আপনার জন্য এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করাই ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নিরাপদ ও কল্যাণকর।
- পাত্রের সঙ্গীত ও অ্যানিমে আসক্তি দ্বীনদারির অভাব এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পারিবারিক কলহের কারণ হতে পারে।
- উস্তাদার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ভদ্রভাবে প্রত্যাখ্যান করুন।
- আপনি যদি মনে করেন পাত্র সংশোধনের সুযোগ আছে, তবে তার পরিবারকে ইশারায় জানাতে পারেন, কিন্তু আপনার নিজের দায়িত্ব নয়।
আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
রেফারেন্স:
- সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৯০
- সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৬৬
- রদ্দুল মুহতার, ৩/৩০
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৫/৩৮৯
- ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩৯২
- বেহেশতি জেওর, বিবাহ অধ্যায়