হায়েজ ৭ দিন হলে ৮ম দিনে গোসল করা কি ঠিক? শুকনো অবস্থায় প্রত্যেক ওয়াক্তে চেক করা লাগবে কি? ১০ দিনের বেশি রক্ত গেলে করণীয় কী?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 7874
Questioner: Sumiya Rahman
Question Asked: 03 Nov 2026, 05:54 PM
Reviewed & Published: 03 Nov 2026, 06:54 PM
Views: 14
Tokens: 3,438
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Assalamu alaikum, amar hayez ekdon 7 diner moto Hoy ami 8 diner din gusul kori ami 7 number din ta dekhi karon onek kokhon rokto bondho thakar por lal srab dekhte pai eijonno ei bhoy sunka thakar poreo gusul korina 7 diner din, karon ei somossa hoy amar! Ekhon amar kokhon foroz gusul kora uchit? Sukna thakle ki প্রত্যেক ওয়াক্তে আমার চেক করা লাগবে? আর যদি ৭ দিনে আমি যদি লাল স্রাব না দেখতে পাই অনেকক্ষণ পর তাহলে কি করবো আমি?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং হায়েজ (মাসিক) সংক্রান্ত সূক্ষ্ম মাসআলা। নিচে কুরআন, হাদিস ও হানাফি ফিকহের প্রামাণ্য কিতাবের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।


আপনার হায়েয (মাসিক) ও ফরয গোসল সংক্রান্ত সংশয় ও প্রশ্নগুলোর হানাফী ফিকহ ও প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ সুনির্দিষ্ট শরঈ ফয়সালা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


১. আপনার কখন ফরয গোসল করা উচিত?

  • হায়েজের মেয়াদের ফিকহী বিধান: ইসলামী শরীআতে হায়েজের সর্বনিম্ন মেয়াদ ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) এবং সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ দিন (২৪০ ঘণ্টা)। আপনার সাধারণ অভ্যাস বা আদত যেহেতু ৭ দিনের মতো, তাই ৭ম দিনে রক্ত বন্ধ হওয়া মাত্রই আপনার ওপর ফরয গোসল আদায় করা আবশ্যক।
  • আশঙ্কায় গোসল বিলম্ব না করা: রক্ত আবার আসতে পারে—এই ভয় বা সন্দেহের কারণে ৭ম দিনে রক্ত বন্ধ হওয়া সত্ত্বেও গোসল না করে ৮ম দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা এবং নামাজ কাজা করা শরীআতের দৃষ্টিতে জায়েয নয়। রক্ত বন্ধের আলামত দেখলেই গোসল করে নামাজ পড়া শুরু করতে হবে।

২. প্রতিটি ওয়াক্তে কি চেক (পবিত্রতা যাচাই) করা লাগবে?

  • ওয়াক্তের শেষে চেক করা বাঞ্ছনীয়: হায়েজ শেষ হওয়ার দিনগুলোতে (বিশেষ করে আপনার অভ্যাসের ৭ম দিনে) প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্ত পার হওয়ার পূর্বে টিস্যু বা সুতি তুলা দিয়ে পবিত্রতা যাচাই করা অত্যন্ত দায়িত্বশীল কাজ।
  • উদ্দেশ্য: যাতে রক্ত বন্ধ হয়ে থাকলে ওয়াক্তের শেষভাগে ফরয গোসল সম্পন্ন করে ওই ওয়াক্তের নামাজ আদায় করে নেওয়া যায় এবং নামাজ কাজা না হয় ।

৩. ৭ম দিনে দীর্ঘক্ষণ লাল স্রাব না দেখলে আপনার করণীয়:

  • গোসল করে নামাজ শুরু করা: ৭ম দিনে যদি দীর্ঘক্ষণ রক্ত, লাল, বাদামী বা ঘোলা স্রাব না দেখা যায় এবং স্থানটি পুরোপুরি শুষ্ক থাকে বা সাদা পরিষ্কার স্রাব দেখা যায়, তবে রক্ত বন্ধ হয়ে গেছে ধরে নিয়ে আপনাকে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগেই ফরয গোসল করে নামাজ আদায় করতে হবে।
  • পরবর্তীতে রক্ত পুনরায় আসলে হুকুম:
    • যদি গোসল করার পর ১০ দিনের সীমানার ভেতরে (যেমন: ৮ম বা ৯োম দিনে) পুনরায় লাল/বাদামী স্রাব বা রক্ত দেখা দেয়, তবে ফিকহে হানাফীর নিয়মানুযায়ী ১০ দিনের ভেতরের এই বিরতিকে 'তুহরে মুতাখাল্লিল' (হায়েজের মধ্যবর্তী বিরতি) বলা হয় এবং সম্পূর্ণ সময়টি হায়েযের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হয়।
    • সেক্ষেত্রে রক্ত দেখা মাত্রই নামাজ বন্ধ রাখবেন। পরবর্তীতে রক্ত পুরোপুরি বন্ধ হলে আবার গোসল করবেন। আর রক্ত বন্ধ থাকাকালে যে নামাজগুলো পড়েছেন, সেগুলোর জন্য কোনো গোনাহ হবে না।
  • রক্ত আর না আসলে: আর যদি ১০ দিন পার হওয়ার মধ্যে আর কোনো রক্ত না আসে, তবে আপনার ৭ম দিনের গোসল ও নামাজ পুরোপুরি সহীহ ও আদায় হয়ে গেছে।

সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ১১৪ (অধ্যায়: তাহারাত, ২য় অনুচ্ছেদ: হায়েয ও নিফাস — 'হায়েজের সর্বনিম্ন মেয়াদ ৩ দিন ও সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ দিন হওয়া')।
  • নূরুল ঈযাহ (বাংলা সংস্করণ):

    • পৃষ্ঠা: ৪৭, ৪৮ (অধ্যায়: তাহারাত, 'হায়েজের মেয়াদ এবং রক্ত বন্ধ হওয়া মাত্রই গোসল করে নামাজ কাজা হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার বাধ্যবাধকতা')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ১৯৯ (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, বাবুল হায়েয ওয়ান নিফাস — 'তুহরে মুতাখাল্লিল ও ১০ দিনের অভ্যন্তরে রক্ত পুনরায় দেখা দেওয়ার ফতোয়া')।

দোয়া: আল্লাহ তাআলা আপনার ইবাদত কবুল করুন এবং এই মাসআলায় সঠিক আমল করার তাওফিক দিন। আমিন।


আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.