একইসাথে গোসলখানা আর টয়লেট থাকলে পাক কিভাবে হবো?
Taharah Purity · Hanafi
Question
১) এখন গোসল এর আগে টয়লেট এর উপরে ভালো করে একবার পানি ঢেলে নিলেই কি পরিষ্কার হবে?
২) একবার পানি ঢেলে পরিষ্কার করার পরে গোসল করার সময় টয়লেটের উপরে যেখানে পা রাখি সেখান থেকে পানির ছিটা আসলে কি তা পাক হবে? গোসল করলে কি পাক হবে?
Answer
একই সাথে গোসলখানা ও টয়লেট থাকলে পাক-নাপাকের বিধান
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
উত্তর (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী):
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
গোসলখানা ও লো-কমোড একই স্থানে থাকলে এবং গোসলের পূর্বে টয়লেট ধৌত করার পর সেখান থেকে পানির ছিটা আসা সংক্রান্ত ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য কিতাবসমূহের সুনির্দিষ্ট শরঈ ফয়সালা নিচে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. ১ম প্রশ্নের উত্তর: গোসলের আগে টয়লেটের ওপর ভালো করে একবার পানি ঢেলে নিলেই কি পরিষ্কার হবে?
হ্যাঁ, গোসল করার পূর্বে লো-কমোড ও টয়লেটের মেঝের ওপর পানি ঢেলে দৃশ্যমান ময়লা ও নাপাকী ধুয়ে গড়িয়ে দিলে স্থানটি শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ পাক বা পবিত্র হয়ে যায়।
- ফিকহী ব্যাখ্যা: ফিকহে হানাফী অনুযায়ী, কোনো নাপাক শক্ত বা মসৃণ স্থানে (যেমন কমোড, সিরামিক বা মেঝের টাইলস) পানি ঢেলে যদি নাপাকীর আসল অস্তিত্ব বা গন্ধ-রং ধুয়ে গড়িয়ে দেওয়া হয়, তবে অতিরিক্ত জটিলতা ছাড়াই স্থানটি পবিত্র হয়ে যায়। তাই গোসলের আগে কমোড ও তার আশেপাশের জায়গায় ভালোভাবে পানি ঢেলে ধুয়ে নেওয়া একটি সম্পূর্ণ সঠিক ও শরীআতসম্মত পদ্ধতি।
২. ২য় প্রশ্নের উত্তর: একবার পানি ঢেলে পরিষ্কার করার পরে গোসল করার সময় টয়লেটের ওপর থেকে পানির ছিটা আসলে তা কি পাক? গোসল করলে কি পাক হবে?
হ্যাঁ, একবার পানি ঢেলে কমোড ও পা রাখার জায়গা ধুয়ে পরিষ্কার করার পর গোসল করার সময় সেখান থেকে যে পানির ছিটা আসে, তা সম্পূর্ণ 'পাক' বা পবিত্র। এবং এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে গোসল করলে গোসল শতভাগ সহীহ ও পবিত্র হবে ।
- ফিকহী ব্যাখ্যা: ১. স্থানটি ইতোমধ্যেই পবিত্র হওয়া: গোসলের পূর্বেই কমোডের ওপর পানি ঢেলে নাপাকী ধুয়ে ফেলা নির্দেশ করায় স্থানটি ইতোমধ্যেই পবিত্র হয়ে গেছে । ২. ব্যবহৃত পানির (মা-এ মুস্তামাল) ফিকহী হুকুম: পবিত্র স্থানে পা রেখে গোসল করার সময় আপনার ধোয়া শরীর থেকে যে পানি গড়িয়ে কমোডে বা মেঝেতে পড়ে ছিটে আসে, ফিকহের পরিভাষায় তাকে 'মা-এ মুস্তামাল' (ব্যবহৃত পানি) বলা হয় । ফিকহে হানাফীতে রাজেহ ও মুফতী-বিহি (গ্রহণযোগ্য) ফতোয়া অনুযায়ী, 'মা-এ মুস্তামাল' বা ব্যবহৃত পানি নিজে পাক বা পবিত্র । সুতরাং শরীর ধোয়া পানির ছিটা আপনার পায়ে বা কাপড়ে লাগলেও তা আপনার শরীর বা কাপড়কে মোটেই নাপাক করবে না । ৩. প্রাত্যহিক ছাড়ে 'উমূমে বালওয়া': গোসলখানায় গোসল করার সময় সামান্য পানির ছিটা আসা স্বাভাবিক বিষয়, যা থেকে বেঁচে থাকা কঠিন । ইসলামী শরীআতে এটিকে 'উমূমে বালওয়া' (ব্যাপক সাধারণ সমস্যা) হিসেবে ক্ষমাযোগ্য ও মাফ গণ্য করা হয়েছে । ৪. গোসল আদায় হওয়া: মুখস্থ কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছিয়ে ধুয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই আপনার ফরয ও সাধারণ গোসল সম্পূর্ণ পাক ও শুদ্ধ হয়ে যাবে।
সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১২৫, ১২৬ (অধ্যায়: বাবুল মিয়াহ — 'মা-এ মুস্তামাল বা ব্যবহৃত পানির ছিটা কাপড় বা শরীরে পড়লে তা নাপাক না হওয়া এবং ব্যবহৃত পানি পাক হওয়ার ফতোয়া')।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৮৩ (অধ্যায়: তাহারাত, ২য় অনুচ্ছেদ: আল-মিয়াহ — 'ব্যবহৃত পানি (মা-এ মুস্তামাল) নিজে পাক হওয়া সংক্রান্ত ফিকহী বিধান')।
- পৃষ্ঠা: ১২২, ১২৩ (অধ্যায়: তাহারাত, ৭ম পরিচ্ছেদ: নাপাকী হতে পবিত্রীকরণ — 'পানি ঢেলে নাপাক স্থান ও মেঝে ধৌত করে পবিত্র করার নিয়ম')।
- দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৭৬, ৮৩ (অধ্যায়: 'তহারত ও পানি সংক্রান্ত কিছু জরুরি মূলনীতি — পানি প্রবাহিত করে নাপাকী দূর করা এবং গোসলের সময় পানির ছিটার ক্ষেত্রে উমূমে বালওয়ার ফিকহী ছাড়')।
- নূরুল ঈযাহ (বাংলা সংস্করণ):
- পৃষ্ঠা: ৫১ (পরিচ্ছেদ: 'নাজাসাত ও নাপাক স্থান ধৌত করে পবিত্র করার ফিকহী পদ্ধতি')।
- পৃষ্ঠা: ৩৫, ৩৬ (পরিচ্ছেদ: 'গোসলের ফরয ও সুন্নাতসমূহের বর্ণনা') ।
আল্লাহ ভালো জানেন।