পূজার সময় দোকান থেকে কেনা হালাল কি হারাম

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 8048
Questioner: Umme Aima0354
Question Asked: 06 Nov 2026, 10:00 AM
Reviewed & Published: 06 Nov 2026, 12:40 PM
Views: 60
Tokens: 3,416
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

পুজোয় যে দোকান গুলো বসে সেই দোকান থেকে জরূরতবসত কিছু জিনিস কিনা যাবে, দোকান বসে গিয়েছে কিন্তু পুজো চালু হয়নি কোনো রকম গান বাজনা চালু হয়নি।

Answer

পূজার দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার হুকুম

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—পূজা উপলক্ষে যে দোকানগুলো বসে, সেখান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা যাবে কি না; বিশেষত যখন দোকান বসে গেছে কিন্তু পূজা শুরু হয়নি, কোনো গান-বাজনা চালু হয়নি।

ফিকহি বিশ্লেষণ

১. মূলনীতি: মুসলিমের সাথে কাফিরের লেনদেন

হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো—কাফির-মুশরিকের সাথে ক্রয়-বিক্রয়, হাদিয়া-উপহার ইত্যাদি লেনদেন মূলত জায়েজ। কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُم مِّن دِيَارِكُمْ أَن تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ (সূরা মুমতাহিনা: ৮)

অর্থ: যারা তোমাদের সাথে দ্বীনের ব্যাপারে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করেনি, তাদের সাথে সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না।

রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে ইহুদি খাইবারবাসীদের সাথে লেনদেন করেছেন, তাদের কাছ থেকে খাদ্য ক্রয় করেছেন (সহিহ বুখারি: ২২৫১, সহিহ মুসলিম: ১৬০৩)। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে কাফিরের কাছ থেকে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ বৈধ; কারণ লেনদেনের বৈধতা পণ্য ও মূল্যের বৈধতার উপর নির্ভর করে, বিক্রেতার ধর্মের উপর নয়।

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ৫, পৃ. ১৬৭—«لَا فَرْقَ بَيْنَ الْمُسْلِمِ وَالْكَافِرِ فِي صِحَّةِ الْبَيْعِ»; আল-হিদায়া (মারগিনানি), কিতাবুল বুয়ু; ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুল বুয়ু।

২. পূজার দোকান থেকে কেনার সূক্ষ্ম দিক

এখানে দুটি দিক আলাদা করতে হবে:

(ক) পণ্যের ধরন: যদি পণ্যটি হালাল ও পবিত্র হয় (যেমন—চাল, ডাল, তেল, কাপড়, প্রয়োজনীয় ঔষধ ইত্যাদি), তবে তা কেনা জায়েজ। আর যদি পণ্যটি হারাম বা শিরক-কুফরের প্রতীক হয় (যেমন—মূর্তি, পূজার সরঞ্জাম, প্রতিমা, শিরকি আচারের সামগ্রী), তবে তা কেনা-বেচা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম। ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন, শিরকের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত বস্তুর বিক্রয় নাজায়েজ।

(খ) ক্রেতার নিয়ত ও সহযোগিতা: আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ (সূরা মায়িদা: ২)

অর্থ: পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।

সুতরাং যদি দোকানদাতা পূজার আয়োজন করে এবং তার আয় দিয়ে পূজার খরচ চালায়, তবে সেখানে কেনাকাটা করলে পরোক্ষভাবে শিরকি আচারে আর্থিক সহযোগিতা হয়—এটি মাকরূহে তাহরিমি বা নাজায়েজের কাছাকাছি। কিন্তু যদি দোকানটি সাধারণ ব্যবসায়িক দোকান হয়, শুধু পূজার মৌসুমে অতিরিক্ত পণ্য বিক্রি করে, এবং পূজার আনুষ্ঠানিকতা এখনো শুরু না হয়, তবে সাধারণ হালাল পণ্য কেনা জায়েজ; বরং প্রয়োজনে অন্য দোকান না থাকলে জায়েজ।

৩. "পূজা চালু হয়নি" — এর প্রভাব

পূজার আনুষ্ঠানিকতা (গান-বাজনা, প্রতিমা পূজা) শুরু না হওয়া পর্যন্ত দোকানটি সাধারণ বাণিজ্যিক দোকান হিসেবে বিবেচিত। তবে দোকানটি যদি পূজার জন্য নির্ধারিত মণ্ডপ-সংলগ্ন অস্থায়ী দোকান হয় এবং সেখানে শিরকি সামগ্রীই প্রধানত বিক্রি হয়, তবে সেখান থেকে কেনা এড়িয়ে চলাই উত্তম ও তাকওয়ার পরিচায়ক। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ (তিরমিজি: ২৫১৮) অর্থ: সন্দেহজনক বস্তু পরিহার করে নিশ্চিত বস্তুর দিকে যাও।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.