শশুর শাশুড়িকে নিজের দিকে ভালো কিছুর জন্য বাধ্য করলে কি গুণাহ হবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 7928
Questioner: Adiba Binte Azad
Question Asked: 04 Nov 2026, 02:24 PM
Reviewed & Published: 04 Nov 2026, 06:45 PM
Views: 13
Tokens: 2,832
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

শশুর শাশুড়িকে নিজের দিকে ভালো কিছুর জন্য বাধ্য করলে কি গুণাহ হবে?

Answer

শশুর-শাশুড়িকে নিজের দিকে ভালো কিছুর জন্য বাধ্য করা কি গুনাহ?

প্রশ্ন: শশুর-শাশুড়িকে নিজের দিকে ভালো কিছুর জন্য বাধ্য করলে কি গুনাহ হবে?

উত্তর:

বিষয়টি নির্ভর করে "বাধ্য করা" বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং কোন ধরনের "ভালো কিছু" এর প্রতি বাধ্য করা হচ্ছে তার উপর। ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে কয়েকটি দিক বিবেচনা করতে হবে:

১. শরীয়তসম্মত ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করা — জায়েয

শশুর-শাশুড়িকে নামাজ, রোজা, দান-সদকা, সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ইত্যাদি দ্বীনি ও নৈতিক ভালো কাজের প্রতি নরমভাবে উৎসাহিত করা, উপদেশ দেওয়া, অনুরোধ করা — এতে কোনো গুনাহ নেই; বরং এটি সদাচরণ ও কল্যাণের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"তোমরা সৎকাজ ও তাকওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা করো।" (সূরা মায়িদা: ২)

তবে উপদেশ ও উৎসাহের সীমা হবে ভদ্রতা ও সম্মানের সাথে — কঠোরতা বা জবরদস্তি নয়।

২. জবরদস্তি বা চাপ প্রয়োগ করা — নাজায়েয

কোনো বৈধ কাজের জন্যও যদি জোর-জবরদস্তি, ভয়ভীতি, অপমান, শারীরিক বা মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়, তবে তা নাজায়েয। বিশেষত শশুর-শাশুড়ি সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী; তাঁদের সাথে কঠোর আচরণ ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে বড়দের সম্মান করে না এবং ছোটদের স্নেহ করে না।" (তিরমিজি: ১৯১৯)

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেছেন যে, আত্মীয় ও পরিবারের সাথে সদাচরণ ও নরম ব্যবহার ওয়াজিব; কঠোরতা ও জবরদস্তি সম্পর্ক নষ্ট করে এবং গুনাহের কারণ হয়।

৩. নাজায়েয বা শরীয়তবিরোধী কাজে বাধ্য করা — সম্পূর্ণ হারাম

যদি "ভালো কিছু" বলে প্রকৃতপক্ষে শরীয়তবিরোধী, হারাম বা অন্যায় কাজ বোঝানো হয় (যেমন: সম্পদ আত্মসাৎ, কারও হক আদায় না করা, গীবত, অন্যায় সাক্ষ্য ইত্যাদি), তবে তাতে বাধ্য করা সম্পূর্ণ হারাম এবং তা কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না।" (সূরা মায়িদা: ২)

৪. নিজের স্বার্থে বাধ্য করা — ন্যায়বিচারের সাথে বিবেচনা

যদি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ বা সুবিধার জন্য (যেমন: নিজের জন্য সম্পদ, সেবা বা সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে) শশুর-শাশুড়িকে চাপ দেওয়া হয়, তবে তা ন্যায়বিচার ও সদাচরণের পরিপন্থী। কুরআনে বলা হয়েছে:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়কে দান করার আদেশ দেন।" (সূরা নাহল: ৯০)

মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) «মাআরিফুল কুরআন»-এ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, আত্মীয়-স্বজনের প্রতি সদাচরণ ও তাদের অধিকার আদায় করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা।

সারসংক্ষেপ

  • শরীয়তসম্মত ভালো কাজের প্রতি ভদ্রভাবে উৎসাহিত করা: জায়েয, বরং সওয়াবের কাজ।
  • জোর-জবরদস্তি, অপমান বা চাপ প্রয়োগ: নাজায়েয ও গুনাহ।
  • হারাম বা অন্যায় কাজে বাধ্য করা: সম্পূর্ণ হারাম, কবিরা গুনাহ।
  • নিজের স্বার্থে অন্যায়ভাবে চাপ দেওয়া: ন্যায়বিচারের পরিপন্থী ও গুনাহের কারণ।

সর্বোত্তম পথ হলো — সম্মান, স্নেহ ও নরম ভাষায় উপদেশ দেওয়া এবং কখনো জবরদস্তি না করা। শশুর-শাশুড়ির প্রতি সদাচরণ ও তাঁদের সম্মান রক্ষা করা ইসলামের নির্দেশ।

তথ্যসূত্র:

  • সূরা মায়িদা: ২; সূরা নাহল: ৯০
  • তিরমিজি: ১৯১৯
  • ইবনে আবিদিন, রাদ্দুল মুহতার
  • মুফতি মুহাম্মদ শফী, মাআরিফুল কুরআন
  • মুফতি তাকি উসমানি, ফাতাওয়া উসমানি

আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.