একই ঘরে বাথরুম ও কমোড থাকলে পানির ছিটা লাগলে নামাজ-গোসলের হুকুম কী?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 7889
Questioner: rida
Question Asked: 03 Nov 2026, 07:41 PM
Reviewed & Published: 04 Nov 2026, 02:56 AM
Views: 16
Tokens: 4,667
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু মানুষ এর একই সাথে গোসলখানা আর লো কমড থাকলে। মানে একটু উচা তে থাকলে লো কমড। গোসল করার সময় যদি লো কমডে পানি যায়, আর সেখান থেকে ছিটে আসে কিছু পানি। তাহলে তো নাপাক হলো।
১) এখন গোসল এর আগে টয়লেট এর উপরে ভালো করে একবার পানি ঢেলে নিলেই কি পরিষ্কার হবে?
২) একবার পানি ঢেলে পরিষ্কার করার পরে গোসল করার সময় টয়লেটের উপরে যেখানে পা রাখি সেখান থেকে পানির ছিটা আসলে কি তা পাক হবে? গোসল করলে কি পাক হবে?
৩) মানে আমি গোসলের সময় শরীরে পানি ঢালার সময় খেয়াল করেছি যেখানে কমোড এর পা রাখি সেখান থেকে পানির ছিটা আসতেছে। ছিটা এসে হয়তো আমার পায়ের দিকেই লাগতেছে। এখন টয়লেটের পা রাখার জায়গা থেকে পানির ছিটা আসা এটা কি পাক পানি?
৪) যদি প্রস্রাব বা টয়লেট করার পরে কোনো কিছু দেখা না যায় টয়লেটে, তাহলে সেই টয়লেট কি একবার পানি দিয়ে ধুইলেই পাক হবে?

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ: একই ঘরে বাথরুম ও কমোড থাকলে, কমোডে পানি পড়ে ছিটে এসে শরীরে লাগলে কী হুকুম, টয়লেট পরিষ্কারের সঠিক পদ্ধতি কী, এবং সন্দেহজনক ছিটা সম্পর্কে কী করণীয়—এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে।

মূল নীতি (হানাফি ফিকহ): ইসলামি শরিয়তে নাপাকি দুই প্রকার— ১. নাজাসাতে গালিজা (ভারী নাপাকি): যেমন প্রস্রাব, পায়খানা, রক্ত, মদ ইত্যাদি। ২. নাজাসাতে খাফিফা (হালকা নাপাকি): যেমন নাপাক পশুর প্রস্রাব ইত্যাদি।

নাপাক জিনিস যদি দৃশ্যমান হয় এবং তার বর্ণ/গন্ধ/স্বাদ বিদ্যমান থাকে, তবে পানি দিয়ে ধুয়ে সেই বর্ণ/গন্ধ/স্বাদ দূর করা পর্যন্ত পাক হবে না। আর যদি নাপাকি এত কম হয় যে তা চোখে দেখা যায় না, শুধু সন্দেহ হয়, তবে শরিয়তের নিয়ম হলো—সন্দেহের কারণে পাক জিনিসকে নাপাক বলা যাবে না; বরং মূল জিনিসকে পাক ধরা হবে যতক্ষণ না নাপাকির সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। (রাদ্দুল মুহতার, ১/৩১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪২)

এখন আপনার প্রশ্নগুলোর ধারাবাহিক উত্তর:

১) গোসলের আগে টয়লেটের উপরে একবার পানি ঢেলে দিলেই কি পরিষ্কার হবে? যদি টয়লেটের উপরিভাগে দৃশ্যমান কোনো নাপাকি (প্রস্রাব/পায়খানার চিহ্ন) না থাকে, শুধু সন্দেহ থাকে, তবে একবার পানি ঢেলে দেওয়াই যথেষ্ট; বরং সন্দেহের কারণে বারবার ধোয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি দৃশ্যমান নাপাকি লেগে থাকে, তবে তা দূর না হওয়া পর্যন্ত পানি ঢালতে হবে। (রাদ্দুল মুহতার, ১/৩১৫)

২) একবার পানি ঢেলে পরিষ্কার করার পর গোসলের সময় টয়লেটের যে অংশে পা রাখি সেখান থেকে পানির ছিটা এলে তা পাক হবে? গোসল করলে পাক হবে? যদি আপনি টয়লেটের উপরিভাগ একবার পানি দিয়ে ধুয়ে নেন এবং এরপর সেখানে দৃশ্যমান নাপাকির কোনো চিহ্ন না থাকে, তবে সেখান থেকে আসা পানির ছিটা পাক ধরা হবে। কারণ সন্দেহের কারণে পাক জিনিস নাপাক হয় না। আর গোসলের পানি তো মূলত পাকই থাকে; ছিটা লাগলে গোসল ভঙ্গ হয় না, শরীরও নাপাক হয় না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪২; রাদ্দুল মুহতার, ১/৩১৫)

৩) টয়লেটের পা রাখার জায়গা থেকে পানির ছিটা আসা কি পাক পানি? হ্যাঁ, উপরের শর্ত অনুযায়ী—যদি সেখানে দৃশ্যমান নাপাকি না থাকে, তবে সেই ছিটা পাক। সন্দেহের বশে নিজেকে নাপাক ভাবা ঠিক নয়। তবে সতর্কতার জন্য গোসলের আগে টয়লেটের সেই অংশে একবার পানি ঢেলে নেওয়া ভালো। (রাদ্দুল মুহতার, ১/৩১৫)

৪) প্রস্রাব বা টয়লেট করার পর টয়লেটে কিছু দেখা না গেলে একবার পানি দিয়ে ধুইলেই কি পাক হবে? যদি টয়লেটে দৃশ্যমান নাপাকির কোনো চিহ্ন (বর্ণ/গন্ধ) না থাকে, তবে একবার পানি ঢেলে ধুয়ে নিলেই পাক হবে; বরং সন্দেহের কারণে বারবার ধোয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি দৃশ্যমান নাপাকি লেগে থাকে, তবে তা দূর হওয়া পর্যন্ত ধুতে হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪২; রাদ্দুল মুহতার, ১/৩১৫)

সতর্কতা: ওয়াসওয়াসা (সন্দেহের রোগ) থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। শরিয়তের নিয়ম হলো—যতক্ষণ নাপাকির সুস্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া যায়, ততক্ষণ পাক ধরা হবে। বারবার সন্দেহ করে ধোয়া-মোছা করা কষ্টদায়ক ও অপ্রয়োজনীয়।

উপসংহার: আপনার বর্ণিত অবস্থায়, টয়লেটের উপরিভাগে দৃশ্যমান নাপাকি না থাকলে একবার পানি ঢেলে ধুয়ে নিলেই যথেষ্ট; এরপর আসা পানির ছিটা পাক। গোসল ভঙ্গ হবে না। সন্দেহের কারণে নিজেকে নাপাক ভাববেন না।


واللہ أعلم بالصواب (আল্লাহই সর্বজ্ঞ)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.