পর্দা শুরু করার পর পুরোনো ছবি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অপসারণ সংক্রান্ত পরামর্শ প্রার্থনা

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 833
Questioner: Mst Shapna Akter
Question Asked: 27 May 2026, 09:27 AM
Reviewed & Published: 27 May 2026, 10:33 AM
Views: 84
Tokens: 4,541
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি আগে পর্দা করতাম না। আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করি, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে আমার কিছু পুরোনো ছবি পোস্ট করা হয়েছিল। এছাড়া আমার একজন সহকর্মীও তার সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার কিছু ছবি পোস্ট করেছিলেন। ২০২৫ সালে আমি পর্দা করা শুরু করি। পরে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে ছবিগুলো মুছে ফেলতে সক্ষম হলেও, আমার সেই সহকর্মী ছবিগুলো মুছে দিতে রাজি হচ্ছেন না। আমি তাকে বিভিন্নভাবে অনুরোধ করেছি, কিন্তু তিনি ছবিগুলো সরাচ্ছেন না।

এখন এই পরিস্থিতিতে আমি কী করতে পারি? যদি আমি এ বিষয় নিয়ে সহকর্মীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ি, তাহলে আমার চাকরির ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে কি আমার চুপ করে থাকা উচিত? বর্তমানে আমি নিজে হিজাব ছাড়া কোনো ছবি পোস্ট করি না এবং অন্য কাউকেও আমার নতুন ছবি পোস্ট করতে দিই না।

Answer

শিরোনাম: পুরোনো পর্দাহীন ছবি সহকর্মী সরাতে না চাইলে ইসলামী নির্দেশনা ও করণীয়


উত্তর:

আলহামদুলিল্লাহ। আপনি ২০২৫ সালে পর্দা শুরু করেছেন – এটি একটি মহান তাওফিক। আপনার অতীতের ছবি এখনও অন্যের পৃষ্ঠায় থাকায় আপনি উদ্বিগ্ন, এটি স্বাভাবিক। আসুন হানাফী ফিকহের আলোকে বিশ্লেষণ করি এবং সঠিক আমল নির্ধারণ করি।

১. ইসলামী দৃষ্টিতে পর্দার বিধান ও পুরোনো ছবি রাখা

কুরআন ও হাদীসে মহিলাদের জন্য পূর্ণ পর্দা ফরজ। (সূরা নূর, ৩১; সূরা আহযাব, ৫৩)। ছবি তোলা ও পোস্ট করা যদি পর্দার পরিপন্থী হয় তবে তা হারাম। ইবনে আবেদীন শামী রহ. লিখেছেন, “নারীদের চেহারা ও হাতের ছবি বিনা প্রয়োজনে প্রকাশ করা জায়েয নয়, বিশেষ করে ফিতনার আশঙ্কায়।” (রদ্দুল মুহতার, ৬/৪৪২)

আপনি এখন পর্দা করছেন, তাই আগের পর্দাবিহীন ছবি প্রচারিত হওয়া আপনার বর্তমান ও অতীতের জন্যই অমঙ্গল ডেকে আনতে পারে। তবে আপনার ওপর দায়িত্ব হল যথাসাধ্য চেষ্টা করে ছবিগুলো সরানো – যেমন আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেজ থেকে সরিয়েছেন।

২. সহকর্মীর অসহযোগিতা ও আপনার করণীয়

আপনি তাকে বারবার অনুরোধ করছেন, কিন্তু তিনি সরাতে রাজি নন। এখন আপনি দুটি বিপদের মুখে: (ক) ছবি উপস্থিত থাকার কারণে গুনাহের ধারাবাহিকতা, (খ) চাকরি হারানোর আশঙ্কায় বিরোধ করা।

ইসলামের মূলনীতি: “আল্লাহকে ভয় করো যথাসাধ্য।” (সূরা তাগাবুন, ১৬) এবং “যে ব্যক্তি কোনো মন্দ দেখে, সে যেন হাত দিয়ে তা দূর করে; যদি না পারে, তবে জবান দিয়ে; যদি তাও না পারে, তবে অন্তরে ঘৃণা করবে – আর এটি ঈমানের দুর্বলতম স্তর।” (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান)

আপনি জবান দিয়ে (অনুরোধ করে) চেষ্টা করেছেন। এখন হাত দিয়ে দূর করার অর্থ জোর করে সরানো, যা বাস্তবে সম্ভব নয় – কারণ এটি সহকর্মীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট। তাই আপনি এখন হাত ও জবানের সামর্থ্যের বাইরে।

৩. চাকরি হারানোর ভয়ে চুপ থাকা কি জায়েয?

