মেয়েদের রাতে বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে খেতে যাওয়া ইসলামে জায়েয কি?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
অনেকজন মেয়ে ফ্রেন্ড যদি রাতে একসাথে বাইরে কিছু কেতে যায় ও এতে নিরাপত্তাজনীত সমস্যা হওয়ার আশঙ্খা না থাকে তাহলে কি যেতে পারবে? কিছু প্রয়োজনীয় খরচ +একটানা হলের রুমে থেকে ক্লান্ত আর অনেক বোরিং লাগে তাই যেতে চায়, এতটুকু ছাড় কি ইসলামে আছে? এতে কি গুনাহ হবে?
জানি উত্তমের বিষয়টা আলাদা কিন্তু ফ্রেন্ডরা কেউ ছেড়ে যেতে চাইছে না, এখন কি করবো, আবার অনেক একঘেমিও লাগছে,
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাব
১. মূল শরঈ সিদ্ধান্ত:
আপাতদৃষ্টিতে নিরাপত্তার ঝুঁকি মনে না হলেও, রাতের বেলা কোনো শরঈ প্রয়োজন (যেমন: চিকিৎসা, জরুরি শিক্ষা বা কেনাকাটা) ছাড়া কেবল রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া, ঘোরাঘুরি করা বা একঘেয়েমি কাটানোর উদ্দেশ্যে বান্ধবীদের সাথে বের হওয়া ইসলামী শরীআতের দৃষ্টিতে অনুচিত, মাকরূহে তাহরীমী ও গোনাহের কারণ।
২. বিস্তারিত ফিকহী ব্যাখ্যা ও মূলনীতি:
১. নারীদের মূল ভিত্তি হলো 'হিজাব ও আবরণে থাকা': ইসলামী শরীআতে নারীদের অবস্থানকে গৃহকেন্দ্রিক ও পর্দাবৃত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
﴿وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ﴾ (অর্থ: "তোমরা তোমাদের গৃহেই অবস্থান করো")। হাদিস শরীফে রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: «الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ، فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ» (“নারীজাতি গোপনীয় ও আবৃত রাখার বিষয়; তারা যখন ঘর থেকে বের হয়, শয়তান তাদের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে ও প্ররোচিত করে”)।
২. শরঈ প্রয়োজন (জরুরত) বনাম নিছক বিনোদন:
- শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় বা জীবনধারণের বাস্তব তাগিদে পূর্ণাঙ্গ শরঈ পর্দা বজায় রেখে নারীদের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি রয়েছে।
- কিন্তু হলের রুমে বোরিং লাগা, বন্ধুদের সাথে রাতে রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া বা আনন্দ-বিনোদনের উদ্দেশ্যে বের হওয়া শরীআতের দৃষ্টিতে কোনো 'জরুরত' বা বাধ্যবাধকতার অন্তর্ভুক্ত নয়।
৩. রাতের বেলা অহেতুক বের হওয়া ও ফাসাদে যামানা: বর্তমান যামানায় অনিষ্টতা ও ফিটনা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ফুকাহায়ে কেরাম এবং সালাফে সালেহীন রাতে বা দিনে অহেতুক ঘুরাঘুরির উদ্দেশ্যে নারীদের বাইরে বের হওয়াকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। বাহ্যিকভাবে নিরাপদ মনে হলেও রাতের বেলা এই ধরণের যাতায়াত শরঈ পর্দার মূল চেতনার পরিপন্থী।
৪. বান্ধবীদের জোড়াজোড়ি ও দ্বীনী দায়িত্ব: শরীয়তের কোনো বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বন্ধুদের অনুকরণ বা তাদের কথায় সাড়া দেওয়া যাবে না। আল্লাহর অসন্তুষ্টির কোনো কাজে মাখলুকের আনুগত্য করা জায়েয নয়।
৩. একঘেয়েমি কাটাতে শরীআতসম্মত বিকল্প পরামর্শ:
- রুমে বা হলে খাবার আনা: রাতে বাইরে না গিয়ে খাবার হোম ডেলিভারি বানিয়ে বা পার্সেলে আনিয়ে হলের রুমে বা কমনরুমে বান্ধবীরা মিলে একসাথে খেতে পারেন। এতে আড্ডাও হবে এবং বাহিরের ফিটনা থেকেও বেঁচে থাকা যাবে।
- দিনের বেলা প্রয়োজনীয় কাজে রিফ্রেশমেন্ট: দিনের বেলা কোনো জরুরি প্রয়োজনে (যেমন: কেনাকাটা বা পড়ার প্রয়োজনে) বের হলে শরঈ পর্দা রক্ষা করে দিনের আলোতেই নিজের কাজ সেরে নেওয়া যায়।
- ইনডোর আনন্দের পরিবেশ তৈরি: হলের ভেতরেই বিভিন্ন হালাল বিনোদন, দ্বীনী আলোচনা বা পড়াশোনার পাশাপাশি আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরি করে একঘেয়েমি দূর করতে পারেন।
সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
-
ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১৭৬, ১৭৭ (অধ্যায়: বাবুল হিজাব — 'মহিলাদের ঘরে অবস্থান করা এবং অহেতুক বাইরে বের হওয়ার ফিকহী নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ফতোয়া')।
- পৃষ্ঠা: ১৭৩, ১৮৩ (অধ্যায়: বাবুল হিজাব — 'প্রয়োজন ব্যতীত নারীদের ঘরের বাইরে বের না হওয়া এবং কেবল দৈনন্দিন শরঈ প্রয়োজনে বের হওয়ার অনুমতি')।
- পৃষ্ঠা: ১৮৮, ১৯১ (অধ্যায়: বাবুল হিজাব — 'ফিটনা ও অসদাচরণের কারণে মহিলাদের অহেতুক চলাফেরায় ফুকাহায়ে কেরামের নিষেধাজ্ঞা')।
-
দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৫১, ৫২ (অধ্যায়: 'মহিলাদের যাতায়াত ও শয়তানের প্ররোচনা সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যা')।
- পৃষ্ঠা: ১৪৯, ১৫০ (অধ্যায়: 'মহিলাদের সফর ও যামানার ফাসাদের কারণে অহেতুক চলাফেরায় ফুকাহায়ে কেরামের কড়াকড়ি ও ফতোয়া')।
আল্লাহ ভালো জানেন।