নেফাসের জন্য কি সাদা স্রাব দেখা জরুরি? নেফাসের ৩৫তম দিনে হলুদ স্রাব কি নেফাসের অন্তর্ভুক্ত?
Taharah Purity · Hanafi
Question
আমার নেফাসের রক্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে হলুদ রঙের স্রাব দেখতে পাচ্ছি ২ সপ্তাহ এর বেশি দিন ধরে। এখন ৩৫ তম দিনে স্রাবের রঙ সাদার মতো মনে হয় কিন্তু কাপড়ে লাগলে হালকা হলুদ দেখা যায়।এটা কি নেফাসের অন্তর্ভুক্ত ? না পবিত্র হয়ে নামাজ পড়া দরকার?
Answer
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আপনার সন্তান প্রসবোত্তর নেফাসের স্রাব ও পবিত্রতা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসার ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ সুনির্দিষ্ট শরঈ ফয়সালা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. মূল শরঈ সিদ্ধান্ত:
সন্তান প্রসবের পর ৩৫ তম দিনে আপনার দেখা পাওয়া এই হালকা হলুদ বা হলুদ রঙের স্রাব শরীআতের দৃষ্টিতে 'নেফাস'-এর অন্তর্ভুক্ত।
অতএব, এখনও আপনার নেফাসকাল চলমান রয়েছে। সম্পূর্ণ পরিষ্কার সাদা স্রাব নির্গত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা ৪০ দিন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আপনি নেফাসগ্রস্ত হিসেবেই গণ্য হবেন এবং এই মুহূর্তে আপনার ওপর নামাজ পড়া ফরয হয়নি ও নামাজ পড়া নাজায়েয।
২. বিস্তারিত ফিকহী ব্যাখ্যা:
১. নেফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা: ফিকহে হানাফী অনুযায়ী নেফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো ৪০ দিন (৯৬০ ঘণ্টা)। ২. স্রাবের রঙ ও ফিকহী বিধান: নেফাসের নির্ধারিত ৪০ দিনের ভেতরে নির্গত হওয়া লাল, কালো, ঘোলা কিংবা হলুদ রঙের স্রাব—ফিকহের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেফাসেরই রক্ত ও অপবিত্রতা হিসেবে গণ্য হয়। ৩. পবিত্রতা সাব্যস্ত হওয়ার শর্ত: সুতি কাপড় বা প্যাডে শুকানোর পর অথবা বের হওয়ার সময় যদি হালকা হলুদ আভা দেখা যায়, তবে তা অপবিত্রতাই নির্দেশ করে। যতক্ষণ না পর্যন্ত পুরোপুরি শুভ্র/সাদা পানি (ক্বুচ্ছায়ে বায়দ্বা) নির্গত হওয়া শুরু হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মহিলা নেফাসগ্রস্তই থাকবে।
৩. আপনার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ করণীয়:
১. ৪০ দিনের ভেতরে (বর্তমান অবস্থায়): যেহেতু আজ আপনার ৩৫ তম দিন চলছে, তাই আপনি অপেক্ষা করুন। যদি ৪০ দিন পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই (যেমন: ৩৬, ৩৭ বা ৩৮ তম দিনে) স্রাবের হলুদ ভাব সম্পূর্ণ দূর হয়ে একদম খাঁটি সাদা পানি/স্রাব দেখা যায়, তবে তৎক্ষণাৎ গোসল ফরয হবে এবং গোসল করে নামাজ আদায় শুরু করবেন । ২. যদি ৪০ দিন অতিবাহিত হয়ে যায়: যদি ৪০ দিন পার হওয়ার পরও হলুদ বা ঘোলা স্রাব আসতে থাকে, তবে ৪০তম দিন পূর্ণ হওয়া মাত্রই গোসল করে নামাজ পড়া শুরু করে দেবেন। কারণ প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে ৪০ দিনের অতিরিক্ত দিনের স্রাব নেফাস গণ্য হবে না; বরং তা 'ইস্তিহাযা' (অসুস্থতাজনিত রক্তপাত) গণ্য হবে এবং তখন সাধারণ অজু করে প্রতি ওয়াক্তের নামাজ আদায় করতে হবে।
সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
-
নূরুল ঈযাহ (বাংলা সংস্করণ):
- পৃষ্ঠা: ৪৭, ৪৮ (নূরুল ঈযাহ পৃষ্ঠা ৪৭, ৪৮) (পরিচ্ছেদ: নেফাসের বিবরণ — 'নেফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪০ দিন হওয়া, হলুদ ও ঘোলা স্রাব নেফাস গণ্য হওয়া এবং নেফাস অবস্থায় নামাজ পড়ার নিষেধাজ্ঞা')।
-
ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড - বাংলা সংস্করণ):
- পৃষ্ঠা: ১১৪, ১১৫ (হিন্দিয়াহ ১/৩৭, ৩৮) (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ২য় পরিচ্ছেদ: নেফাসের বিবরণ — 'নেফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪০ দিন হওয়া এবং ৪০ দিনের ভেতরের হলুদ/ঘোলা স্রাব নেফাসের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সংক্রান্ত ফিকহী বিবরণ')।
- পৃষ্ঠা: ১১৭, ১১৮ (হিন্দিয়াহ ১/৩৮, ৩৯) (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, নেফাসের আহকাম — 'নেফাস অবস্থায় নামাজ না পড়া এবং সাদা পানি আসলে বা ৪০ দিন পূর্ণ হলে গোসল ফরয হওয়া')।
- পৃষ্ঠা: ১২০, ১২১ (হিন্দিয়াহ ১/৪০, ৪১) (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত — '৪০ দিনের অতিরিক্ত দিনের রক্ত ইস্তিহাযা গণ্য হওয়া সংক্রান্ত ফতোয়া')।
-
ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১৯৯, ২০০ (মাহমুদিয়া ৫/১৯৯, ২০০) (অধ্যায়: বাবুল হায়েয ওয়ানিফাস — 'নেফাসের মেয়াদ ও হলুদ স্রাব সংক্রান্ত শরঈ মাসআলা')।
وَاللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