হ্যাঁ, ইসলাম কঠিন অবস্থায় ব্যতিক্রম দেয়। ইমাম ইবনে আবেদীন রহ. ফতোয়া দিয়েছেন, “কোনো মন্দ দূর করতে গেলে নিজের বা অপরের জন্য যদি বড় ক্ষতি হয়, তবে সে ক্ষেত্রে নীরব থাকা জায়েয – বরং কখনো কখনো ওয়াজিব।” (রদ্দুল মুহতার, ১/২২২)

আপনার ক্ষেত্রে, যদি সহকর্মীর সঙ্গে বিরোধ করলে চাকরি চলে যায় বা মারাত্মক অশান্তি হয়, তবে আপাতত চুপ থাকা আপনার জন্য দায়মুক্তির কারণ হবে। কারণ আপনি যথাসাধ্য করেছেন, এখন আল্লাহর ওপর ভরসা করুন।

৪. গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসয়ালা ও পরামর্শ

ক. বিরোধের বিকল্প দাওয়াত: আপনি চাইলে তৃতীয় একজন সম্মানিত ব্যক্তি (যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অফিসার, বা ধর্মপ্রিয় সহকর্মী) দিয়ে মধ্যস্থতা করাতে পারেন। এতে সরাসরি দ্বন্দ্ব কমবে।

খ. আইনগত উপায়: বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো – তবে সতর্ক থাকবেন, যাতে এটি আপনার ক্যারিয়ারের ক্ষতি না করে। যদি নিশ্চিতভাবে জানেন যে রিপোর্ট করলে চাকরি ঝুঁকিপূর্ণ হবে, তবে তা না করাই ভালো।

গ. নিজের প্রোফাইল সুরক্ষিত করুন: আপনার নতুন কোনো ছবি (হিজাবসহ) তিনি যেন পোস্ট করতে না পারেন, সেজন্য ব্লক বা রেস্ট্রিক্ট করা জায়েয।

ঘ. তওবা ও ইস্তিগফার: অতীতের পর্দাহীন অবস্থার জন্য তওবা করুন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, যেন তিনি আপনার লজ্জা গোপন রাখেন এবং ছবিগুলো অচিরেই সরিয়ে দেওয়া হয়।

৫. সংশ্লিষ্ট হানাফী কিতাবের রেফারেন্স

  • রদ্দুল মুহতার (কিতাবুল হাজারি ওয়াল ইবাহা) – ছবি ও পর্দার প্রসঙ্গ।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী, ৪/৩৪৩) – অন্যের মাধ্যমে ছবি প্রচারের দায়িত্ব।
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী, ২/৪৮৯) – ইন্টারনেটে ছবি অপসারণের ফতোয়া।
  • ফাতাওয়া আলমগিরী (৪/৩৭৪) – মন্দ দূর করার ক্ষমতার সীমা।

৬. চূড়ান্ত ফায়সালা

আপনার করণীয়:

  • তাকে শেষবার নরম অনুরোধ করুন, ব্যর্থ হলে থার্ড পার্টি যুক্ত করুন (যদি সম্ভব হয়)।
  • যদি ঝুঁকি থাকে, তাহলে এখন চুপ থাকুন এবং মনে মনে এর প্রতি ঘৃণা পোষণ করুন।
  • বিশ্বাস রাখুন, আল্লাহ আপনার নিয়ত ও চেষ্টার বিচার করবেন।

“যে ব্যক্তি কোনো মন্দ লোক দেখে এবং তা দূর করতে অক্ষম হয়, কিন্তু মনে মনে ঘৃণা করে, আল্লাহ তাকে এর প্রতিদান দিবেন।” (মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ২৩৪২)

উপসংহার

আপনি পর্দা গ্রহণ করে দ্বীনের পথে এসেছেন – এটি আপনার জন্য রহমত। অতীতের ছবি নিয়ে অযথা চিন্তা করবেন না। বর্তমানে আপনার ওপর যা বাধ্যতামূলক তা পালন করুন: নিজের নতুন ছবি পোস্ট না করা, অন্যদের পোস্ট করতে না দেওয়া এবং পুরোনো ছবি অপসারণের যথাসাধ্য চেষ্টা করা। বাকি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করুন। আপনার চাকরি যদি সৎ পন্থায় হয়, আল্লাহ তা রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহু তায়ালা আপনার নিয়ত কবুল করুন এবং আপনার জন্য দ্বীন ও দুনিয়ায় কল্যাণ দান করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.